somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ৬৯

০৮ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার কোনো অসুখ বিসুখ হয় না।
কিন্তু চারিদিকে কেউ ভালো নেই। সবারই নানান রকম সমস্যা। ডাক্তার হাসপাতাল নিয়ে ভয়াবহ ব্যস্ত। ফার্মেসী গুলোতে সব সময় ভিড় থাকেই। আমার মা গত ত্রিশ বছর ধরে অসুস্থ। প্রতিদিন সে অনেক গুলো করে ওষুধ খায়। গত ত্রিশ বছর ধরেই দেখছি। প্রতিমাসে মা তিনবার ডাক্তার দেখাবেই। এবং বছরে একবার ১০/১৫ দিন হাসপাতালে থাকবেই। গত ত্রিশ বছর ধরে এরকমই দেখে আসছি। মাঝে মাঝে আমার মনে হয় আমার মা'র হবি হচ্ছে, ওষুধ খাওয়া এবং ডাক্তার দেখানো। আমার মা ওষুধ, ডাক্তার আর হাসপাতাল করতে করতে বিরাট অভিজ্ঞ হয়ে গেছে। সে হাসপাতালের নাম দিয়েছে বাপের বাড়ি। আমাদের বাসায় গেস্ট এলে মাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে- কেমন আছেন? তখন মা তার ওষুধের বাক্স দেখিয়ে বলে- এবার বুঝেন আমি কেমন আছি। তখন মার চোখমুখ চকমক করে! এই করোনা কালে মা টানা তিনমাস ডাক্তারের কাছে যায় নি। মার কোনো সমস্যাও হয়নি।

আমার বাপকে আমি কোনোদিন ডাক্তার দেখাতে দেখি নি।
বিনদাস চলেছে। আমোদ ফুর্তি করেছে। চাকরি করেছে, ব্যবসা করেছে। গর্জন করেছে। এই শেষ বয়সে এসে আব্বার অবস্থা খুব বেশি খারাপ হয়েছে। এখন আব্বার অবস্থা খুব বেশি খারাপ। প্রতিমাসে এক দুইবার হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এবং হঠাত হঠাত সে কাউকে চিনতে পারে না। এলোমেলো কথা বলে। আব্বার বয়স ৬০/৬৫ হবে। একদিন আমি বারডেম হাসপাতালে আব্বাকে দেখতে গেলাম। বললাম, কেমন আছো? আব্বা বলল, ভালো আছি। আমি বললাম, তুমি নাকি মাঝে মাঝে কাউকে চিনতে পারো না? আব্বা বলল, কে কয় এসব? এগুলো ভুল কথা। যাই হোক, বাদ দে। চা খাবি?

আমি হাসপাতাল থেকে বের হচ্ছি। বেশিক্ষন হাসপাতালে থাকলে ধম বন্ধ হয়ে আসে আমার। আব্বা বলল, আমি তোর সাথে নিচে যাব।
আমি বললাম, কেন? আব্বা বলল, সিগারেট খাবো। ওরা আমাকে সিগারেট খেতে দেয় না।
ফুপু বললেন, দাদা রোগী বাইরে যাওয়া নিষেধ। তাছাড়া ডাক্তার আপনাকে সিগারেট খেতে সম্পূর্ন নিষেধ করেছেন। (ফুপু'ই এখন হাসপাতালে থাকেন। আব্বাকে দেখাশোনা করেন। এগারো ভাই বোনের মধ্যে আমার আব্বা'ই সবচেয়ে বড়। তাই তাকে তার ভাই বোনেরা সবাই দাদা বলে ডাকে।) আমি আব্বাকে পাঁচ টা বেনসন লাইট সিগারেট কিনে দিলাম। বললাম, ওয়াশরুমে ঢুকে ঝটপট দুটা টান দিয়ে ফেলে দিও। পুরোটা খাওয়ার দরকার নাই। ফুপু আমার উপর খুব রেগে গেলেন।

ত্রিশ বছর পর্যন্ত আমার তেমন অসুখ বিসুখ হয়নি।
বেশ ভালোই ছিলাম। ইদানিং আমি অসুস্থ বোধ করছি। প্রেশার বেড়ে যায় আমার। প্রচন্ড মাথা ব্যথা হয়। চোখেও সমস্যা হচ্ছে। এবং পা চাবায়। সম্ভবত বাতের ব্যথা। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তো আছেই। গতকাল সন্ধ্যায় হঠাত আমার প্রেশার বেড়ে গেলো। প্রেশার মাপলাম। সুরভি আমাকে দেখে ভয় পেয়ে গেলো। তেঁতুল খেলাম, লেবু খেলাম। মাথায় পানি দিলাম। লম্বা সময় পর্যন্ত মাথা ব্যথা করলো। প্রচন্ড মাথা ব্যথার কারনে দুইটা নাপা খেয়ে ফেললাম। এটা সত্য মাথা ব্যথা হলে নাপা খেলে আমার মাথা ব্যথা কমে যায়। আমার শরীর খারাপ করলে আমি সুরভিকে সাধারনত বলি না। বেচারি মন খারাপ করবে। এদিকে সুরভির শরিরও ভালো না। সুগারের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাছাড়া থাইরয়েডের সমস্যা তো আছেই।

গতকাল গিয়েছিলাম বাজারে।
সুরভি অনেকদিন ধরে বাজারের লিস্ট দিয়ে রেখেছিলো। নয় দিন পার হয়ে গেছে। এরকম কখনও হয়নি। যাই হোক, বাজার করতে গিয়ে বুঝলাম শরীরটা খারাপ লাগছে। বেশ খারাপ লাগছে। আমার চেনা একজন কুলি আছে। ওকে বললাম, বাসায় বাজার গুলো দিয়ে আসো। সে খুশি মনে চলে গেলো।

এই কুলির নাম রমিজ।
সে আমাকে আর সুরভিকে খুব পছন্দ করে। একদিন সামান্য বাজার করেছি। রমিজ বলল, স্যার আমি বাজার বাসায় দিয়ে আসি। আমি বললাম, অতি সামান্য বাজার। কুলি লাগবে না। তুমি ৫০ টা টাকা রাখো। রমিজ বলল, কাজ না করে আমি টাকা নিই না। বাজার বাসায় দিয়ে আসি। তারপর না হয় টাকা টা দিবেন। রমিজকে নিয়ে বাসায় এলাম। সুরভি রমিজকে দেখে বলল, হায় হায় ছেলে তো ঘেমে গেছে। সুরভিকে রমিজকে বসিয়ে লেবুর সরবত বানিয়ে খাওয়ালো। একটা আপেল দিলো, দুটা শার্ট দিলো, একটা গেঞ্জি দিলো। রমিজের চোখে পানি চলে এলো। এরপর রমিজ কথা দিয়েছে, সে সব সময় আমার বাজার বাসায় দিয়ে আসবে এবং এজন্য সে কোনো টাকা নিবে না। রমিজের জন্য আমার খুব মায়া হয়। আমি ব্যবসা শুরু করলে রমিজকে সাথে রাখবো।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:০৯
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেসি’ নামক মুগ্ধতা

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪২


লিওনেল, রোজারিও থেকে ঢাকা । বার্লিন থেকে নিউইয়র্ক । ২০০৬ থেকে ২০২৬ । উড়ন্ত কৈশোর থেকে পড়ন্ত যৌবন । ফুটবল পায়ে তোমার প্রতিটা পদক্ষেপের সাথে আমরা ছিলাম । আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×