somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জীবনের গল্প- ৪৫

০৩ রা অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছেলেটার নাম হানিফ।
হানিফ বিয়ের অনুষ্ঠান ভিডিও করে। ভিডিও এডিটিংও করে। হানিফকে আমি চিনি। আমাদের এলাকাতেই থাকে। সে বাপ মায়ের একমাত্র সন্তান। লেখাপড়া কিছুই করে নাই। হানিফ প্রেম করে বিয়ে করেছে মাসুমাকে। বিয়ের পাঁচ বছরের মধ্যে তিনটা মেয়ে হলো তাদের। পরপর তিন মেয়ে হয়েছে। হানিফের মেজাজ খুব খারাপ। হানিফের বাপ মায়ের মেজাজও আরো বেশি খুব খারাপ। হানিফ এবং হানিফের বাপ মা তিন মেয়ের মাকে অর্থ্যাত মাসুমাকে সারাক্ষন কটূ কথা বলতেই থাকে।

যেহেতু মাসুমার দুনিয়াতে কেউ নাই।
বাপ মা ছোট বেলাতেই মারা গেছে। অবশ্য এক ভাই আছে সে থাকে নারায়ণগঞ্জ। বোনের সাথে তার ঠিক ভাবে দেখা সাক্ষাৎ ই হয় না। হানিফের বাপ মা এবং হানিফ প্রতিদিন মাসুমাকে মানসিক অত্যাচার করতেই থাকে। সমস্ত ঘরের কাজ সে একাই করে। কাপড় ধোঁয়া, রান্না করা। এবং তিন মেয়েকে সামলানো। মাসুমার কোনো উপায় নাই। সে মুখ বুঝে সব সহ্য করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এরপর মাসুমার স্বামী হানিফ মাসুমার গায়ে হাত তুলতে শুরু করলো। সকাল সন্ধ্যা খুব মারে। মাসুমাকে বাচানোর কেউ নাই।

হানিফ তার স্ত্রীকে বলল, আমি তোমাকে তালাক দিবো।
তুই তোর তিন মেয়ে নিয়ে যেখানে খুশি চলে যা। মাসুমা বলল, ছোট ছোট তিন মেয়ে নিয়ে আমি কই যাবো? ওদের খাওয়াবো কি? ওদের লেখাপড়া করাবো কিভাবে? আমার কাছে কোনো টাকা পয়সা নাই। আমার কোনো সম্পত্তি নাই। হানিফ কোনো কথাই শুনলো। সে একদিন সত্যি সত্যি মাসুমাকে তালাক দিয়ে দিলো। মাসুমাকে ছোট ছোট তিন কন্যাসহ বাসা থেকে বের করে দিলো। মাসুমা তার ভাইকে নারায়নগঞ্জ ফোন দিলো। ভাই ছুটে এলো।

মাসুমার ভাই দরিদ্র মানুষ।
জুতার কারখানাতে কাজ করে। তার নিজের ঘর সংসার আছে। তবু সে তার বোনকে ফেলে দিলো না। একটা ছোট ঘর ভাড়া নিয়ে দিলো। হাতে কিছু নগদ টাকাও দিলো। শুরু হলো মাসুমার নতুন সংগ্রাম। এই সংগ্রামে আমার, সুরভির এবং আমার ভাবীর ভুমিকা আছে। মাসুমার তিন বাচ্চাকে এখন পড়ায় আমার ভাবী। এবং ভাবী তাদের সমস্ত লেখাপড়ার খরচ দিচ্ছে এবং দিয়ে যাবে। প্রতিদিন বিকেলে মাসুমার তিন বাচ্চা ভাবীর কাছে পড়তে আসে। বাচ্চা গুলোকে দেখে মনে হয় তারা ভাবীর কাছে পড়ে আনন্দ পাচ্ছে। মাসুমার ছোট মেয়েটা আমারে সাথে বসে চা খায়। মেয়েটা বড় অদ্ভুত সে কোক ফানটা পেপসি কিছু খায় না। শুধু চা খায়।

মাসুমা বলতে গেলে সারাদিন আমাদের বাসাতেই থাকে।
সুরভিকে আর ভাবীকে ঘরের কাজে সহযোগিতা করে। এজন্য ভাবী আর সুরভি তাকে মাস শেষে কিছু টাকাও দিচ্ছে। সেদিন মাসুমার ছোট মেয়ের জন্মদিন ছিলো। ভাবী নিজের হাতে সুন্দর একটা কেক বানিয়েছে দিয়েছেন। রাতের বেলা মাসুমা একগাদা খাবার নিয়ে এসে হাজির। তার মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষ্যে সে মোরগ পোলাউ রান্না করেছে। মাসুমার হাতের রান্না ভালো। সে মাঝে মাঝে আমার ঘরে রান্না করে। সব মিলিয়ে মাসুমা এবং তার তিন কন্যা এখন ভালো আছে।

সেদিন রাস্তায় মাসুমার স্বামী হানিফের সাথে আমার দেখা।
দেখলাম হানিফের সাথে একটা মেয়ে। আমি বললাম, এই মেয়ে কে? হানিফ বলল- ওর নাম আসমা। আমি আসমাকে বিয়ে করেছি। আমি বললাম, আসমাকে বাসায় দিয়ে আসো তোমার সাথে কথা আছে। হানিফ আসমাকে বাসায় দিয়ে এলো। আমি বললাম, তোমার তিনটা মেয়ে আছে, তাদের কি দেখতে ইচ্ছা করে না? তারা কেমন আছে জানতে ইচ্ছা করে না? মাসুমাকে কেন ছেড়ে দিলে? তাকে তো তুমি ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলো! হানিফ বলল, আমি ছেলে চাই। ছেলে হলো বংশের প্রদীপ। ও আমাকে একটাও ছেলে দিতে পারে নাই। তিনটা মেয়ে দিয়া আমি কি করবো। এজন্য ওকে তাকাল দিয়ে আরেকটা বিয়ে করেছি। আমার আচমকা খুব রাগ হলো। যে কাজ আমি কখনও করি নাই সেই কাজ করে বসলাম। আমি ধাম করে হানিফকে একটা থাপ্পড় দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:০১
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×