somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ঢাকা শহরে বর্তমান করোনা পরিস্থিতি 'যেরকম'

১৫ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ঢাকা শহর অদ্ভুত এক শহর।
ভুল বললাম, শহর কখনও অদ্ভুত হয় না। অদ্ভুত হয় শহরের মানুষ গুলো। গত পাঁচ ছয় মাস ধরে চলছে করোনা আতঙ্ক। প্রথম প্রথম করোনা নিয়ে শহরের মানুষ বেশ আতঙ্কে ছিলো। তারা ঘর থেকেই বের হতো না। সরকারও লোকডাউন ঘোষনা করেছিলো। পুরো ঢাকা শহর হয়ে গিয়েছিলো সুনসান। একদম নিরব। সেই পরিস্থিতি এখন নাই। যদিও করোনা ভাইরাস ঠিকই আছে, আ‌গের মতোন'ই আছে। সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তারা ঘর থেকে বের হয়েছে। ঘর থেকে বের হতে বাধ্য হয়েছে। এই শ্রেনীর লোকজন দরিদ্র এবং সমাজে এদের সংখ্যাই বেশী। তবে জাতী করোনা থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছে। করোনায় মানুষ প্রতিদিনই মরছে। এই মড়া কতদিন অব্যহত থাকবে কে জানে!

আমি প্রতিদিন বাইরে যাচ্ছি।
একেক দিন একেক এলাকায় যাচ্ছি। মানুষের কথা শুনছি। এক শ্রেনীর মানুষ মনে করছে- করোনা বলে কিচ্ছু নাই। এটা গুজব। এটা সরকারের সৃষ্টি। আরেক শ্রেনী মনে করছে, করোনা কিছুতেই ছোঁয়াচে হতে পারে না। পবিত্র কোরআনে ছোঁয়াচে রোগ বলে কিছু উল্লেখ নেই। এখন রাস্তাঘাট আগের মতোন অবস্থা। প্রচুর মানুষ। প্রচুর বাস, রিকশা, গাড়ি। একদল মানুষ মনে করছে আল্লাহ যেভাবে মৃত্যু লিখে রেখেছে সেভাবেই মৃত্যু হবে। কাজেই করোনাকে ভয় পেয়ে লাভ নাই। দরিদ্র লোকেদের মনোভাব এরকম- করোনা গরীবদের হয় না। এটা ধনী লোকদের অসুখ। আমরা নিশ্চিন্ত। এই করোনায় দূর্নীতিবাজরা সবচেয়ে বেশি ভয়ে আছে। কারন তারা পাপী। পাপী মানুষের ভয় বেশি থাকে। তারা একেবারেই ঘর থেকে বের হচ্ছে। ফোনে ফোনে সব কাজ সারছেন। সব দূর্নীতিবাজ পুরো পরিবার নিয়ে বিদেশে যাওয়ার ধান্দায় আছে।

শহরের প্রতিটা চায়ের দোকানে প্রচুর ভিড়।
ছুটিছাটায় লোকজন বেড়াতে যাচ্ছে। এই তো সেদিন ফেসবুকের একটা গ্রুপ জাফলং বেড়াতে গেলো, তিন দিনের জন্য। সব মিলিয়ে ৩৩ জনের দল। যারা নিয়মিত 'টিকটক' করেন তারা গ্রুপ ধরে ধরে সারা ঢাকা শহরের নানান জায়গা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দল বেঁধে টিকটক করছে। ৫০/১০০ জন মিলে দেখা করছেন। ঈদের পরের দিন রাস্তা আটকে টিকটক করতে গিয়ে খুব মারামারি হয়েও গেল। অনেকেই বলছেন, করোনা বাংলাদেশের মানুষের কাছে হার মেনেছে। লজ্জা পাচ্ছে। ওয়াবদুল কাদের সাহেব ঠিকই বলেছেন, আমরা করোনার চেয়ে শক্তিশালী। দেশের নিম্ম আয়ের লোকজন বলছে, আমরা ভেজাল খেতে খেতে আমাদের শরীর শয়ে গেছে। তাই করোনা ভাইরাস আমাদের শরীরে এসে কিছু করতে পারবে না। আরেক শ্রেনী বলছে, আসলে ঢাকা শহরের সব মানুষের করোনা হয়ে গেছে। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশী বলে করোনা তাদের মারতে পারেনি। নানান রকম মানুষ, নানান রকম তাদের চিন্তা ভাবনা।

এই শহরের একটু পয়সাওয়ালা লোকজন-
প্রচন্ড অস্থির হয়ে আছেন। তারা বলছেন, প্লেন চলাচল স্বাভাবিক হলেই- থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালোশিয়া আর ইন্দোনেশিয়া যাবেন বেড়াতে। যাদের টাকা পয়সা কম তারা যাবেন কক্সবাজার, বান্দারবন অথবা সিলেট। বহু প্রবাসী দেশে এসে বিরাট বিপদে পড়ে গেছে। তারা এখন ফিরে যেতে পারছে না। প্লেনের টিকিট কাটা আছে। অথচ বারবার তারিখ বদলানো হচ্ছে। এদিকে কারো কারো ভিসা শেষ হতে চলেছে, কারো পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হতে শুরু করেছে। এই শহরে বহু লোকের চাকরি চলে গেছে। বেকারের সংখ্যা বহু গুন বেড়ে গেছে। এই বেকার শ্রেনী নিয়ে কেউ ভাবছে না। সরকার দেশের বেকারদের নিয়ে বড়ই উদাসীন। বেকারদের খুব কষ্ট। তাদের কষ্ট কেউ বুঝে না। এমনকি পরিবারের লোকজনও বুঝে না। একটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম, দেশে করোনা। অথচ প্রচুর লোক কোরবানী দিয়েছে। করোনার আগে যেমন কোরবানী হতো, এই করোণার মধ্যও সেরকম কোরবানী হয়েছে। এমনকি হাঁটে বহু লোক গরু কিনতে এসে গরু না পেয়ে ফেরত গেছে। মানুষের হাতে নাকি টাকা নাই? তাহলে এত এত গরু কোরবানী হলো কি করে? শুধু চট্রগ্রামেই সাড়ে তিন লাখ গরু কোরবানী হয়েছে। অবশ্য গত বছর চার লাখ গরু কোরবানী হয়েছিলো।

দীর্ঘদিন দেশে বিয়ে সাদী বন্ধ ছিলো।
এখন আবার শুরু হয়েছে। তবে ছোট করে অনুষ্ঠান হচ্ছে। দীর্ঘদিন মানুষ ঘর বন্ধী ছিলো। সেদিন কোথায় যেন পড়লাম, এই করোনার জন্য আমাদের দেশে আড়াই লাখ বেশি শিশু জন্ম নিবে। ডিসেম্বর, জানুয়ারী এবং ফেব্রুয়ারীতে নতুন শিশুরা আসতে শুরু করবে। একটা শিশু জন্ম নিলেও বিরাট দিকদারি। অতি সস্তা হাসপাতাল গুলোতেও ৩০/৩৫ হাজার টাকা বিল হয়ে যায় তিন দিনে। দরিদ্র মানুষরা এত টাকা কিভাবে যোগাড় করবে? স্কয়ার হাসপাতালে বিল হয় লাখ টাকার উপরে। হাসপাতাল আর শিক্ষা ব্যবসা খুব জমজমাট। সরকারের উচিত এদিকটায় নজর দেওয়া। তবে এই করোনায় সবচেয়ে ভালো আছে দূর্নীতিবাজরা। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা করে নিয়েছে। তারা এবং তাদের পরিবারের সমস্ত লোকেরা রাজার হালে জীবন যাপন করছে। অতীতে যারা দূর্নীতি করেছিলো তারাও আজ ভালো আছে। একবার দূর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হতে পারলে আর কিছু লাগে না। ধরা পড়লে সমস্যা নাই। বের হয়ে আসা যায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:২৪
১৭টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গানটি প্রিয় রাজীব নূর ও কবি স্বপ্নের শঙ্খচিলকে উৎসর্গ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:০৬

আমার খুব প্রিয় একটি কবিতার সাথে ব্লগার স্বপ্নের শঙ্খচিলের কবিতা মিলিয়ে গানটি বুনেছি।
শোনার আমন্ত্রণ রইলো।
============================

এই জল ভালো লাগে;
বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কদমের পাপড়ি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


এ আষাঢ়ের চোখ কেমন জানি-
চৈত্রের হাওয়ায় কদম নয় যেনো
আগুন- আগুন- তবু ভেজে যাচ্ছে-
শান্তি চুক্তির গন্ধ বাতাস-বাতাসে;
আনন্দময় আষাঢ়ে কাম ভাবনায়
শুধু মাটির বুক গড়ে- গড়ে আসে
জলকাঁদার শ্রেষ্ঠ হাসি অথচ বসন্ত
কান্না... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×