
মানুষের চিন্তা ভাবনা এবং মতামতের শেষ নেই।
কারো কারো চিন্তা ভাবনা উন্নত এবং মতামত সর্বজনীন। আবার কারো কারো চিন্তা ভাবনা আর মতামত অতি নিম্মমানের। আমি শুধু মানুষের কথা গুলো মন দিয়ে শুনি। বুঝতে চেষ্টা করি। একজন বলল, করোনা ভাইরাস চীনদের আবিস্কার। ওরা পরিকল্পিত ভাবে এটা পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে। আমার ধারনা চীনকে অযথাই দোষ দিচ্ছে। কোরআন হাদীস বলছে- আল্লাহ তার বান্দাদের উপর বিরক্ত হয়ে এই মহামারী দিয়েছে। নাকি আল্লাহ চীনদের দিয়ে এই কাজ করিয়েছেন? সে যাই হোক, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে ফিরেটিরে লোকজন আল্লাহর গায়েবি নিদর্শনের জোরে নাস্তিক থেকে নাকি সোজা আস্তিক হয়ে যাচ্ছে! আল্লার কি মেহেরবানি! এদিকে, বিশ্বে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু সংখ্যা তিন লাখ অতিক্রম করেছে!
আমাদের দেশটাই দরিদ্র।
তবু আমাদের দেশের সরকার এই করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অসহায় মানুষদের জন্য বিপুল ত্রান দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কিছু পিশাচ এর মধ্যেও ত্রাণ চুরি, তেল চুরি, চাল চুরি করেছে, ধরাও পড়েছে। যারা চুরী করছে তারা কি অসহায়? খুব বেশি দরিদ্র? না তাদের স্বভাবই এই রকম? গরীবের খাদ্য এভাবে মেরে খাওয়া ঠিক না। গতকাল এক বেটিকে দেখলাম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন- ''এ টি এম শামসুজ্জামান মারা গেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন''। এই বেটি ফেসবুকে ৫/৭ টা পেজ চালান। আমি খোজ নিয়ে জানলাম, এটিএম শামসুজ্জামান সাহেব মারা যান নি। আমি মহিলাকে বললাম, এটিএম সাহেব তো মারা যান নি। আপনিউ কেন ৭টা পেজ থেকে প্রচার করছেন তিনি মারা গেছেন? তিনি কি আপনার আত্মীয়? ভদ্র মহিলা আমাকে ব্লক করে দিলেন। অন্ধকার সরে গিয়ে আলো আসুক।
সাংবাদিকরা কারা?
যারা পত্রিকাতে কাজ করেন তারা সবাই সাংবাদিক? যে পত্রিকা অফিসের একাউন্সে বা বিজ্ঞাপন বিভাগে চাকরি করেন সে-ও কি সাংবাদিক? নাকি যে রাজনীতি বা অর্থনীতি নিয়ে নিউজ করেন? নাকি খেলা বা বিনোদন নিয়ে যে নিউজ করেন? নাকি যে বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের সাক্ষাতকার নেন তিনি সাংবাদিক? নাকি যে নেট থেকে তথ্য নিয়ে নিউজ করে সে সাংবাদিক? তবে আমি দেখেছি যারা পত্রিকা অফিসে চাকরি করেন তারা বেশ তেলবাজ হয়। চাটুকার হয়। দালাল হয়। মিথ্যাবাদী হয়। ভন্ড হয়। কেউ কেউ বলেন, হলুদ সাংবাদিকতার ভীড়ে মূলধারার সাংবাদিক এবং সংবাদপত্র, আজ বড্ড অসহায়। আমার এক শিক্ষক বলতেন- বেশির ভাগই হলো- চান্দা আর ধান্ধাবাজ! এরা অধিকাংশই মানুষের পর্যায়ে পড়ে না। মুখোশপরা কিছু প্রাণী। সে যাই হোক, পত্রিকার মালিকেরা কি উদ্দ্যেশে পত্রিকার বের করেন?
একজন মানুষ যদি তার নিজস্ব বিশ্বাস নিয়ে বাঁচতে চায় তাহলে সবচেয়ে প্রথম তার অন্যের বিশ্বাসের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। নিজের অবিশ্বাস দিয়ে আরেকজনের বিশ্বাসকে আহত করা ঠিক না। কিছু স্বার্থবাদী মানুষ সব যুগেই ছিলো, আছে, থাকবে। হিব্রু বাইবেল অনুসারে যে মানুষের বিশ্বাসের ওপর আঘাত করে সেই শয়তান। শয়তানকে র্যাংকিং অনুযায়ি বিভিন্ন নামে ডাকা হয় যেমনঃ- লুসিফার, বিল জীবাব, মোলোখ, ম্যামন, আজাজেল, অ্যাস্মোডিয়াস এরা নিউ টেস্টামেন্টের বিভিন্ন স্তরের ক্ষমতা অনুযায়ি শয়তান। এবং ইসলাম ধর্মে শয়তানের নাম দেওয়া হয়েছে- ইবলিশ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০২০ রাত ৩:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



