
আসসালামু আলাইকুম।
সবাই কেমন আছেন? কি খবর? এই করোণার মধ্যে দেশ বিদেশে আপনাদের দিনকাল কেমন কাটছে? আমি আছি কোনো রকম। তবে বেঁচে আছি। এই জন্যই আমার সীমাহীন আনন্দ। যাই হোক, কেউ আমাকে একটু কষ্ট করে বোঝাবেন, জীবনের উদ্দেশ্য কি? কেন আমি দুনিয়াতে এলাম? তাতে আমার কি লাভ হলো? সমাজের কি লাভ হলো? সত্যি বলছি, এই ব্যাপারে বিশেষ অজ্ঞ আমি। বিশেষ সন্দিহান। আদিম সমাজে মানুষ সারাদিন মাইলের পর মাইল চষে বেড়িয়েছে খাবারের সন্ধানে, সারা জীবনই থেকেছে আধপেটা খেয়ে। অধিকাংশ সময়ই কেটেছে তাদের হিংস্র প্রাণীদের মোকাবেলায়। জীবনের উদ্দেশ্য খোঁজার মত অবসর ও মস্তিষ্কের বিকাশ তাদের ছিল না।
বিবর্তনীয় দৃষ্টিতে যদি দেখি তবে আমাদের জীবনের আসলে উদ্দেশ্য একটিই, তা হচ্ছে নিজের জিনকে রক্ষা করা এবং এর বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। ধর্ম বলে মানুষকে বিভিন্ন কাজ দিয়ে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে! কারো জীবনের উদ্দেশ্য রাজা হয়ে রাজ্য শাসন করা। কারো জীবনের উদ্দেশ্য সারাজীবন মাছ মেরে অন্যদের খাওয়ানো। কারো জীবনের উদ্দেশ্য স্বামীর সেবা করা ইত্যাদি। এই আধুনিক যুগে এসে আমি ধর্মের দোহাই গুলো বিশ্বাস করতে চাই না।
জীবনের কোন অর্থ বা যৌক্তিকতা নাই।
তাই বলে জীবন উপভোগ না করারও কোন কারণ নাই। যারা জীবনের অর্থ পেয়েছে বলে দাবী করে তারা হয় মিথ্যে বলছে অথবা কোন মিথ্যা ভূয়া বিষয়ে বিশ্বাস করছে। দুটো ক্ষেত্রেই তারা মানব জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে বিফল হয়। আপনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, হঠাত দেখতে পেলেন একটা কুকুর গভীর নিদ্রায় মগ্ন, তার পেটটা স্বাস প্রশ্বাস নেওয়ার জন্য উঠছে আর নামছে। এই দৃশ্যটি আপনি গভীর মনোযোগের সাথে দেখ্তে দেখতে যদি প্রশ্ন করেন এই কুকুরটার পৃথিবীতে আসার কি উদ্দেশ্য আছে? এর উত্তর আপনি কি দেবেন আমি জানিনা, কিন্তু আমি বলব ওই সময়ের জন্য কুকুরটির উদ্দেশ্য ঘুমানো এবং সেটাই তার ওই সময়ের পরম উদ্দেশ্য। ঘুম ভাঙ্গলে সে আরেকটি কাজে নিয়জিত হবে এবং সেটাই হবে তার ওই সময়ের পরম উদ্দেশ্য।
মরে গিয়েও কি জীবিত থাকা যায়? নিউটন আর আইনস্টাইন মরে গিয়েও তাদের চিন্তার মাধ্যমে জীবন্ত থাকেন আমাদের কাছে মানে, জীবিতদের কাছে। বস্তুত এই যে নিউটন আর আইনস্টাইনকে নিয়ে আমরা এত মাতামাতি করছি, রবীন্দ্রনাথের জন্ম আর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছি সাড়ম্বরে, তাকে শ্রদ্ধা জানানোর কথা বলছি, এতে ঐ মহামানবদের আসলেই কিছু এসে যায় না, কারণ তারা এই সন্মান দেখতেও পাচ্ছেন না, ভোগ করতেও পারছেন না!
তাই আইনস্টাইনের বা রবীন্দ্রনাথের বেঁচে থাকা বলতে তাদের নিজেদের বেঁচে থাকা বোঝায় বলে মনে হয় না, বরং জীবিত মানুষের নিকট তাদের চিন্তার বেঁচে থাকা বোঝায় সম্ভবত! এখন একটা মানুষ বেঁচে আছেন কিনা, আমরা কিভাবে বুঝব? সে যদি চিন্তা করতে পারে, কথা বলতে পারে, তাহলে তাকে জীবিত বলা যায়! আইনস্টাইন বা রবীন্দ্রনাথ কি প্রত্যহ আমাদের সাথে কথা বলছেন না, বা তাদের চিন্তাগুলো কি আমাদের ভাবনার সাথে মিথস্ক্রিয়া করছে না? এইজন্যই তারা জীবিত, এইজন্যই তারা সচল!
আসলে জীবনের কোন উদ্দেশ্য নেই। কারণ, এই জীবনটা আমরা চেয়ে নেইনি। কিংবা এ জীবনের সৃষ্টিতে আমাদের কোন হাত নেই। এটি প্রকৃতি/ঈশ্বর দ্বারা সৃষ্ট। মানুষের কাজ হলো যার যার পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে জীবনকে পরিচালিত করা, জীবিকার সন্ধান করা, সমাজ ও পরিবার নিয়ে বসবাস করা, মহাবিশ্বকে বুঝার ব্যর্থ চেষ্টা করা। সংসারের মিথ্যা মোহে আটকে থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করা।
জীবন নিজেই প্রকৃতির চক্রের অংশ। মানুষের প্রচেষ্টা জীবনকে সুন্দর ও অর্থবহ করা।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৩:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



