
১। ইচ্ছা করছে কাউকে কবিতা আবৃত্তি করে শোনাই। এত রাতে কাকে শোনাবো কবিতা?কেউ নেই। কোথাও কেউ নেই।
২। ঈশ্বরকে কে বলেছিল আমাকে পৃথিবীতে পাঠাতে? এবার ফিরিয়ে নাও, আমার আর ভালো লাগে না।
৩। যার দুঃখবোধ আছে, পৃথিবীর তাবৎ দুঃখ তাকেই চুম্বকের মতন নিয়ত আকর্ষণ করে। নিজের দুঃখ তো বটেই, পরের দুঃখও ।
( চাপরাশ, বুদ্ধদেব গুহ )
৪। প্রিয় বন্ধুরা অবসরে দেখুন আকাশ। অথবা পড়ুন নজরুল, রবীন্দ্রনাথ। বউ এবং বই কখনো দিবেন না বাদ। তাহলে সব বরবাদ।
৫। বুদ্ধের দর্শনের প্রধান অংশ হচ্ছে দুঃখের কারণ ও তা নিরসনের উপায়।
বুদ্ধ দুঃখ কি, দুঃখের কারণ, দুঃখ দূর করার উপায় সম্বন্ধে উপদেশ দিয়েছেন। তাঁর মতে জীবন দুঃখপূর্ণ। দুঃখের হাত থেকে কারও নিস্তার নেই। জন্ম, জরা, রোগ, মৃত্যু সবই দুঃখজনক। মানুষের কামনা-বাসনা সবই দুঃখের মূল। মাঝে মাঝে যে সুখ আসে তাও দুঃখ মিশ্রিত এবং অস্থায়ী। অবিমিশ্র সুখ বলে কিছু নেই।
৬। স্বপ্নে দেখি- আমি জাহাজে করে কোথায় যেন যাচ্ছি। জাহাজের কেবিনে শুয়ে আছি। হঠাৎ খুব হৈচৈ শুনতে পেলাম- জাহাজ ডুবে যাচ্ছে। আমি জানি না সাঁতার। আমি একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছি।
ডুবে যাওয়ার পর, একটা হাঙর আমার কাছে এসে বলল- স্যার কোনো চিন্তা নাই আমি আছি। আপনি আমার পিঠে উঠে বসুন। আমি বললাম- মশকরা করো- তোমার পিঠে তো কাঁটা। হাঙরটি হাসতে হাসতে বলল- স্যার, কাঁটার আঘাত সইবেন না মরে যাবেন সিদ্দান্ত আপনার।
৭। আমি যেদিন আমার স্ত্রীকে খুন করবো বলে ঠিক করেছিলাম, ঠিক সেদিনই অফিস থেকে আসার পথে রোড এক্সিডেন্টে আমার দুহাত হারালাম! আমার স্ত্রী এখন আমায় মুখে তুলে খাওয়ে দেয়, আমার যাবতীয় প্রয়োজনীয় লেখা লিখে দেয়। এবং আমাকে শান্তনা দেয় হাত নাই ভেবে আমি যেন কখনই কোন রকম হীনমন্যতায় না ভুগি, তার হাতকেই সবসময় যেন আমার নিজের হাত মনে করি।
৮। ৮০ বছর বয়স্ক এক বৃদ্ধ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে একবার ভাষণ দিতে ওঠেন। সকলের অনুরোধে বৃদ্ধ ভাষণ দিতে স্টেজে উঠতে যেয়ে হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যান। বৃদ্ধের এমন অবস্থা দেখে সবাই কিছুটা বিব্রত বোধ করেন। বৃদ্ধ কারও দিকে না তাকিয়ে হাসি-মুখেই ভাষণ দিতে ওঠেন এবং শুরুতেই মাইক্রোফোনের সামনে বলেন, “পড়ে গেছিলাম বলেই এখানে উঠতে পেরেছি। যখন উঠতে গিয়েছি তখন আমার ধারণা হয়েছিল এতো উঁচু জায়গার উপর আমি উঠতে পারবো না। ঠিক তাই হয়েছে- চেষ্টা করা মাত্র পড়ে গেছি। আর যখনই পড়ে গেছি তখনই মাথায় চিন্তা এসেছে আমি উঠেই ছাড়বো আর তাই উঠতে পেরেছি। তার মানে এখানে আমার জন্য পড়ে যাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তা না হলে উপরে ওঠার মতো মানসিকতার সৃষ্টি হতো না”।
৯। ভাবছি রাস্তার পাশে একটা চায়ের দোকান দেব। গরম ধোঁয়া ওঠা চা। হাজার হাজার মানূষ আমার কাছে চা খেতে আসবে। দুঃখ একটাই জীবনানন্দকে চা খাওয়াতে পারবো না। "সব পাখি ঘরে আসে- সব নদী-ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন; থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।"
আজ সন্ধ্যায় মগবাজার মোড়ে একটা গাড়ির নিচে পড়তে পড়তে বেঁচে গেলাম। যদি একটু উনিশ-বিশ হতো, তাহলে আমি এতক্ষনে স্বর্গে বসে বসে আইনষ্টাইনের সাথে বিয়ার খেতাম বা শরৎচন্দের সাথে প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে ব্যাপক আলাপ আলোচনা করতাম অথবা রবীন্দ্রনাথের সাথে চা খেতে খেতে আধুনিক ছোট গল্প নিয়ে তর্ক করতাম অথবা কার্ল মার্কসের সাথে কফি খেতে খেতে আইএস জঙ্গি বিষয়ে তার মতামত জেনে নিতাম কিংবা ওসব কিছুই না করে পরী বা হূরদের সাথে বসে আড্ডা দিতাম।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


