somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জীবনের গল্প- ৩৬

১৭ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মেয়েটার নাম কান্তা।
আমাদের সাথেই পড়তো। দেখতে মোটামোটি। তবে মাথায় অনেক চুল ছিলো। কোমর পর্যন্ত চুল। আমি মুগ্ধ হয়ে কান্তার চুলের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। মাথা ভরতি চুলের কারনেই মেয়েটাকে দেবী প্রতিমার মতোন লাগতো। সহজ সরল একটা মেয়ে! অবশ্য মেয়েরা বিয়ের আগে সহজ সরলই থাকে। বিয়ের পর তারা বদলে যায়। কঠোর হয়ে যায়, নিষ্ঠুর হয়ে যায়। কান্তার সাথে আমার গত বিশ বছর ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। তবে তাকে আমি বেশ কয়েকবার বিভিন্ন জায়গায় দেখেছি। কান্তা আমাকে দেখতে পায়নি। কিছুদিন আগে ঘটনা চক্রে একজনের মাধ্যমে কান্তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারি। জেনে খুব দুঃখ পাই। কান্তার একটা আনন্দময় জীবন দরকার ছিলো। মেয়েটাকে আমার ভালো লাগতো।

কান্তার দুই ছেলে এখন।
স্বামী অসুস্থ। সারাদিন বাসায় থাকে। কান্তার স্বামী ভালো চাকরী করতো। নিজে গাড়ি চালিয়ে অফিস যেত। ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে বেড়াতে যেত। অসুস্থতার কারনে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছে। এখন সারাদিন বাসায় শুয়ে বসে থাকে। নিজের চিকিৎসা করাতে গিয়ে জমানো টাকা সব শেষ। এখন সংসারের হাল ধরেছে কান্তা। কান্তা লালমাটিয়া কলেজ থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স করেছে। সে অনেক চেষ্টা করেও একটা চাকরি যোগাড় করতে পারে নি। আবার চাকরি পেলেও সমস্যা ছিলো। তাহলে সংসার দেখবে কেন? অসুস্থ স্বামী আর দুই সন্তানকে দেখবে কে? কান্তা এখন কেক বানায়। প্রচুর অর্ডার পায়। ফেসবুকে তার একটা পেজ আছে। আমি মুগ্ধ হয়ে মাঝে মাঝে কেকের ছবি গুলো দেখি।

কান্তার সাথে যদি আমার বিয়ে হতো!
কান্তার সাথে তো আমার ভালোই ভাব ছিলো। শুধু সাহসের অভাবে চুমু খেতে পারি নি। একদিন বেইলী রোডে কান্তার সাথে দেখা। কান্তা সবাইকে তুই করে বলতো, শুধু আমাকে কোনো এক অজানা কারনে তুমি করে বলতো। কান্তা বলল, তুমি কি সুদেব স্যারের কাছে ইংরেজী পড়ো? আমি বললাম, হুম পড়ি। কান্তা বলল, সুদেব স্যার নাকি শেক্সপিয়ারের জীবনীটা সহজ করে সুন্দর করে লিখে দিয়েছেন। খুব সহজেই নাকি মুখস্ত হয়ে যায়। আমি বললাম, হুম। কান্তা বলল, এবার পরীক্ষায় এটা আসবেই। লেখাটা আমাকে ফোটোকপি করে দিও, প্লীজ। আমি বললাম, ওকে দিবো। কান্তা সব সময় দুই হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলতো। সেদিন কান্তা বলল, আসো তোমাকে আজ কোক আর বার্গার খাওয়াবো।

হঠাত কান্তার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।
কোনো দেখা সাক্ষাত যোগাযোগ কিছুই নেই। তবে গত বিশ বছরে আমি কান্তাকে তিনচার বার রাস্তায় দেখেছি। অবশ্য কান্তার বিয়ে হবার পর একদিনও দেখিনি। একবার দেখলাম বইমেলায়। কান্তাকে দেখেই বুকের মধ্যে যেন কেমন করে উঠলো। আমি কান্তার কাছে যেতাম। কিন্তু কান্তা একটা ছেলের হাত ধরে হাটছে। ছেলেটা লম্বা করে, চোখে চশমা। আরেকদিন দেখলাম ইডেন কলেজের সামনে রিকশা করে যাচ্ছে। সাথে সেই চশোমা পড়া ছেলেটা। হাতে হাত। কান্তাকে বেশ খুশিই মনে হলো। এবারও আমার বুকে চিনচিন করে ব্যথা করলো। শেষবার কান্তাকে দেখলাম বানিজ্য মেলায়। সেই চশমা পড়া ছেলেটার সাথে। এবারো দেখলাম দুজন হাত ধরাধরি করে হাটছে। আরে এরা কি হাত ধরাধরি ছাড়া হাটতে জানে না?

একদিন আমি কান্তাকে ফোন দেই।
ফোন ধরে কান্তার স্বামী। ফোন ধরেই সে কাশতে থাকে। আমি বললাম, আপনি তো বেশ অসুস্থ! কান্তার স্বামী বলল, তবুও তো মরি না। আমি বললাম, মরবেন কেন? আপনাকে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে হবে। অবশ্যই আপনি সুস্থ হবেন। মনোবল হারাবেন না। কান্তার স্বামী বললেন, এই অসুস্থ জীবন নিয়ে বেঁচে থাকতে ইচ্ছা করে না। আমি বললাম, সম্ভবত আপনার কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। আপনি বিশ্রাম নিন। কান্তাকে দিন। আমি একটা কেকের অর্ডার দিবো। কান্তার স্বামী বললেন, কান্তা বাসায় নেই। আপনি বলুন, আমি অর্ডার লিখে নিচ্ছি। আমি বললাম, আমার মেয়ের জন্ম দিন। আলটিমেট চকলেট কেক চাই। দুই পাউন্ড হলেই হবে। আমি টাকা বিকাশ করে দিয়েছি। ভদ্রলোক অর্ডার নিয়ে ফোন রেখে দিলেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৩
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×