
কেদারনাথ মন্দির হিন্দুদের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান।
এটি হিমালয় পর্বতমালায় ৩,৫৮৪ মিটার (১১,৭৫৯ ফিট) উচ্চতায় মন্দাকিনী নদীর তীরে অবস্থিত। পুরো অঞ্চলটিকে ঘিরে থাকে হিমালয়ের তুষারাবৃত শৃঙ্গ। কেদারনাথ শহরে অবস্থিত কেদারনাথ। এখানকার তীব্র শীতের জন্য মন্দিরটি কেবল এপ্রিল মাসের শেষ থেকে কার্তিক পূর্ণিমা অবধি খোলা থাকে। তীব্র শীতের কারনে ছয় মাস খোলা থাকে মন্দির। এই অঞ্চলের প্রাচীন নাম ছিল কেদারখণ্ড। কেদারনাথ মন্দিরে যাওয়ার জন্য কোনো সড়কপথ নেই। মহাভারতেও কেদারনাথের উল্লেখ আছে। মন্দির যত প্রাচীন হয়, ততই সেই মন্দির নিয়ে রহস্য দানা বাঁধতে থাকে। এই মন্দিরের উৎপত্তি সম্পর্কেও নানা অজানা তথ্য রয়েছে। সব শ্রেনীর মানুষ এই মন্দিরে আসেন। এমনকি মুসলমানরাও আসেন। কেদানাথের প্রকৃতি আপনাকে মুগ্ধ করবেই।

কথিত আছে, শিবের বয়স যত, কেদারখণ্ড ততটাই প্রাচীন।
রহস্যে মোড়া কেদারনাথের মন্দির। যেখানে ৬ মাস বন্ধ থাকে পূজার্চনা। এই মন্দির যখন বন্ধ করে নীচে নেমে আসা হয় তখন প্রধান পুরোহিত সেখানে একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখে আসেন। কথিত আছে, ৬ মাস পর যখন মন্দিরের দরজা খোলা হয় তখনও দেখা যায় সেই প্রদীপ জ্বলছে। বহুবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়েছে কেদারনাথ মন্দির। পাহাড় ধ্বসে ক্ষতি হয়েছে গোটা রাজ্যের। অথচ কেদারনাথের নন্দী মূর্তির গায়ে আঁচড়ও লাগেনি। শীতকালে প্রচণ্ড তুষারপাতের কারণে কেদারনাথের সব পথ বন্ধ হয়ে যায় মন্দাকিনী ও সরস্বতী নদীর ধারে তৈরি হয় কেদারনাথ মন্দির। এখানে প্রচুর পর্যটক আসে প্রতি বছর। সুন্দরবনের চেয়ে এখানে আসা পর্যটকদের সংখ্যা বেশী। যারা হেঁটে যেতে পারেন না তাদের জন্য আছে ঘোড়ার ব্যবস্থা। আবার যারা ঘোড়া ভয় পায় তাদের জন্য অন্যান্য ব্যবস্থা আছে। কাজেই ভয়ের কিছু নেই।

শিব ভারতের সকলের অতি প্রিয় দেবতা।
ভারতের বিভিন্ন মন্দির যখন পশ্চিম বা পূর্ব মুখী করে গড়ে তোলা হয়েছে, সেখানে কেদারনাথ মন্দির কিন্তু দক্ষিণমুখী, যার ফলে উত্তরদিক থেকে আসা কোন জলস্রোত মন্দিরের ক্ষতি করেত পারেনি। সেই সঙ্গে এই মন্দিরের চূড়াগুলি একটির সঙ্গে একটি শক্ত লোহার রড দিতে যুক্ত করা আছে। তাই বন্যার প্রতিকূল পরিবেশ মন্দিরের কোন ক্ষতি করতে পারেনি। তবে ওই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় একটি বড় পাথর এসে মূল মন্দিররে পেছনে এসে থমকে যায়। যা পাহাড় থেকে আসা নুড়ি পাথর যুক্ত জলকে মন্দিরের কোন ক্ষতি করতে দেয়নি। সেই পাথরকে এখনও গভবানের অংশ রূপেই পূজা করা হয়। বহুবার এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক দূর্যোগ হানা দিয়েছে। অসংখ্য বাড়িঘর বন্যায় ডুবে গেছে, ভেঙ্গে গেছে। কিন্তু অলৌকিক ভাবে মন্দির গুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি। যারা মুভি দেখতে পছন্দ করে তারা 'কেদারনাথ' মুভিটা দেখে নিতে পারেন। ভালো লাগবে। সত্য ঘটনার উপর নির্মিত হয়েছে মুভিটি।

কেদারনাথ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত পূণ্যভূমি।
প্রতিটা ধর্মপ্রান হিন্দুদের ইচ্ছা থাকে মৃত্যুর আগে একবার হলেও কেদারনাথ মন্দিরে যাওয়া। গুপ্তকাশী জেলায় অবস্থিত কেদারনাথ। একাধিক পাহাড় পেরিয়ে, কখনও চোখজুড়োনো সবুজ, কখনও উষ্ণ ঝরনার স্রোত আর সীমাহীন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে দিয়ে কেদারনাথ যেতে হয়। হাওড়া থেকে ট্রেনে হরিদ্বার/ঋষিকেশ/নাজিবাবাদ। তারপর মোটরপথে রুদ্রপ্রয়াগ ও শোনপ্রয়াগ হয়ে গৌরীকুণ্ড। শোনপ্রয়াগ থেকে কেদারনাথ হেলিকাপ্টারে করেও যাওয়া যায়।

মন্দির থেকে দু’কিলোমিটার আগেই কেদারনাথ বেসক্যাম্পে গড়ে উঠেছে থাকার সরকারি আস্তানা। ওখানে মালপত্র রেখে সরস্বতী নালা পেরিয়ে কেদারনাথ মন্দির। কেদারনাথ যাত্রার আগে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। কাউন্টারে নিজে উপস্থিত থেকে নথীভূক্ত করানো যায় নিজের নাম। অথবা অনলাইনেও করাতে পারেন। আপনাকে দেওয়া হবে একটি ট্রিপ কার্ড। গোটা যাত্রায় যে কার্ড আপনাকে সঙ্গে রাখতে হবে। মেডিক্যাল সেন্টার থেকে ডাক্তারের সার্টিফিকেট পাওয়ার পরই আপনি কেদারনাথ ভ্রমণে যেতে পারবেন। যদি সেই রিপোর্টে কোনও কঠিন অসুখের কথা বলা হয় সেক্ষেত্রে আপনার হেঁটে কেদারনাথ যাওয়া যাবে না।

একবার ভেবে দেখুন-
হিমালয়ের কোলে ১১৭৫৮ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত কেদারনাথ। ২০১৩ সালের ১৭ই জুন সকালে এক প্রলয়ঙ্কর বন্যায় বিধ্বস্ত হয় কেদারনাথ উপত্যকা, শুধু মন্দির বাদে প্রায় সবকিছুই ভেসে যায় মন্দাকিনীর জলে। ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায় কেদারনাথ পৌঁছানোর প্রাচীন পায়ে চলা পথটাও। উত্তরাখণ্ড সরকার, ভারত সরকার, নেহেরু ইন্সটিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং এবং ইণ্ডিয়ান আর্মির অক্লান্ত পরিশ্রমে ২০১৪ সালেই তৈরি করা শুরু হয় কেদারনাথের নতুনপথ। বিমানপথে এখানে পৌঁছতে হলে দেরাদুন এয়ারপোর্টে নামতে হবে। সেখান থেকে কেদারের দূরত্ব ২৩৯ কিলোমিটার।

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



