somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

টুকরো টুকরো সাদা মিথ্যা- ১৮৭

০২ রা অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১। ইচ্ছা করছে কাউকে কবিতা আবৃত্তি করে শোনাই। এত রাতে কাকে শোনাবো কবিতা?কেউ নেই। কোথাও কেউ নেই।

২। ঈশ্বরকে কে বলেছিল আমাকে পৃথিবীতে পাঠাতে? এবার ফিরিয়ে নাও, আমার আর ভালো লাগে না।

৩। যার দুঃখবোধ আছে, পৃথিবীর তাবৎ দুঃখ তাকেই চুম্বকের মতন নিয়ত আকর্ষণ করে। নিজের দুঃখ তো বটেই, পরের দুঃখও ।
( চাপরাশ, বুদ্ধদেব গুহ )

৪। প্রিয় বন্ধুরা অবসরে দেখুন আকাশ। অথবা পড়ুন নজরুল, রবীন্দ্রনাথ। বউ এবং বই কখনো দিবেন না বাদ। তাহলে সব বরবাদ।

৫। বুদ্ধের দর্শনের প্রধান অংশ হচ্ছে দুঃখের কারণ ও তা নিরসনের উপায়।
বুদ্ধ দুঃখ কি, দুঃখের কারণ, দুঃখ দূর করার উপায় সম্বন্ধে উপদেশ দিয়েছেন। তাঁর মতে জীবন দুঃখপূর্ণ। দুঃখের হাত থেকে কারও নিস্তার নেই। জন্ম, জরা, রোগ, মৃত্যু সবই দুঃখজনক। মানুষের কামনা-বাসনা সবই দুঃখের মূল। মাঝে মাঝে যে সুখ আসে তাও দুঃখ মিশ্রিত এবং অস্থায়ী। অবিমিশ্র সুখ বলে কিছু নেই।

৬। স্বপ্নে দেখি- আমি জাহাজে করে কোথায় যেন যাচ্ছি। জাহাজের কেবিনে শুয়ে আছি। হঠাৎ খুব হৈচৈ শুনতে পেলাম- জাহাজ ডুবে যাচ্ছে। আমি জানি না সাঁতার। আমি একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছি।
ডুবে যাওয়ার পর, একটা হাঙর আমার কাছে এসে বলল- স্যার কোনো চিন্তা নাই আমি আছি। আপনি আমার পিঠে উঠে বসুন। আমি বললাম- মশকরা করো- তোমার পিঠে তো কাঁটা। হাঙরটি হাসতে হাসতে বলল- স্যার, কাঁটার আঘাত সইবেন না মরে যাবেন সিদ্দান্ত আপনার।

৭। আমি যেদিন আমার স্ত্রীকে খুন করবো বলে ঠিক করেছিলাম, ঠিক সেদিনই অফিস থেকে আসার পথে রোড এক্সিডেন্টে আমার দুহাত হারালাম! আমার স্ত্রী এখন আমায় মুখে তুলে খাওয়ে দেয়, আমার যাবতীয় প্রয়োজনীয় লেখা লিখে দেয়। এবং আমাকে শান্তনা দেয় হাত নাই ভেবে আমি যেন কখনই কোন রকম হীনমন্যতায় না ভুগি, তার হাতকেই সবসময় যেন আমার নিজের হাত মনে করি।

৮। ৮০ বছর বয়স্ক এক বৃদ্ধ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে একবার ভাষণ দিতে ওঠেন। সকলের অনুরোধে বৃদ্ধ ভাষণ দিতে স্টেজে উঠতে যেয়ে হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যান। বৃদ্ধের এমন অবস্থা দেখে সবাই কিছুটা বিব্রত বোধ করেন। বৃদ্ধ কারও দিকে না তাকিয়ে হাসি-মুখেই ভাষণ দিতে ওঠেন এবং শুরুতেই মাইক্রোফোনের সামনে বলেন, “পড়ে গেছিলাম বলেই এখানে উঠতে পেরেছি। যখন উঠতে গিয়েছি তখন আমার ধারণা হয়েছিল এতো উঁচু জায়গার উপর আমি উঠতে পারবো না। ঠিক তাই হয়েছে- চেষ্টা করা মাত্র পড়ে গেছি। আর যখনই পড়ে গেছি তখনই মাথায় চিন্তা এসেছে আমি উঠেই ছাড়বো আর তাই উঠতে পেরেছি। তার মানে এখানে আমার জন্য পড়ে যাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তা না হলে উপরে ওঠার মতো মানসিকতার সৃষ্টি হতো না”।

৯। ভাবছি রাস্তার পাশে একটা চায়ের দোকান দেব। গরম ধোঁয়া ওঠা চা। হাজার হাজার মানূষ আমার কাছে চা খেতে আসবে। দুঃখ একটাই জীবনানন্দকে চা খাওয়াতে পারবো না। "সব পাখি ঘরে আসে- সব নদী-ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন; থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।"
আজ সন্ধ্যায় মগবাজার মোড়ে একটা গাড়ির নিচে পড়তে পড়তে বেঁচে গেলাম। যদি একটু উনিশ-বিশ হতো, তাহলে আমি এতক্ষনে স্বর্গে বসে বসে আইনষ্টাইনের সাথে বিয়ার খেতাম বা শরৎচন্দের সাথে প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে ব্যাপক আলাপ আলোচনা করতাম অথবা রবীন্দ্রনাথের সাথে চা খেতে খেতে আধুনিক ছোট গল্প নিয়ে তর্ক করতাম অথবা কার্ল মার্কসের সাথে কফি খেতে খেতে আইএস জঙ্গি বিষয়ে তার মতামত জেনে নিতাম কিংবা ওসব কিছুই না করে পরী বা হূরদের সাথে বসে আড্ডা দিতাম।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:২৭
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেসি’ নামক মুগ্ধতা

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪২


লিওনেল, রোজারিও থেকে ঢাকা । বার্লিন থেকে নিউইয়র্ক । ২০০৬ থেকে ২০২৬ । উড়ন্ত কৈশোর থেকে পড়ন্ত যৌবন । ফুটবল পায়ে তোমার প্রতিটা পদক্ষেপের সাথে আমরা ছিলাম । আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×