
১। একবার নাসিরুদ্দিন হোজা দেখলো, এক লোক পথের ওপর বসে আছে খুব বিমর্ষ হয়ে। কী হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই লোকটি বললো, তার অনেক ধন-সম্পত্তি। খাওয়া-পরা নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। কিন্তু তার কিছুই ভালো লাগে না। জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ঘর-বাড়ি, স্ত্রী-সন্তান কোনোকিছুই আর তাকে আকর্ষণ করে না। এ অস্থিরতা সইতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে সে।
হোজা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন।
হঠাৎ কিছু না বলেই পাশে রাখা লোকটির কাপড়ের বোচকা নিয়ে দিলেন এক ছুট এবং নিমেষে হয়ে গেলেন চোখের আড়াল। বিস্ময়ের ঘোর কাটতেই লোকটিও পিছু ধাওয়া করলো। কিন্তু হোজাকে পায় কে?
অনেকদূর যাওয়ার পর রাস্তার ওপর এক জায়গায় বোচকাটি রেখে গাছের আড়ালে অপেক্ষা করতে লাগলো হোজা। এদিকে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত অবসন্ন উদ্বিগ্ন লোকটি যখন এখানে এসে তার বোচকা খুঁজে পেলো, আনন্দে চিৎকার করে সে বলে উঠলো, পেয়েছি! পেয়েছি! এইতো আমার বোচকা। বহুদিন সে এত খুশি হতে পারে নি।
হোজা আড়াল থেকে হেসে বললেন, দুঃখবিলাসীদের এভাবেই শায়েস্তা করতে হয়।
২। একদল বাচ্চা হৈচৈ করে ফুটবল খেলছে।
আরেকটা বাচ্চা একপাশে একা দাঁড়িয়ে আছে। এক মনোবিজ্ঞানী দেখলেন এই বাচ্চাটা বিষন্নতা আর দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে। মনোবিজ্ঞানী মনে মনে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন এই বাচ্চাকে কাউন্সিলিং-এর মাধ্যমে চিকিৎসা করে রোগমুক্ত করার চেষ্টা করবেন। তিনি কাছে গিয়ে তাকে বললেন- তুমি আমার বন্ধু হবে?
বাচ্চাঃ না। যান।
মনোবিজ্ঞানীঃ আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে তোমার সংকোচ হচ্ছে খোকা?
বাচ্চাঃ হ্যাঁ। যান।
মনোবিজ্ঞানীঃ আমার মনে হয় তুমি অনেক মনো কষ্টে আছো।
বাচ্চাঃ না। যান।
মনোবিজ্ঞানীঃ তুমি কিন্তু অন্য বাচ্চাদের সাথে একসঙ্গে দৌড়াদৌড়ি করছো না।
বাচ্চাঃ হ্যাঁ। যান।
মনোবিজ্ঞানীঃ কেন?
বাচ্চা (বিরক্ত হয়ে): আমি গোলকিপার।
৩। যখন সাপ জীবিত থাকে তখন সে পিঁপড়া খায়, আর সাপ যখন মরে যায় তখন পিঁপড়ারা তাকে খায়।
৪। আমাদের বই পড়তেই হবে, কেননা, বই পড়া ছাড়া সাহিত্য চর্চার উপায়ন্তর নেই। ধর্মের চর্চা চাইকি মন্দিরের বাইরেও করা চলে, দর্শনের চর্চা গুহায়, নীতির চর্চা ঘরে, এবং বিজ্ঞানের চর্চা জাদুঘরে; কিন্তু সাহিত্যের চর্চার জন্য চাই লাইব্রেরি।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০২০ দুপুর ২:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


