
সুরভিকে রাগানোর জন্য বেশি কিছু করতে হয় না।
ইউটিউবে খুব জোরে তালা খুইলা দে সুলেমান, তালা খুইলা দে এই গানটা ছেড়ে দিলেই হলো। প্রচন্ড রেগে যায়। রেগে গিয়ে পাশের ঘরে চলে যায়। আমি সাউন্ড বাড়িয়ে দেই। সুরভি রেগেমেগে আসে। বলে, তুমি কি চাও? আমি বাসা থেকে বের হয়ে যাই? একটা রুচিশীল মানুষ এই গান শুনতে পারে? ছিঃ আমি বলি- এটা তো ভালো গান। ধর্মীয় গান। গানের কথা গুলোও কত সুন্দর। সুরটাও সুন্দর। সুরভি রাগে চোখ মুখ লাল হয়ে যায়। আমি গান বন্ধ করে দেই। স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে নিজের আনন্দ মাটি চাপা দেই। আমি বাসায় ওয়াজও শুনতে পারি না। ওয়াজ শুনলেও বলবে তোমার রুচি ভালো না।
সংসার করাটা বিরাট দিকদারি।
এই জন্যই বোধহয় গৌতম বুদ্ধ একদিন রাতের অন্ধকারে ঘর থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। আমিও একদিন যাবো। যাই হোক, সকালে বাজারে গিয়েছিলাম। জিনিস পত্রের দাম সব সময় বাড়ার দিকেই থাকে। বিশেষ করে ফলের দাম অনেক বেড়েছে। সামান্য একটা ছোট তঁরমুজ তিন শ' টাকা। অন্য সময় এই তরমুজ এক শ' টাকা দিয়ে কিনেছি। আপেল ছিলো ১২০ টাকা করে। এখন ১৮০ টাকা। মালটা কিনতাম ১০০ টাকা করে। এখন ১৭০ টাকা। ডাব একটা ৭০ টাকা। খেজুর এগারো শ' টাকা কেজি। আমার মতো গরীব মানুষেরা খেয়ে পড়ে বাচবে কিভাবে? শুধু মাত্র সস্তা এখন লেবু আর শশা। এক ডজন লেবু ৫০ টাকা। শশা এক কেজি ২৫ টাকা।
গত এক সপ্তাহ সুরভিকে ঘরে ইফতারী বানাতে দেই নি।
বাইরে থেকে কিনে এনেছি। এখন বাইরের ইফতারী খেতেও ভালো লাগে না। সুরভি অসুস্থ। থাইরয়েড সমস্যা। কিন্তু সে লকডাউনের কারনে ডাক্তারের কাছে যেতে পারছে না। সে তার ডাক্তারকে ফোন দিচ্ছে নিয়মিত। ডাক্তার ফোনেই বলে দিচ্ছেন- কোন ওষুধ খেতে হবে, কত টুকু খেতে হবে। ডাক্তারের ভিজিট ৫০০ টাকা করে। প্রতিবার পাঁচ শ' টাকা করে। এ পর্যন্ত সুরভি ডাক্তারকে ৭ বার ফোন করেছে। মানে সাড়ে তিন হাজার টাকা! এদিকে আমি সুরভির জন্য প্রতি সপ্তাহে পাঁচ শ' টাকার ওষুধ তো কিনছিই। আমার দাতে সমস্যা, পা চাবায় টাকা খরচ হবে বলে ডাক্তার দেখাই না। অথচ সুরভি !
সুরভি একটা বালতিতে ধনেপাতা বুনেছে।
অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ধনেপাতা দিয়ে ভরে গেছে। দেখতে বেশ ভালো লাগে। ধনেপাতা যাকে ইংরেজিতে coriander। সুরভি আফসোস করে বলে, একটু জায়গা থাকলে সবজি আর বাইরে থেকে কিনতে হতো না। আসলেই সুরভির হাতে সবজি ভালো হয়। অলরেডি করলা, পুইশাক আর পেয়ারা ভালো পরিমানে হয়েছে। চিংড়ি মাছ দিয়ে পুইশাক খুব ভালো লাগে। মাঝে মাঝে সুরভি ডাল দিয়েও পুইশাক রান্না করে। খেতে দারুন লাগে। এই লকডাউনে আমি বেশ পেটুক হয়ে গেছি। বেশ কিছুদিন ধরে কাইকা মাছ খেতে ইচ্ছা করছে। বেশ কয়েকবার বাজারে গিয়েও কাইকা পাই নি। আমার মার কাইকা মাছের একটা রেসিপি আছে। দারুন। বেগুন দিয়ে কাইকা মাছ ভাজা। সেরকম লাগে খেতে।
মায়ের সাথে ঝামেলা মিটমাট হয়েছে।
মা নিজেই আমাকে ডেকেছে। জোর করে আমার হাতে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে দিয়েছে। হাত একদম খালি ছিলো। তাই বেশি বাড়াবাড়ি করি নি। যাই হোক, আজ এখানেই শেষ করছি। সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। সাবধানে থাকুন। আচ্ছা, 'তিস্তা পারের বৃত্তান্ত' বইটা কি কেউ পড়েছেন? দেবেশ রায়ের লেখা। গতকাল তিনি মারা যান কোলকাতায়। ৮৪ বছর বয়সে। উনি একজন ভালো রাজনীতিবিদ ছিলেন। এই উপন্যাসের জন্যেই ১৯৯০ সালে তিনি সাহিত্য অ্যাকাদেমি পুরস্কার পান। উপন্যাসটা খুব পড়তে ইচ্ছা করছে। রকমারিতে বললে কি তারা বাসায় পৌঁছে দিয়ে যাবে? দাম কত বইটার?
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


