somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ৭০

১১ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ ছিল এই অভাগার জন্মদিন।
৩৫ এ পা দিলাম। আর ৩৫ বছর কি বাঁচবো? পৃথিবীতে আমার জন্ম না হলেই ভালো হতো। আমি আগাগোড়া একজন ব্যর্থ মানুষ। ঈশ্বর আমার অনুমতি না নিয়েই আমাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। এই জন্য আমি ঈশ্বরকে কখনও ক্ষমা করবো না। দরিদ্র মানুষদের জন্য পৃথিবী খুব একটা আনন্দের জায়গা না। প্রতিটা মুহুর্ত লড়াই করে বাঁচতে হচ্ছে। দম বন্ধকর অবস্থা। আমি নিশ্চিত আমার মৃত্যু হবে স্ট্রোক করে। আমার মৃত্যুতে বিপদে পড়বে আমার স্ত্রী, কন্যা। তাদের জন্য কিছুই করতে পারি নি। কিছু জমা করতেও পারি নি। তারা সমুদ্রের গভীরে পরবে।

আমার সব আছে।
তবুও আমি আজ এতিম। মা, বাবা, ভাই, আত্মীয়স্বজন সব আছে আমার। তারপরও আমি এতিম জীবনযাপন করছি। আমি যে বেঁচে আছি, আমি যে এই পৃথিবীতে এখনও টিকে আছি- তা যেন আমার বাপ, মা, ভাই বা আত্মীয়স্বজনরা কেউ জানে না। তারা কেউ আমার খোঁজ নেয় না। আমি যেন অস্পর্শ। আমার ছোঁয়া লাগলে তারা যেন অশুচি হয়ে যাবেন। জন্মদাতা বাপ মা, একই রক্তের ভাই- অথচ তারা আজ কত দূরে! আসলেই দুনিয়ায়তে কেউ কারো না। আমি তো কোনো দিন আমার সন্তানকে ভুলে যেতে পারবো না। বলতে পারবো না 'হাত ধুয়ে ফেলেছি'। জাহান্নামে যাক।

বাপ থেকেও নেই। এরচেয়ে দুঃখের আর কি আছে!
অবশ্য বহু বছর ধরেই বাপের সাথে আত্মিক সম্পর্ক নেই। দেখা সাক্ষাৎও নাই। এখন বছরে একবারও মোবাইলেও কথা হয় না। হয়তো আব্বা আমাকে রাস্তায় দেখলেও চিনতেও পারবে না। মা'র সাথে কথাবার্তা দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ। তাতে মার কিচ্ছু যায় আসে না। যে ছেলের আয় ইনকাম নাই তার কাছ থেকে দূরে থাকাই ভালো। এই ছেলে ভাঙ্গা কূলার ছাই। ভাঙ্গা কূলার ছাই কোনো কাজে লাগে না। ভয়াবহ স্বার্থপর হয়েছে মা। মা যে এরকম হতে পারে তা আমার ধারনার বাইরে। আমি মরে গেলেও তার কিছু যায় আসে না। ভাইদেরও কিছু যায় আসে না। বড় কঠিন সমাজ। বেঁচে থাকাই কঠিন।

ভাইয়েরা ব্যস্ত নিজেদের সংসার নিয়ে।
আমি পড়ে গেছি গ্যাড়াকলে। আমার কথা কেউ ভাবে না। ভাবার সময় নাই। আমার সমস্যা কি কেউ জানতে চায় না। কাজেই আমি ঘোষনা দিয়েছি আমি এতিম। অবশ্য এজন্য এখন আর আমার দুঃখ হয় না। অভ্যাস হয়ে গেছে। আমি আর সুরভি একা একাই থাকি। আমি ভালো আছি কিনা, আমার কোনো সমস্যা আছে কিনা- এই খোজটুকুও বাপ মা বা ভাইয়েরা নেয় না। আত্মীয়স্বজনের কথা না হয় বাদই দিলাম। আজ তো আমার জন্মদিন- আজ কি মা বাবা একটা খোজ নিতে পারতো না! কি অন্যায় করেছি আমি! কোনো অন্যায় তো করি নাই। কোনো আঘাত তো করি নাই। বরং তারা অন্যায় করেছে। তারা আঘাত দিয়েছে।

আজ তো আমার জন্মদিন ছিলো।
মা, বাবা বা ভাইয়েরা একটা ফোন তো অন্তত পক্ষে দিতে পারতো। এক মিনিট সময় কি তারা দিতে পারতো না? জন্ম দিয়েই খালাস! আর কোন দায়দায়িত্ব নেই! কোনো খোঁজ খবর নাই! কি অপরাধ করেছি আমি? যখন চাকরি করতাম। সেলারি পেয়েই সবার আগে মার হাতে খরচের টাকা দিতাম। মাসের পর মাস। এখন দিতে পারি না। তার জন্যই কি আমাকে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে? তাদের মনোভাব আমি বুঝে গেছি, তারা চায় আমি বাসা ছেড়ে দেই। তাহলে তারা বাসা ভাড়া দিতে পারবে। সন্তানের চেয়ে টাকা বড়। আমি বাসা খুব শ্রীঘ্রই ছেড়ে দিবো। তারা যা চায় তাই করবো।

আজ ভাবী রান্না করেছেন।
দুপুরে এবং রাতে ভাবীর ঘরেই খেয়েছি। দুপুরে মুগডাল দিয়ে খিচুরী। সাথে গরুর মাংস আর ইলিশ মাছ ভাজা। সন্ধ্যায় চিকেন ফ্রাই করেছেন। কেক কেটেছি সন্ধ্যায়। অবশ্য গতকাল রাতেও একটা কেক কেটেছি। কেক কে এনেছে জানি না। রাতে ভাবি পোলাউ রান্না করেছেন। আর মূরগীর মাংস। অবশ্য রাতে আমার ভাত খেতে ইচ্ছা করছিলো- আলু ভাজি, ডাল আর ডিম ভাজা দিয়ে। কারন আজ খুব বেশি গরম পড়েছে। আমার ঘরে এসি নাই। ভাবীর ঘরের এসিটা সেই রকম মুহুর্তেই পুরো ঘর ঠান্ডা হয়ে যায়। ফোন করে অনেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ফেসবুকেও অনেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কয়েকজন বন্ধু ফোন করেছিলো বাইরে তাদের সাথে দেখা করার জন্য কিন্তু যাই নি। যেতে ইচ্ছা করে নি। তারা গাল ফুলিয়েছে।

কাছের দূরের সবাইকে জানাই অনেক ধন্যবাদ।
এবং একটি কবিতার দু'টি লাইন- ''হয়তো এই পাহাড় সমান উঁচু হতে চায় কেউ, আমি মাটিতে মেশা ঘাস হতে ভালোবাসি, যার মাড়িয়ে যাওয়ার সে মাড়িয়ে যাক ঘাস- তবু ঘাসের বুকেই জমে শিশিরবিন্দু।'' সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। করোনা ভাইরাস থেকে সাবধান থাকুন। বাইরে গেলে মাস্ক মাস্ট এবং ঘরে বাইরে যেখানেই থাকুন একটু পরপর হাত ধুয়ে নেবেন। জীবন হোক আনন্দময়। আমি সবাইকে ভালোবাসি। বাবা মা, ভাই, আত্মীয়স্বজন। এমন কি রাস্তায় যে লোকটা ভ্যান গাড়িতে করে ডাব বিক্রি করে তাকেও আমি ভালোবাসি। আমার ব্যলকনি থেকে যে হুজুরটাকে দেখা যায়। সারাদিন বাসায় একা থাকে। সারারাত জেগে বসে থাকে তাকেও আমি ভালোবাসি।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১২:২৫
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×