
রোহিঙ্গারা আমাদের গলার কাঁটা হয়েই থাকবে?
তিন বছর তো হয়ে গেলো! প্রতিদিন ৬০/৭০ জন করে রোহিংগাদের শিশু জন্ম নিচ্ছে। রোহিংগাদের বর্তমান অবস্থা দেখে ভয় হচ্ছে। মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে এরা ভয়াবহ সমস্যা সৃষ্টি করবে। বড় ধরণের সমস্যা অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। এনজিও গুলোর মুল কাজই বাংলাদেশকে বিপদে ফেলা। আমেরিকা ও ইউরোপের আশ্রয়প্রার্থিদের মত রোহিঙ্গাদেরও পুরুষ-মহিলা ও শিশুদের আলাদা আলাদা ক্যাম্পে রাখা দরকার ছিলো। প্রতিটা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে স্মার্ট ফোন এবং দেশিও অস্ত্রসস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা দরকার। মায়ানমারের ভাব-ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে, মায়ানমার এদের আর কোনদিনই ফেরত নেবে না। তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে ভারত ও চীনের ভুমিকা সম্পূর্ণ নেতিবাচক। এখন, তাদের কাছ থেকে কিছু আশা করা ভুল হবে। তারা চায় রোহিঙ্গারা এ দেশের মূল জনস্রোতের সাথে মিশে গিয়ে এ দেশে থেকে যাক। অথচ আমরা তো ধনী দেশ নই। এটাও সত্য ২০১৭ সালে শিশু ও মহিলারা যেভাবে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলো, বাধা দেয়া অসম্ভব ছিলো। এবং সীমান্ত থেকে ওদের পেছনে যাবার পথ ছিলো না।
আগামী দুই বছরে রোহিংগাদের সংখ্যা ১৭ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।
এইভাবে চলতে থাকলে কোটিতে গড়াতে বেশী সময় লাগবে না। আসলে আপনি বা আমি যতই আলোচনা করি না কেন কিছুই হবে না, কারণ যাদের এসব নিয়ে কিছু করার ক্ষমতা আছে তারাই তো অদক্ষ, অযোগ্য এবং অপরিণামদর্শী। বিনা দ্বিধায় বলা যায়- বিভিন্ন রকমের সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়তই তৈরি হতে থাকবে এদেরকে ঘিরে। চীন নিজের স্বার্থ ছাড়া কখনো কারো বন্ধু রাষ্ট্র হয় না। চীনারা যেদেশে বিনিয়োগ করে সেই দেশ আর চীনা বলয় থেকে বের হতে পারে না। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ময়দানে রোহিঙ্গা সমস্যার মতো যেকোনো সমস্যাতেই বাংলাদেশের একটি পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো প্রকৃত বন্ধু রাষ্ট্র আছে কি? ভারত আছে নিজেদের সমস্যা নিয়ে। আমাদের সমস্যা নিয়ে তাদের ভাবার সময় নাই। আমরা আসলে গর্তে পড়ে গেছি। এদিকে করোনা তো আছেই। তাছাড়া আমাদের সরকার বুদ্ধিমান নয়।
মায়ানমার হারামি দেশ।
মায়ানমার আমাদের চেয়ে আয়তনে সাড়ে তিন গুণ বড়, লোক সংখ্যা ৩ গুণ কম। ওদের প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের থেকে বহু গুন বেশী, মাথাপিছু আয় অর্ধেকের কম। চীন সুযোগ মত তেল, গ্যাস ও ভুমি নিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা কি কাউকে এই সুযোগ দিয়ে নিজের পক্ষে আনতে পারবো? আমাদের পররাষ্ট্রনীতি বরাবরই নতজানু টাইপের। নিজের ঘর নিজেরা ঠিকমতো সামলাতে না পারলে তো পাড়া প্রতিবেশীর টাউট মাস্তান এসে নাক গলাবেই, প্রভাব খাটাবেই। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান এজন্যই জরুরী। এবং নিজদের ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতি, বিদেশী বিনিয়োগ এবং নিজেদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঠিক থাকা প্রয়োজন যেটা আমাদের নেই। কারন সরকার দক্ষ, যোগ্য ও পরিশ্রমী লোক নেই। সত্য কথা হলো- রোহিংগা সমস্যার সমাধানে এই করণাকালে কেউ আজ আমাদের পাশে নেই। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমাদের কূটনীতি কতটা অসহায় সেটা আবারো প্রকটভাবে ফুটে উঠছে। এদিকে রোহিংগাদের আশ্রয় দিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শান্তিতে নোবেলও পেলেন না। তিনি নোবেল পেলে তবু মনকে শ্বান্ত্বনা দিতে পারতাম।
রোহিঙ্গা ইস্যুটি বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্কুলের সংখ্যা দুইটি, মাদ্রাসা, মক্তব এর সংখ্যা উনচল্লিশটি। রোহিঙ্গারা জন্মনিয়ন্ত্রণকারী ঔষধ ও কনডম ব্যবহার করতে চায় না (সম্ভবত ধর্মীয় কারনে)। এদেরকে পিল বা কনডম দেওয়া হলে তারা সেগুলি ফেলে দেয়। আমাদের জন্য সবচেয়ে দুঃখজনক হলো- রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আন্তরিকভাবে এখন পর্যন্ত কোন রাষ্ট্র এগিয়ে আসেনি। সেই সময় ভেবেছিলাম ওদের আশ্রয় দেওয়া দরকার। ওরা মানুষ। ওদের বাঁচাতে হবে। কিন্তু আশ্রয় যে এত লম্বা সময়ের জন্য সেটা বুঝি নি। কেউ ভাছছে না- দরিদ্র একটা দেশ। এত মানুষকে খাওয়াবে কি করে? এত মানুষকে আশ্রয় দিবে কি করে? ভীষণ ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে প্রকৃতি। ওদের আশ্রয় দিয়ে কি আমরা নিজের পায়ে নিজেই কুড়াম মারলাম? অবশ্য হঠাত করে করোনা না চলে এলে, হয়তো রোহিংগাদের ফেতর যাওয়া নিয়ে কিছু একটা ব্যবস্থা হতো। আল্লাহর রহমতে একজন রোহিংগাও করোনা'তে মারা যায় নি।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



