
মানুষের আত্মার মতো দেশেরও আত্মা থাকে।
বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাংলাদেশের আত্মা। ১৫ই আগষ্ট আমি চুপচাপ'ই পালন করি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তো আমার বুকে। আমার হিরো মারা যান নি। কোটি বাঙালীর অন্তরে সে বেঁচে আছে, বেঁচে থাকবে।
শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুসংবাদ প্রচারিত হওয়ার পরপর টুঙ্গিপাড়ায় তার পৈতৃক বাড়িতে স্থানীয় জনগন হামলা করে এবং বাড়ির সব জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। মেজর জেনারেল জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর শুনে নির্বিকার ভঙ্গিতে বললেন, প্রেসিডেন্ট নিহত, তাতে কী হয়েছে? ভাইস প্রেসিডেন্ট তো আছে। জিয়াউর রহমান তার শক্তি দেখাতে শুরু করলেন- মাত্র দুই মাসে জিয়াউর রহমানের নির্দেশে ১১৪৩ জন সৈনিক ও অফিসারকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলানো হয়। পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনলেন যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে। নাগরিত্ব দিলেন এবং বিশেষ ক্ষমতায় বসালেন।
একজন সাধারণ ভারতীয়’র কাছে মহাত্মা গান্ধী মানে তিনি জাতীর জনক, শুধু ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস’র নেতা নন। নেলসন মেন্ডেলা তার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস’র কাছে যেমন পূজনীয় ব্যাক্তি ঠিক তেমনি ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির কাছেও পূজনীয় ব্যাক্তি। তাদের সম্মান জানাতে কোন দলের সমর্থক বা কর্মী হতে হয় না। কারন তারা অবিসংবাদিত নেতা। তেমনি বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলা ভাষা জানে কোন মানুষ যেমন রবীন্দ্রনাথকে এড়িয়ে চলতে পারেন না, তেমনি বাংলাদেশী কোন মানুষ বঙ্গবন্ধুকে এড়িয়ে চলতে পারেন না।
হুমায়ূন আহমেদ তার 'দেয়াল' উপন্যাসে লিখেছেনঃ
ঢাকা মসজিদের শহর। সব মসজিদেই ফজরের আজান হয়। শহরের দিন শুরু হয় মধুর আজানের ধ্বনিতে। আজানের ধ্বনির সঙ্গে নিতান্তই বেমানান কিছু কথা বঙ্গবন্ধুকে বলছে এক মেজর, তার নাম মহিউদ্দিন। এই মেজরের হাতে স্টেনগান। শেখ মুজিবের হাতে পাইপ। তার পরনে সাদা পাঞ্জাবি এবং ধূসর চেক লুঙ্গি।
শেখ মুজিব বললেন, তোমরা কী চাও? মেজর বিব্রত ভঙ্গিতে আমতা-আমতা করতে লাগল। শেখ মুজিবের কঠিন ব্যক্তিত্বের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। শেখ মুজিব আবার বললেন, তোমরা চাও কী?
মেজর মহিউদ্দিন বলল, স্যার একটু আসুন।
কোথায় আসব?
মেজর আবারও আমতা-আমতা করে বলল, স্যার একটু আসুন।
শেখ মুজিব বললেন, তোমরা কি আমাকে খুন করতে চাও? পাকিস্তান সেনাবাহিনী যে কাজ করতে পারেনি, সে কাজ তোমরা করবে?
এই সময় স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র হাতে ছুটে এলো মেজর নূর। শেখ মুজিব তার দিকে ফিরে তাকানোর আগেই সে ব্রাশফায়ার করল। সময় ভোর পাঁচটা চল্লিশ। বঙ্গপিতা মহামনব শেখ মুজিব সিঁড়িতে লুটিয়ে পড়লেন। তখনো বঙ্গবন্ধুর হাতে তার প্রিয় পাইপ। বত্রিশ নম্বর বাড়িতে কিছুক্ষনের জন্য নরকের দরজা খুলে গেল। একের পর এক রক্তভেজা মানুষ মেঝেতে লুটিয়ে পড়তে লাগল।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমি যে উপন্যাসটা শুরু করেছিলাম তার শুরুটা এই রকম-
গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজ একটা ছেলে প্রথম ক্লাশ করতে এসেছে। ছেলেটির বয়স ছয় বছর। তাকে নিয়ে এসেছে- তার বড় বোন ফাতেমা বেগম। ছেলেটি হাসি মুখে ক্লাশে রুমে ঢুকে প্রথম বেঞ্চে বসল। অন্য ছেলেদের মতন সে কোনো কান্নাকাটি করল না। বরং তার চোখে মুখে এক আকাশ আনন্দ খেলা করছে।
এই সাহসী বালকের মায়ের নাম সায়েরা খাতুন। স্কুল ছুটির পর বালক একাএকা হেঁটে বাসায় ফিরল। তার মেজ বোন আছিয়া বেগম ভাইকে আনতে স্কুলে যেতে চেয়েছিল- কিন্তু বালক চিৎকার করে বলেছে- আমি একাই আসতে পারব- এতটুকু পথ।
এই বালক ১৯৩৮ সনে আঠারো বছর বয়সে ফজিলাতুন্নেসা নামক এক তরুনীকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির ঘরে দুই কন্যা এবং তিন পুত্রের জন্ম হয়। কন্যারা হলেন শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৩:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



