
আমাদের দেশের মানুষ দিন দিন এমন অমানবিক হয়ে যাচ্ছে কেন?
অথচ সবাইতো মুখে নীতি কথা বলছে। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? কোনো মানুষের মধ্যে সামাজিক জ্ঞান ও নৈতিক জ্ঞান নেই কেন? পদ্মা সেতুতে মাথা লাগবে গুজব যেই হারে প্রচার হয় আর মানুষ পিটিয়ে মেরে ফেলে সন্দেহ করে! হুজুগে বাঙ্গালী গুজবে বিশ্বাসী। এক একযুগ ধরে প্রশ্ন ফাঁস জেনারেশনের কুফল জাতি পেতে শুরু করেছে! এই জেনারেশনের ছেলে মেয়েদের মাথায় কিচ্ছু নেই। সারা দিনরাত শুধু মোবাইল টেপাটিপি করে এদের সময় কাটে।
প্রশ্নপত্র ফাস জেনারেশন, ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেওয়া জেনারেশন আর কপি পেস্ট বুদ্ধি নিয়ে চলা লোকদের কাছে ভালো কিছু আশা করা বোকামো। সব এলাকাতেই কিছু বখাটে থাকে, তারা বাজেও নিষ্ঠুর কাজের নেত্রীত্ব দেয়। এযুগের ছেলেরা সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি দেখে তারা নিজেদের নায়ক ভাবে। এরাই মারামারি করে, ছিনতাই করে, নেশা করে, ইভটিজিং করে। সমাজে নিষ্ঠুর, অমানবিক হাজারো খুনি ঘুরে বেড়াচ্ছে সবার সাথে... এই খোঁড়া প্রজন্ম দিয়ে কতটা সমৃদ্ধির পথে যাবে দেশ?
দূর্নীতি আর চাটুকারিতা দেখলেই বুঝা যায় দেশের মানুষ কি পরিমাণ পেছনে পড়ে আছে, তা বুঝা সম্ভব হচ্ছে। উন্নত বিশ্বের সাথে আমরা তাল মিলিয়ে এগুতে পারবো না। এই প্রশ্ন ফাঁস জেনারেশনের ছায়া আগামী ৩০ বছর আমাদের তাড়িয়ে বেড়াবে। বিশ্বের সব দেশ'ই উন্নতি করছে কিন্তু আমাদের মানসিকতার অধপতন হচ্ছে দিন দিন। দেশে যেই হারে খুনীর সংখ্যা বাড়ছে সেটা খুবই ভয়ংকর। কথায় আছে বাঘ যখন মানুষের মাংসের স্বাদ পায় তখন তার অন্য কিছু ভালো লাগে না। লাখ লাখ জিপিএ ৫ দিয়ে জাতি কতদূর এগুবে বুজাই যাচ্ছে!
আমার এক শিক্ষক আমাকে বলেছেন, যারা তোমার প্রতি সদয় ছিল না, তাদের প্রতি অসন্তোষ পুষে রেখো না। কারন শুধু মাত্র তোমার মা এবং বাবা ছাড়া তোমার প্রতি সুবিচার আর কেউ করবে না। একজন মানুষ আজ তোমার সাথে ভালো- তার মানে এই নয় যে, সে সব সময়ই তোমার সাথে ভালো থাকবে। কাজেই খুব দ্রুত কাউকে বন্ধু ভেবো না।
সব সময় মাথায় রাখো- এই দুনিয়াতে বেশির ভাগ মানুষ'ই দুষ্ট।
আজকাল চাকরী এবং ব্যবসা করলে- দিন আনি দিন খাই টাইপ অবস্থা হয়।কিন্তু রাজনীতি করলে গাড়ি-বাড়ি, কোটি কোটি টাকা করা কোনো ব্যাপার না। ছাত্ররাজনীতি করলেও- চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়া যায়। আর একবার এইভাবে প্রচুর টাকা করতে পারলে- মানুষ ভুলে যায় যে এই টাকা অসৎ ভাবে উপার্জন করা।তখন সবাই জ্বী জ্বী করতে থাকে।
দেশে কারো জানা নেই ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা কত?
সরকারের পক্ষ থেকে দেশের ক্ষুধার্ত মানুষের ক্রমবর্ধমান সংখ্যার ব্যাপারে নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করা হলেও জাতিসংঘ বলছে, বাংলাদেশে তিন কোটি থেকে চার কোটি লোক প্রতিদিন পেট পুরে খেতে পায়না। বিপুল এ জনগোষ্ঠী ক্ষুধা নিয়ে দুর্বিষহ দিন কাটায়।
দারিদ্র্যের হার কমে আসছে সরকার পরিসংখ্যান দিয়েই এমন দাবি করছে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উচ্চমূল্যের সাথে চলতে গিয়ে রীতিমতো হাফিয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে ৫৪ জন অপুষ্টিতে মারা যায়।
একজন মানুষকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে হলে দুই হাজার ২২২ ক্যালোরি খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এর চেয়ে কম ক্যালোরি খাবার গ্রহণ করে, এমন লোকের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি। মন্ত্রীগণ দয়া করে ক্ষুধার্ত মানুষের সাথে আর ঠাট্টা করবে না। কথা নয় কাজের মাধ্যমে দক্ষতা দেখান। ব্যর্থ লোকদের পতন- কেউ ঠেকাতে পারবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ১:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




