somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আসুন 'সিয়েরা লিওন' দেশটি সম্পর্কে জানি

২৩ শে জুলাই, ২০২০ রাত ২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বেশ কিছুদিন আগে একটা মুভি দেখেছিলাম- ব্লাড ডায়মন্ড।
মুভির কাহিনী এই রকম- মুভির নায়ক এক সাউথ আফ্রিকান সাদা মার্সেনারী। লুকিয়ে হীরা পাচার করতে গিয়ে সীমান্ত পুলিশের কাছে ধরা পড়ে। যেতে হয় জেলে। সেখানেই তার দেখা হয় সলোমন ভ্যান্ডি'র সাথে। যে একজন স্থানীয় জেলে এবং কপালের ফেরে হীরার খনিতে দাস হিসেবে কাজ করতে গিয়ে পুলিশের রেইডে ধরা পড়ে। বিদ্রোহী বাহিনী আরইউএফ শেঞ্জি গ্রামে আক্রমণ চালায়। যুদ্ধ আর হীরা খনির জন্য তাদের মানুষ দরকার আর এ ধরণের গ্রাম থেকেই তারা তাদের অপহরণ করে।
কিছু কিছু মুভি দেখলে মুভি শেষ হওয়ার পরেও মাথার ভিতর মুভির প্লট ঘুরপাক খেতে থাকে। ব্লাড ডায়মন্ড এমন একটা আসাধারন মুভি। আশা করি এই মুভি সবাই দেখেছেন। না দেখলে অতিসত্তর দেখে ফেলুন। যাই হোক, এই মুভিটা দেখেই আমার 'সিয়েরা লিওন' দেশটি সম্পর্কে আগ্রহ জাগে।



সিয়েরা লিওন পশ্চিম আফ্রিকার একটি দরিদ্র দেশ।
সিয়েরা লিওনের মোট আয়তন ৭১,৭৪০ বর্গকিলোমিটার। এবং মোট জনসংখ্যা প্রায় নব্বই লাখ। 'ফ্রিটাউন' সিয়েরা লিওনের রাজধানী। সিয়েরা লিওনে প্রায় ১৭টি জাতিগোষ্ঠী বসবাস করে, যাদের প্রত্যেকের রয়েছে আলাদা ভাষা ও রীতিনীতি। দেশটিতে মুসলিম ও খ্রিস্টানরা একে অপরের প্রতি সহযোগী ও শান্তিপূর্ণ আচরণ করে। সিয়েরা লিওনে ধর্মীয় সহিংসতা খুবই বিরল। প্রাকৃতিক সম্পদ থাকার পরেও সিয়েরা লিওনের ৭০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমায় বসবাস করে। দেশটি ১৯৬১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে। সিয়েরা লিওনে মোট চারটি প্রদেশ রয়েছে। সিয়েরা লিওনের মুদ্রার নাম লিওন। জাতীয় ব্যাংকের নাম ব্যাংক অফ সিয়েরা লিওন। সিয়েরা লিওন একটি কৃষি ভিত্তিক দেশ। দেশের মোট জিডিপির প্রায় ৫৮ শতাংশ আসে কৃষি থেকে। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। প্রধান শস্য পণ্য হল ধান, প্রায় ৮৫ শতাংশ কৃষক ধান চাষ করেন।



ইংরেজি ভাষা সিয়েরা লিওনের সরকারি ভাষা।
সিয়েরা লিওনে শান্তি স্থাপনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিলো। ২০০৩ সালে সিয়েরা লিওনের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আহমদ তেজান কাব্বাহ একটি সরকারী সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন। ব্র্যাকসহ কিছু বাংলাদেশী এনজিও সিয়েরা লিওনে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান, কৃষি উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাজ করছে। আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত দেশটিতে সোনা এবং হীরাও উৎপাদন করা হয়। সিয়েরা লিওনকে বলা হয় ‘হীরার খনির গরিব দেশ'। মূল্যবান খনি থাকলেও এদেশের মানুষজন অত্যন্ত দরিদ্র। ১৯৯১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় সিয়েরা লিওনে। যুদ্ধে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ মারা যায়। সিয়েরা লিওন নামের দেশের অধিকাংশ মানুষ খুবই অভাবী এবং অসুখীও। তাদের হায়ের রঙ কুচকুচে কালো।



সিয়েরা লিওনের শান্তি ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব দেয়া হয় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীকে। বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ থেকে সিয়েরা লিওনে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে সৈন্য পাঠায়। বাংলাদেশ থেকে ৭৭৫ জন সদস্যের সেনাবাহিনীর একটি দল প্রথমে সিয়েরা লিওনের দক্ষিণ অঞ্চলে লুঙ্গি নামক স্থানের দায়িত্ব নেয়। তারপরে বাংলাদেশ থেকে আরও সেনা সদস্য সিয়েরা লিওন যায় এবং সেদেশে ছড়িয়ে পড়েন। এভাবে একসময় বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ হাজার ৩০০ জন সেনা একত্রে সিয়েরা লিওনে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশ দল ২০০৫ সালে শান্তি প্রতিষ্ঠার পর ফিরে আসে। সে দেশে শান্তি ফিরে আসার পর পরই সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট আহমাদ তেজান কাব্বাহ কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং বাংলাদেশি সেনা সদস্যদের ভূমিকাকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে বাংলা ভাষাকে দেশটির সরকারি ভাষার মর্যাদা দেন।



এই করোনায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আফ্রিকা মহাদেশের অন্যতম দরিদ্র রাষ্ট্র সিয়েরা লিওন। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চীনসহ অন্যান্য এশীয় দেশ থেকে ফেরা যাত্রীদেরকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়েছে সিয়েরা লিওন সরকার। ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে অতিরিক্ত তাপমাত্রা নিয়ে আসা লুঙ্গি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের যাত্রীদেরকেও। করোনায় দেশটিতে কেউ মারা যায় নি।
আফ্রিকার সিয়েরা লিওনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লিখেছেন ভারতীয় বাঙ্গালী এয়ারফোর্স অফিসার বিভাস রায় চৌধুরী। সিয়েরা লিওন কথাটির অর্থ সিংহের পর্বত। সিয়েরা লিওন দেশটির নামকরুনণ করে পর্তুগীজরা।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০২০ রাত ২:৩০
২০টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×