somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমার জীবনের গল্প- ১

০২ রা অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৫:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১৯৭৯ সালের জানুয়ারী মাস।
আমি তখন প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে চাকুরী করি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাষ্টার্সে অধ্যায়নরত একই সাথে সেন্ট্রাল ল' কলেজে এলএলবি'র ছাত্র। অর্থাৎ নৈশ ক্লাশে দু জায়গায় পড়ি। হঠাৎ একদিন আমার ভগ্নিপতি আবুল হাসেম সাহেব আমার ঢাকার বাসায় এসে হাজির হয়ে বললেন, বাবা খুব অসুস্থ। তোমাকে দেখতে চান। আমি তার কথায় বিশ্বাস করে ওনার সাথে বাড়িতে যাই। যেয়ে দেখি, বাবা তেমন অসুস্থ নন, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা।

আমার বাবা আমাকে কিছু না বলে আমার মাষ্টার চাচা আঃ ওহাব কাকার কাছে পাঠালেন। তিনি বললেন- শোন, মিয়া ভাইয়ের অনেক বয়স হয়েছে, কখন কি হয়! তিনি চান তোমাকে বিয়ে করাতে। আমি বললাম, আমার পড়ালেখাই তো শেষ হয়নি সুতরাং বিয়ের বিষয় এখনই চিন্তা করছি না। ওনারা আমার কোন কথা শুনলেন না। ঘটক ডাকলেন। ঘটক সাহেব তার ভাগ্নির কন্যাকে দেখানোর জন্য আমাদের বরিশাল শহরে নিয়ে গেলেন।

আমার মনের মধ্যে অন্য চিন্তা মেয়ে যদি অপ্সরাও হয় তবুও না বলব। আমার সঙ্গীদের সবার মেয়ে দেখে পছন্দ হলো। আমি পথে ফিরতে ফিরতে সফর সঙ্গীদের বললাম, মেয়ে আমার পছন্দ নয়। বাড়িতে ফিরেও আমার মাকে বললাম, মেয়ে আমার পছন্দ হয়নি। মা বললেন, তোমাকে এই মেয়েকেই বিয়ে করতে হবে। আমার মাকে আমার এক চাচিমা এই মেয়ে সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়ায় আমার মা এই মেয়েকেই ছেলের বউ করার সিদ্ধান্তের কথা আমাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিল। আমি মাকে বললাম, মেয়ে যদি অন্ধও হয়- যেহেতু তুমি বলেছ, তাই তাকেই আমি বিয়ে করব।

এই মেয়েটি আর কেউ নন- তিনি হলেন, আমার জীবন সঙ্গী।
আমার ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের সুখ দুঃ খের অংশিদার সুরাইয়া জাহান রুনু। ও তখন চাখার কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্রী। আমাকে সে পাগলের মত ভালবাসত। তখন তো মোবাইলের যুগ ছিলো না। পত্রালাপই ছিল যোগাযোগের মাধ্যম। আমি খুব ছোট্ট চিঠি লিখতাম, যা ওকে অতৃপ্ত রাখত, দেখা হলে আমাকে সে বলত, এতো ছোট্ট চিঠি কেন লিখি। তোমার চিঠি আমার বান্ধবীদের দেখাতে পারি না। বলে রাখা ভালো, কলেজের ঠিকানাতেই চিঠি লিখতাম। আমাকে যখন ও কাছে পেত তখন কতশত অনুযোগ করত, যা আজকাল যুগলদের দেখা যায় না। এখন সবই রাসায়নিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সে আমার মাকে অসম্ভব শ্রদ্ধা ও ভালবাসত। আমার মা শেষ জীবনে অসুস্থতার কারনে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আমার স্ত্রী মায়ের শিয়রে রাতের পর রাত, দিনের পর দিন কাটিয়েছে। কখনো তার চোখমুখে অস্বস্তিকর ভাব আমি দেখিনি, যা আমাদের সমাজে একেবারে দুর্লভ।

আজ আমি বড্ড অসহায়।
আমার প্রেরণা, আমার সুখ দুঃখের সাথী- ২০০৮ সালে ৮ ই নভেম্বর, ক্যান্সারের কাছে হার মেনে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে জীবন যুদ্ধে হেরে গিয়ে আমাকে সুখ স্মৃতিতে ভাসিয়ে চলে গেছে। আমি আমৃত্যু ওকে ভুলবো না, ভোলা যাবেও না। তুমি শান্তিতে থেকো।


(লেখাটি আমার নয়। আমার শ্বশুর সাহেবের লেখা। উনি আমার অনুরোধে ইদানিং লেখালেখি শুরু করেছেন।)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৫:২৪
২৫টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেসি’ নামক মুগ্ধতা

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪২


লিওনেল, রোজারিও থেকে ঢাকা । বার্লিন থেকে নিউইয়র্ক । ২০০৬ থেকে ২০২৬ । উড়ন্ত কৈশোর থেকে পড়ন্ত যৌবন । ফুটবল পায়ে তোমার প্রতিটা পদক্ষেপের সাথে আমরা ছিলাম । আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×