somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

বই পড়ুয়া

০২ রা অক্টোবর, ২০২০ রাত ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



'পুতুলনাচের ইতিকথা' এই বইটা সমস্ত বই পড়ুয়ারা অবশ্যই পড়েছেন। এক সাধারণ গ্রাম গাওদিয়া আর তার সাধারণ মানুষদের নিয়ে এ উপন্যাসের গল্প। বজ্রাঘাতে হারু ঘোষের মৃতদেহ আবিষ্কার- দৃশ্য দিয়ে উপন্যাসের শুরু আর মাটির টিলার ওপর উঠে শশী ডাক্তারের সূর্যাস্ত-দর্শনের শখের অতৃপ্ততা দিয়ে উপন্যাসের সমাপ্তি। শশী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। পেশায় সে ডাক্তার। এক হিসেবে এই কাহিনি শশী ডাক্তারেরই কাহিনি। লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মীমাংসিতভাবেই বিজ্ঞানমনস্ক জীবনে বিশ্বাসী। তাঁর জীবনপাঠ থেকে অন্তত তা-ই অনুমেয়। তিনি নিজেই বলেছেন- 'সত্যই তো আর পুতুল নয় মানুষ। অদৃশ্য শক্তি মানুষের আঙ্গুলে বাঁধা সুতোর টানে সত্যই তো মানুষ পুতুলের মত নাচে না'। মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা বিশ্বাস ও সেই বিশ্বাসের কাছে ও সংস্কারের কাছে উপায়হীন আত্মসমর্পণই মানুষকে পুতুল করে দেয়।

'রাসূল (স) এর পারিবারিক জীবন' বইটি লিখেছেন ধর্মীয় লেখক মাওলানা আব্দুর রহীম। বইটিতে মানব জীবনের সমস্ত সমস্যা নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। বইটি পড়েছি, তবে ভালো লাগে নাই। বইয়ের নাম- 'mp3'। যারা অঙ্ক ভালোবাসেন বা অংককে ভয় পান তাদের জন্য এই বই। লেখক খাইরুল স্যার। বিসিএস এর জন্য বইটি ভালো। তাছাড়া এই বইতে ম্যাথ গুলো খুব সুন্দর করে দেওয়া। বইয়ের নাম- 'রিচ ড্যাড ও পুওর ড্যাড' লেখক- রর্বাট কিয়োসাকি। দুই বাবা, একজন ধনী আর একজন গরিব। এই দুই পিতার জীবন আদর্শ, চিন্তা চেতনার গুলো পার্থক্যের সন্নিবেশ ঘটিয়ে লেখক বুঝাতে চেয়েছেন ধনী কিভাবে ধন অর্জন করে আর নির্ধনরা অর্থ সংকটের ট্রাপে কিভাবে আটকে গিয়ে পুরো জীবন গরীব থাকে। 'নীল ঘুর্ণি' সুচিত্রা ভট্টাচার্য এর বই। এই বইয়ের বিশেষত্ব হলো এতে অসম প্রেমের পরিণতি দেখানো হয়েছে। এক পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্রী তার এক অধ্যাপকের প্রেমে পড়ে যায়। বার্ধক্যের সীমায় দাঁড়ানো সেই অধ্যাপকের পক্ষে ছাত্রীর উত্তপ্ত যৌবন অগ্রাহ্য করা সম্ভব হয় না। ফলে ঝড়ের মতো প্রেম আসে। কিন্তু প্রেম যেমন ঝড়ের মতো আসে, তেমনি রংধনুর মতো চলে যায়।

'যখন নামিবে আঁধার' হুমায়ুন আহমেদ। বইটা গতকাল আরেকবার পড়লাম। মিসিরআলি সিরিজের একটা বই। এই বইটা আগেও তিনবার পড়া। সাসপেন্সটা অসাধারণ। একদম সোজা হয়ে বসতে বাধ্য করে। হুমায়ূন আহমেদের অন্যান্য বইয়ের মতোনই হাতে নিলে না শেষ করে উঠার ক্ষমতা নেই। হালকা অমীমাংসিত থাকে অবশ্য। তারপরও অস্থির। হুমায়ূন আহমেদের আরো কিছু বই- 'নবনী', 'রোদনভরা এ বসন্তে', 'মেঘ বলেছে যাব যাব', 'বৃষ্টি বিলাস', 'আজ আমি কোথাও যাবো না' এই সমস্ত বই গুলো আমাকে কেমন একটা অনুভূতি দিয়েছে। আসলে বসের সব বই'ই মন কেমন যেন করিয়ে দেয়।

আমার প্রিয় তিনটা হবি হচ্ছে- স্কিল অর্জন, ভ্রমন করা ও বই পড়া। 'প্রথম আলো' সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়'। এই উপন্যাসের শুরুতেই দেখা যায়- রবি ঠাকুর উঠতি কবি হিসেবে নাম করতে শুরু করেন, তার লেখার প্রেরণা ছিলেন তাঁর নতুন বউঠান শ্রীমতী কাদম্বরী দেবী। এই বইতে অনেক-অনেক মহৎ মানুষের কথা রয়েছে। ঐতিহাসিক বিষয়কে গল্পের মত করে কী সুন্দর লেখা! লেখক অনেক পড়াশোনা করে এই বই লিখেছেন বোঝা যায়। সুনীলের 'সোনালী দুঃখ', 'স্বপ্ন সম্ভব', 'কোথায় আলো', 'নদীর পারে খেলা', 'আকাশ পাতাল', 'অচেনা মানুষ', 'উন্মোচনের মুহূর্তে' পড়তে পড়তে হাতে এসে গিয়েছিলো 'পূর্ব-পশ্চিম'। পূর্ব পশ্চিম সমস্ত বই পড়ুয়ারাই পেড়েছেন। আমি তিনবার পড়েছি।


উপন্যাসটির নাম 'গোরা' লেখক-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যখন বয়স খুব কম ছিল তখন গোরা উপন্যাস পড়ে ভীষণ বিরক্ত হয়েছিলাম। এক পর্যায়ে মাঝের বেশ কিছু পৃষ্ঠা না পড়েই শেষের কয়েকপাতা পড়ে উপন্যাসটি রেখে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তী জীবনে এই গোরা উপন্যাসই হয়ে ওঠে আমার অন্যতম প্রিয় একটি উপন্যাস। গোরা উপন্যাসে যে গভীর জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে তা প্রকৃতপক্ষে বাংলা সাহিত্যে বিরল।

আমি প্রচুর পড়ি- কথা সত্য। কিন্তু কিছুই মনে রাখতে পারি না। আজ পড়লে কাল ভুলে যাই। অনেক প্রিয় বই ছিল, সে গুলোর নামও আজ মনে করতে পারি না। সময় আর পরিস্থিতির কারণে সবই ম্রিয়মাণ অবস্থায় আছে। অবশ্য জীবন মানেই দ্বন্দ্বের সমন্বয়। এটা শিখতে আমাকে বই পড়তে হয়নি। এটা বুঝি, সাহিত্যে ভালো দখল না থাকলে- জীবনে কোনো কিছুতেই সাফল্য আসে না। এমন কি একজন ভালো মানুষও হওয়া যায় না। 'শেষ বিকেলের মেয়ে' লেখক, জহির রায়হান। কেন্দ্রীয় চরিত্র কাসেদ। যে কোনো অন্তর্মুখী ছেলেরাই কাসেদকে চিনে নিতে পারবে। সে মনের আঙিনায় একের পর এক নায়িকার সাথে প্রেমের রিহার্সাল চালায়। কিন্তু কোনো রিহার্সালই কি শেষ পর্যন্ত মঞ্চস্থ হয়? জানতে হলে ৮৪ পৃষ্ঠার ছোট্ট বইটি পড়ে নিতে হবে। অবশ্যই ভালো লাগবে।

আহমদ ছফার লেখা ‘পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ’ বইটি পড়লে মনে হবে একজন মানুষের জন্য গাছ লাগানোই পৃথিবীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হতে পারে। এই বইটি পড়ে গাছ গাছড়ার ব্যাপারে আমার আজন্ম যে আগ্রহ ছিল তা অনেক বেড়ে গিয়েছে। এই বই পড়ে নিজেকে অনেক সুখি এবং আত্মতৃপ্ত মনে হয়। একটি গাছ লাগানো তার বেড়ে ওঠার সাথে মানুষের যে কতো আত্মিক সম্পর্ক আছে তা বইটি পড়লে পরিস্কার বুঝা যায়। রাস্তার বাচ্চাদের নিয়ে ছফার স্কুল বানানো এছাড়া প্রখ্যাত শিল্পী এস এম সুলতানের কিছু ঘটনা আছে বইটিতে। অনেকদিন পর শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের একটি বই পড়লাম। তাও আবার ছোটদের! বইয়ের নাম 'জং বাহাদুর সিংহর নাতি'। শীর্ষেন্দু আমার প্রিয় লেখক। তার বই আগে গোগ্রাসে গিলতাম। তার রসবোধের আমি বড় ভক্ত। সেটাতে যে এখনও বিন্দুমাত্র মরচে পড়ে নি, তা এই বই পড়ে বুঝতে পারলাম। ছোটবেলার মতই আনন্দ নিয়ে পড়েছি।

বই 'অঙ্ক ভাইয়া' লেখক- চমক হাসান। বইটি গনিতের এক অসাধারণ বই। বইটিকে কেবল গনিতের বললে ভুল হবে কেননা এতে অত্যন্ত নাটকীয়তার সাথে একটি গল্প তুলে ধরা হয়েছে। আসলে বইটিতে গনিতের নানা মজার মজার প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। পিথাগোরাস দিয়ে আইনস্টাইনের সুত্র! পাইয়ের মান অতঘর জেনে লাভ কি? সাইন, কস নামগুলো কোথা থেকে এলো?
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০২০ রাত ২:৫৮
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেসি’ নামক মুগ্ধতা

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪২


লিওনেল, রোজারিও থেকে ঢাকা । বার্লিন থেকে নিউইয়র্ক । ২০০৬ থেকে ২০২৬ । উড়ন্ত কৈশোর থেকে পড়ন্ত যৌবন । ফুটবল পায়ে তোমার প্রতিটা পদক্ষেপের সাথে আমরা ছিলাম । আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×