
১। আনিসুজ্জামান স্যার,
আমি রা,বি, ছাত্র। তখন আপনি জাবির তরুন লেকচারার। রাবির সমাজ কর্ম বিভাগে একটা সেমিনারে এসেছিলেন। আপনাকে সেই প্রথম ও শেষ কাছ থেকে দেখা। ১৯৬৪ সালের সেই সেমিনারে আপনার পঠিত পেপারের শিরোনাম এখনো আমার মনে আছে--"মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে সমাজ চিত্র" সেই সাথে মনে আছে আপনার পরণে খদ্দরের সাদা লম্বা পান্জাবী ও পাজামা। সেদিন থেকে আপনি আমার পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক। স্যার, যেখানে থাকেন ভালো থাকবেন।
২। বাংলাদেশের প্রবন্ধ সাহিত্যে যে কয়জন লিডিংয়ে আছেন তাঁদের ভেতর আনিসুজ্জামান স্যার একজন। অল্প কথায় বেশি অর্থ বোঝানোর সামর্থ আছে তাঁর গদ্যের। তিনি বেশি বড়ো লেখেন না, কিন্তু যতটুকু লেখেন তা কংক্রিট। চমকপ্রদ। সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা মানুষ তাঁর লেখায় বিবেচ্য।
৩। ড.আনিসুজ্জামান শিক্ষাবিদ, লেখক ও জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ভাষা আন্দোলন (১৯৫২), ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান (১৯৬৯) ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
৪। আনিসুজ্জামান স্যার প্রয়াত হলেন। পূর্ণ বয়সই তিনি পেয়েছিলেন; প্রজ্ঞায় তাঁর মতো মানুষ বিরল। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।
৫। জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্যার ছিলেন এবং থাকবেন আমাদের সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্যে সর্বপরি আমাদের প্রাণের সঙ্গে মিশে, আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।
৬। জাতি একজন অভিভাবক হারালো।
৭। গত বছরটাও আমরা একটা জেনারেশনের অনেককেই হারিয়েছি। এবছরও হারাচ্ছি। আরও কয়েকজন আছেন পাইপলাইনে। একে একে সবাই চলে যাবেন, আমরা ছায়াহীন হবো।
৮। আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির উর্বরতায় তার অবদানের কথা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বাংলা ও বাঙালি তার বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটিকে হারালো। বিনম্র শ্রদ্ধা এবং শোক।
৯। হে মহান হে শান্ত সৌম্য মহাবীর
আপনার শেখানো---দেখানো পথের ওপর বার বার খুজে পাবো আপনাকে । আল্লাহ্ পাক আপনাকে বেহেস্ত নসিব করুন।
১০। দেশের সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকে ভূষিত জাতীয় অধ্যাপক, গবেষক, লেখক, সমালোচক আনিসুজ্জামান স্যারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি। যত দ্রুত সম্ভব স্যারের বইগুলো পড়ে তাঁর সাথে একটা যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করবো।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০২০ রাত ৯:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


