
আমার কিছু সমস্যা আছে।
আমি যখন যার বই পড়ি সে-ই আমার কাছে প্রিয় লেখক হয়ে যায়। প্রিয় লেখকের প্রতি একদম মুগ্ধ হয়ে যাই। সুনীলের কাকাবাবু পড়লে সুনীলের প্রতি মুগ্ধ হয়ে যাই। এমন কি কাকাবাবু প্রতিও মুগ্ধ হয়ে যাই। ব্যোমকেশ বক্সীকেও খুব ভালো লাগে। গতকাল 'শজারুর কাটা' বইটা পড়লাম। খুব ভালো লাগলো, লেখক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। সমরেশ মজুমদারের অর্জুন চরিত্রটাও ভালো লাগে। হুমায়ূন আহমেদের মিসির আলি তো আমার সব সময়ের জন্য প্রিয়। তবে ফরিদুর রেজা সাগরের 'ছোট কাকু' আমার একটুও ভালো লাগে না। বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক গোয়েন্দা কাহিনীর লেখক হিসেবে মানা হয় পাঁচকড়ি দেকে। উনার গল্পে ছিলেন দুইজন প্রধান গোয়েন্দা। একজন অরিন্দম বসু আরেকজন দেবেন্দ্রবিজয় মিত্র।
বাংলা সাহিত্যে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ব্যোমকেশ’ খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তিনি সাধু ভাষায় লিখতেন। তারপর সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা। ব্যোমকেশ বক্সীর প্রথম আবির্ভাব হয় 'সত্যান্বেষী' গল্পের মধ্য দিয়ে। ব্যোমকেশ প্রচুর সিগারেট খায়। তুখোড় বুদ্ধিমান।
ব্যোমকেশের মুভি গুলো দেখেছি, বইও পড়েছি। পুরো সমগ্র শেষ করতে একমাস সময় লেগেছে। লেখক ব্যোমকেশকে নিয়ে মোট তেত্রিশটি গল্প লিখেছেন। ব্যোকেশকে নিয়ে বেশ কিছু ভালো মুভি বানানো হয়েছে। প্রতিটা মুভি আমি তিনবার করে দেখেছি। সত্যজিৎ রায়ের নিজ হাতে গড়া চরিত্র ফেলুদা। ফেলুদার পুরো নাম প্রদোষচন্দ্র মিত্র। ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সন্দেশ পত্রিকায় “ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি” প্রথম প্রকাশিত হলে চারদিকে সাড়া পড়ে যায়। ফেলুদার মোট ৩৫ টি সম্পূর্ণ এবং ৪ টি অসম্পূর্ণ গল্প এবং উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।
'মাসুদ রানা' বাংলাদেশের সাহিত্যিক কাজী আনোয়ার হোসেনের তৈরি চরিত্র। ১৯৬৬ সালে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রথম বইটির নাম ছিল ধ্বংস পাহাড়। ব্যোমকেশ, ফেলুদা আর মিসির আলি পড়ার পর মাসুদ রানা আর ভালো লাগে নি। আমাকে মোটেও টানে নি। এক অনবদ্য কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র হল 'কাকবাবু'। কাকাবাবুর আসল নাম রাজা রায়চৌধুরী। কাকাবাবু মধ্যবয়েসি এক গোয়েন্দা। তিনি ভারত সরকারের প্রত্নতত্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা। কাকাবাবু একবার আফগানিস্তানে গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। তারপর থেকেই কাকাবাবুর এক পা ভাঙ্গা। হাঁটেন ক্র্যাচে ভর দিয়ে। দারুন বুদ্ধিমান কাকাবাবু। কাকাবাবুর সাথে থাকে সন্তু। সন্তুর বন্ধু একজন বন্ধু আছে জোজো নাম। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় মোট ৩৬ টি কাকাবাবুর কাহিনী লিখেছেন।
টেনিদা, ঘনাদা আর প্রফেসর শঙ্কু এদেরকে ঠিক আমার গোয়েন্দা মনে হয় না। টেনিদা থাকেন কলকাতার পটলডাঙায়। তার মুখের গল্প শুনতে অনেকে ভিড় করে। তুখোড় গল্প বলিয়ে তিনি। ফুটবল মাঠে যেমন সেরা তিনি। আবার ক্রিকেট খেলার ক্যাপ্টেন। কেউ বিপদে পড়েছে সেখানে টেনিদা নেই- এটা হতে পারে না।
প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ‘মশা’ গল্পে প্রথম ঘনাদা ওরফে ঘনশ্যাম দাসের দেখা পাই। ঘনাদা ৭২ নং বনমালী লস্কর লেনে একটি মেসে থাকেন। মেসের প্রতিবেশী শিবু, শিশির, গৌর আর সুধীর এই চার যুবককে নিয়েই তার সব কাহিনি। ঘনাদা নিজের জীবনের নানা অভিযান সম্পর্কে আজগুবি ও অবিশ্বাস্য গল্প মুখে মুখে বানিয়ে শোনান। তবে বানানো গল্পের ভেতর বাস্তবের শক্ত ভীত থাকে।
প্রফেসর শঙ্কুকে ভালো লাগে না। তিনি একজন পদার্থ বিজ্ঞানী ও আবিষ্কারক। অকুতোভয়, আত্মভোলা শঙ্কু ৬৯টি ভাষা জানেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



