somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

নরেন্দ্র মোদী

২৮ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তিনি কোন স্কুলে পড়েছেন জানা যায় না।
কোন কলেজে পড়েছেন (বা আদৌ পড়েছেন কিনা) জানা যায় না। তাঁর কোনো সহপাঠী খুঁজে পাওয়া যায় না। তাঁর কোনো শিক্ষক খুঁজে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ স্বাধীনতার পর থেকে তিনিই একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যার শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে কিচ্ছু জানা যায় না। এবং সর্বশেষ খবর, স্টেশনে চা বিক্রী করে এসেছেন বলে আজীবন দাবী করে আসলেও এখন জানা যাচ্ছে তার বাবার চায়ের দোকান নিয়েও কোনো তথ্য নেই রেলের কাছে। অর্থাৎ তাঁর পুরো জীবনটাই গা ছমছমে রহস্যে মোড়া। সন্ন্যাস জীবন কাটানোর সময় নরেন্দ্র মোদির মাত্র দুটি পোশাক ছিল। খুব কাজ পাগল মোদি। দিন রাত মিলিয়ে মাত্র ৩ ঘণ্টা ঘুমান। সকাল ৭টায় তিনি অফিসে ঢুকেন, রাত ১০টা বা আরও রাত পর্যন্ত সেখানে কাজ করে তবে বাড়ি ফেরেন।

বলুন তো, এমন একজন রহস্যময় মানুষকে ভালো না বেসে উপায় আছে? স্বাধীনতার পর থেকে ভারতে এখনও অবধি যারা যারাই প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তাদের সবার বিষয়ে চাইলেই সব তথ্য পাওয়া যায়। অমন রহস্যরোমাঞ্চহীন দিনের আলোর মতো ফ্যাটফেটে সাদা আলুনি প্রধানমন্ত্রী বাপু আমার মোটেই ভালো লাগে না, যে যাই বলুন। রহস্যময় মোদীজিই তাই আমার হিরো। আর সবচেয়ে বড় কথা, এত অস্বচ্ছতা যার জীবন নিয়ে, তিনিই আবার স্বচ্ছ ভারতের ডাক দেন। কী মিষ্টি মিষ্টি সব ব্যাপার না? স্বামী বিবেকানন্দ ও ইন্দিরা গান্ধীকে নিজের আইডল বা আদর্শ মনে করেন নরেন্দ্র মোদি। নরেন্দ্র মোদি বেশ রক্ষণশীল বটে। তবে শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে একেবারে আধুনিক।

শোনা যায়, ছোট বেলায় স্বামী বিবেকানন্দের জীবন তাকে বিশেষ ভাবে অনুপ্রাণিত করে। কমন ম্যান নরেন্দ্র মোদী গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে সতেরো বছর বয়সে ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তিনি রাজকোট শহরে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন ও তারপর বেলুড় মঠ যাত্রা করেন। এরপর তিনি আলমোড়া শহরে স্বামী বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠিত আশ্রমে যোগ দেন। দুই বছর পরে তিনি বাড়ি ফিরে এসে আমেদাবাদ শহরে নিজের কাকার চায়ের দোকানে যোগ দেন। এই সময় তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূরশিক্ষার মাধ্যমে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক এবং গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ভারতীয় সেনাদের স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করেছিলেন তিনি। বয়স তখন তার মাত্র ১৫ বছর।

মোদী নিরামিষাশী, অন্তর্মুখী এবং কর্মযোগী পুরুষ। তিনি গুজরাটী ভাষায় কবিতা লিখতে ভালোবাসেন। হিমালয়ে দু’বছর কাটানোর সময় মোদিজির সাথে দেখা হয়েছিল এক সাধুর, যার পরামর্শে তিনি ফিরে এসেছিলেন। নরেন্দ্র মোদী যখন ১২ বছরের ছিলেন তখন তার মা তার জন্ম কুন্ডলী এক জ্যোতিষকে দেখিয়ে ছিলেন। তখন তার কুন্ডলী দেখে সাধু মহারাজ বলেছিল যে, হয় আপনার ছেলে রাজা হবে। না হয় নতুন শঙ্করাচার্যের মতো বড় সন্ত হবে। আর এই নিয়ে চিন্তিত ছিলেন মোদীজির মা কারণ ছোটবেলা থেকেই মোদীজি সাধুদের প্রতি খুবই আকর্ষিত ছিলেন তাই তার মায়ের মনে হত মোদীজি সাধু হয়ে যেতে পারে তাই কম বয়সে তিনি তার বিয়েও করিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর বাড়ি থেকে সংসার জীবন শুরু করার জন্য মোদিজির ওপর চাপ দেওয়া হতে থাকে তখন তিনি বাড়ি ছেড়ে হিমালয় চলে যান।

হিমালয়ের গিয়ে মোদীজি সাধুর মত দু বছর কাটিয়েছিলেন সেই সময়কালে মোদীজিকে এক সাধু জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে উনি এখানে কেনো এসেছেন। তখন তার উত্তরে মোদীজি বলেছিলেন,”ঈশ্বর খোঁজ এর জন্য উনি হিমালয় এসেছেন“। নরেন্দ্র মোদী রাজনৈতিক জীবন শুরু করার আগে সন্ন্যাসী হিসাবে কলকাতা বেলুড় মঠ ও গিয়েছিলেন। গুজরাটের মেহসানা জেলার এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জন্ম তাঁর। চা-বিক্রেতা বাবার চার সন্তানের মধ্যে মোদি ছিলেন তৃতীয়। শৈশবে বাবাকে সাহায্য করতেন বেদনগর রেলস্টেশনে; যাত্রীদের কাছে হেঁটে হেঁটে চা বেচতেন মোদি। নরেন্দ্র মোদির শখের মধ্যে রয়েছে ছবি তোলা। নিজের মোবাইলে সেলফি তুলেও গণমাধ্যমে বেশ প্রচারিত হন। নিজের তোলা ছবির প্রদর্শনীরও আয়োজন করেছেন তিনি।

তার কোনো ঘনিষ্ট বন্ধু নেই।
ইংরেজিতে বেশ দক্ষ। তবে ভারতের অন্যান্য শীর্ষ রাজনীতিকরা যেমন ইংরেজি বলেন, মোদি ইংরেজিতে একদমই কথা বলেন না। অসম্ভব শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর মমতা রয়েছে তার মায়ের প্রতি। প্রতিটি কাজে, উদ্যোগে প্রথমেই মায়ের পদতলে যাবেন মোদি। তারপরই শুরু। প্রতিদিনই ইন্টারনেটে নিজের খবরগুলো দেখে নেন তিনি। ফেসবুক ও আর ট্যুইটার ব্যবহারেও মোদি খুবই আধুনিক। ১৯৬৭ সালে গুজরাটে যখন ভয়াবহ বন্যা হয়, তখন ১৭ বছরের মোদি স্বেচ্ছায় বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করেন।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:৩৬
২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুবাই কি দুর্নীতিবাজদের গন্তব্য হয়ে উঠেছে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩০

কয়েক বছর আগে, কানাডার বেগম পাড়ার কথা ব্যারিস্টার সুমন ভাই বেশ ফলাও করে প্রকাশ করেছিলেন। বাংলাদেশী দূর্নীতিবাজদের আখড়া হয়ে উঠেছিলো কানাডার ঐ অঞ্চল। আজ পুসিলশের সাবেক প্রধান বেনজির দুবাইয়ে ধরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্ব দ্বীন হাসপাতাল ও বাংলাদেশ ফেসবুক বিচারক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৫৪



সম্প্রতি আদ্ব দ্বীন হাসপাতালের ঘটনা কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ফেসবুক বিচারকগণ রায় দিয়েছেন “আদ্ব দ্বীন হাসপাতাল লাইসেন্স বাতিল করা যাবে না”।




...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×