
আমি কখনও দুপুরে ঘুমাই না।
ঘুম আসে না। আজ দুপুরে ভাত খেয়ে বিছানায় যেতেই শুনলাম পাশের বাসায় খুব কান্নাকাটি হচ্ছে। মনটা খুব খারাপ হলো। নিশ্চয় রফিক চাচা মারা গেছেন। শুনেছি তিনি খুব অসুস্থ। অথচ গত সপ্তাহে তার সাথে বাজারে দেখা হয়েছিল। তার দুই হাত ভরতি বাজার। আমাকে জোর করে ধরে চা খাওয়ালেন। নানান রকম গল্প করলেন।
মৃত্যু একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
যদিও নিত্যনৈমিত্তিক। তবু প্রতিটি মৃত্যুই যেন মানুষকে কিছু বলতে চায়। মৃত্যু নিয়ে ভাবতে-ভাবতে সিড়ি নিচে নামতেই এলাকার দু'টো ছেলের সাথে দেখা। তাদের বললাম, যাও মসজিদ থেকে খাট নিয়ে আসো। রফিক চাচা মারা গেছেন। হুজুরকে বলো- মাইকে যেন একটা ঘোষনা দিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেন।
রফিক চাচার ঘরে ঢুকেই দেখি দুই ভাইবোন খুব কাঁদছে।
দশ বারো বছরের দু'টো ছেলে মেয়েকে কাঁদতে দেখে খুব মায়া লাগছে। তাদের কি শ্বান্ত্বনা দেব আমি? এই রকম পরিস্থিতিতে আমি একেবারেই সামাল দিতে পারি না। তবু ছেলেমেয়ে দু'টোর মাথায় হাত রেখে বললাম, কান্না করো না। আল্লাহর কাছে দোয়া করো। সবাইকেই একদিন চলে যেতে হয়। আমরা আছি তোমাদের সাথে।
এমন সময় আমাকে প্রচন্ড অবাক করে দিয়ে- রফিক চাচা ঘরে ঢুকলেন। ছেলে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে বললেন, কি হয়েছে? কান্নাকাটি কিসের? ছেলেমেয়ে দু'টো বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল- টিকটিকি দেখে খুব ভয় পেয়েছি বাবা। তাই কান্নাকাটি করছি। আমি কি করবো বুঝতে পারছি না! একটা দৌড় দিয়ে কোথাও পালিয়ে যাওয়া দরকার এই মুহুর্তে।
আমি আস্তে করে, চোরের মতোন সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে এলাম। ছেলে দু'টো আমার কথা রেখেছে- নিচে নেমেই দেখলাম মৃত মানুষকে বহন করার খাট। শুনতে পেলাম, মসজিদের মাইকে ইমাম সাহেব বলছেন, অদ্য বেলা তিন ঘটিকায় রফিক সাহেব মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বাদ আছর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
আমি দৌড়াচ্ছি।
চোখ মুখ খিচিয়ে দৌড়াচ্ছি। রফিক সাহেব আমার পেছনে। তার হাতে একটা লাঠি। আমি জানি, রফিক চাচা আমার সাথে দৌড়ে পারবেন না। ছোটবেলায় স্কুলে দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে একটা কাঁচের প্লেট পুরস্কার পেয়েছিলাম। এই বুড়ো বয়সে রফিক চাচা বেশ ভালো দৌড়াতে পারেন। অবশ্য আমি তার চেয়ে ভালো দৌড় পারি।
(রিপোষ্ট)
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০২০ ভোর ৪:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



