somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ভূতের গল্প নয়

১১ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৩:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



চ্যাংড়া বয়সে মনের মধ্যে নানান রকম ভাব আসে।
এরকম ভাব সুমনের মধ্যেও এসেছিলো। সুমন ঠিক করলো- সে কিছুদিনের জন্য দূরে কোথাও যাবে। একদম অজানা, অচেনা কোনো জায়গায়। বাসায় কিছু বলে যাবে না। বাসার লোকজন চিন্তা করলে করুক। সুমন ব্যাগ গুছানোর সময় কি মনে করে তার পাসপোর্ট আর ক্যামেরাটা সাথে নিয়ে নিলো। ভারতের ভিসা লাগানো আছে। সুমনের ইচ্ছা সে যাবে কোনো সুন্দর গ্রামে। মাটির পথ দিয়ে সে হাঁটবে। গ্রামের মানুষ গুলো হবে সহজ সরল। সুমন কমলাপুর রেলস্টেশনে চলে এলো। যে ট্রেনটা সবার আগে ছাড়বে সেটাতেই টিকিট কেটে উঠে পড়বে, এরকমই তার ইচ্ছা।। ট্রেন চলছে। তার খুব ভালো লাগছে। চলতি ট্রেন থেকে জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখতে কি যে ভালো লাগে! সুমনের মনে হচ্ছে সে সব কিছু ফেলে রেখে দূরে কোথাও চলে যাচ্ছে!

সুমন জানে না ট্রেন কোথায় গিয়ে থামবে।
ট্রেন থামলো বেনাপোল। সুমন ট্রেন থেকে নেমে কিছু খেয়ে নিলো। সে ক্ষুধা একেবারেই সহ্য করতে পারে না। বেনাপোল সুমনের ভালো লাগছে না। সে পাঁচ শ' টাকা ভ্রমন কর দিয়ে ইন্ডিয়া ঢুকে গেলো। বনগাঁ রেলস্টেশনে সুমন দাঁড়িয়ে আছে। স্টেশন ভরতি মানুষ আর মানুষ। একটা ছোট ট্রেন এলো। স্টেশনের সমস্ত লোকজন সেই ট্রেনে উঠতে চেষ্টা করছে। এমন ধাক্কাধাক্কি করে সুমনের পক্ষে ট্রেনে উঠা সম্ভব না। সে একটা বাসে উঠে পড়লো। বাস কোথায় গিয়ে থামবে সে জানে না। জানার দরকারও নেই। টানা দুই, আড়াই ঘন্টা বাস চললো। বাসের সব যাত্রীর সাথে সুমন নদীয়া জেলায় নামলো। চারিদিকে গ্রাম আর গ্রাম। প্রচুর গাছপালা। প্রচুর ধানী জমি। খাল-বিল, পুকুর সবই আছে। একদম আদর্শ গ্রাম। আসলে গ্রাম মানুষদের অদৃশ্য ভাবে টানে।

বিকেল হয়ে গেছে। কৃষকরা ঘরে ফিরছে।
সুমন বড় রাস্তায় বসে আছে। পড়ন্ত বিকেল তার কাছে ভালো লাগছে। পাখিরা নীড়ে ফিরছে। সে এর আগে কখনও নদীয়া জেলায় আসেনি। একজন ভ্যান নিয়ে সুমনের কাছে এসে থামলো। লোকটা বলল, আসুন আমার সাথে। আমি আপনাকে নিয়ে যাবে। সুমন বলল, আপনি কে? আমার নাম আলী। আমি ভ্যান চালাই। সুমন ভ্যানে উঠে বসলো। মাটির রাস্তা দিয়ে ভ্যান চলছে। ভ্যান চালক আলী বলল, আমাদের গ্রামখানি আপনার খুব ভালো লাগবে। একদম ছবির মতো সুন্দর আমাদের গ্রাম। এ গ্রামের কেউ ঝগড়া করে না। এ গ্রামে সবাই সবাইকে ভালোবাসে। সুমন বলল, আপনাদের গ্রামের নাম কি? আলী বলল, আমাদের গ্রামের নাম আনন্দপুর। এই গ্রামে মানুষের কোনো দুঃখকষ্ট নেই।

একটা ছোট বাড়িতে সুমন উঠলো।
সবে সন্ধ্যা অথচ চারিদকে গাঢ অন্ধকার। বিদ্যুৎ নেই। হারিকেন'ই ভরসা। সমানে ঝিঝি পোকা ডাকছে। সুমন চাপকল চেপে বালতি ভরলো। সেই পানিতে অনেক সময় নিয়ে গোছল করলো। চাপকলের পানি অনেক ঠান্ডা হয়। কারন এই পানি আসে মাটির গভীর থেকে। গোছল শেষ করে সুমন উঠানে বসলো। ভ্যানচালক আলী তাকে বাতাসা আর মুড়ি খেতে দিলো। বলল, রাতের খাবার দেরী হবে। আপাতত এগুলো খান। রান্না বসিয়েছি মাটির চুলায়। সাদা ভাত আর মূরগী। দেশী মূরগী। বাতাসা, মুড়ি খেয়ে বেশ আরাম পেলো সুমন। পিতলের গ্লাসে পানি খেলো। তার পেট ভরে গেছে রাতে না খেলেও চলবে। গতকাল সে ছিলো নিজের ঘরে। আর আজ সে হাজার মাইল দূরে। সম্পূর্ন অপরিচিত জায়গায়। অপরিচিত মানুষজন। তার মন্দ লাগছে না।

খুব ভোরে সুমনের ঘুম ভাঙ্গলো।
রাতে চমৎকার ঘুম হয়েছে। আনন্দপুর গ্রামে সুমন হাঁটতে বের হলো। সাথে ক্যামেরা নিতে ভুললো না। অতি চমৎকার গ্রাম। একদম খাটি গ্রাম। কি সুন্দর মাটির রাস্তা। রাস্তার দু'পাশে বিশাল বিশাল ধানক্ষেত। এত বড় বড় ক্ষেত যে ক্ষেতের শেষ মাথা আর দেখা যায় না। কৃষকরা তাদের গরু নিয়ে বের হয়ে গেছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে। কয়েকজন বুড়ো লোক হাঁটতে বের হয়েছেন। একটা চায়ের দোকান মাত্র'ই খুলল। চায়ের দোকানদার হাসিমুখে বলল, বাবু বাড়ি ফেরার পথে চা খেয়ে যাবেন। আমি চা খুব ভালো বানাই। এই অঞ্চলে আমার চায়ের ব্যাপক সুনাম আছে। সুমন মাথা নাড়লো। সুমনের দারুন লাগছে। এর মধ্যেই সুমন অনেক গুলো ছবি তুলে নিলো। সুমনের ধারনা ছবি গুলো খুব ভালো হয়েছে। একটা ভালো ছবি তুলতে পারলে মনটা খুশিতে ভরে যায়!

সুমনের সাথে রাস্তায় একটা মেয়ের সাথে দেখা হলো।
মেয়েটা দারুন সুন্দরী। সহজ সরল সুন্দর। মেয়েটা একটু সাজেনি। চোখে কাজলও দেয়নি। গ্রামের সহজ সরল একটা মেয়ে। অতি সাধারণ একটা নীল সেলোয়ারকামিজ পরে আছে। তবে ওড়নাটা হলুদ রঙের। মেয়েটার মাথা ভরতি চুল। হাতে বেশ কয়েকটা কাঁচের চুড়ি। সুমন মুগ্ধ হয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে! মেয়েটা বলল, এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? এর আগে কি কোনো মেয়ে দেখেন নি। সুমন বলল, অনেক মেয়ে দেখেছি। তবে তারা তোমার মতো সহজ সরল সুন্দর নয়। এই যে তুমি পাউডার মাখনি, চোখে কাজল দাওনি, ঠোঁটে লিপস্টিক দাওনি অথচ তোমাকে দেবীপ্রতিমার মতো লাগছে। গ্রামের সমস্ত সরলতা, সৌন্দর্য তোমার মধ্যে চলে এসেছে। তাই তোমার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি। তোমাকে দেখে মন ভরছে না। স্বাদ মিটছে না।

মেয়েটা সুমনের কথা শুনে খিল খিল করে হাসছে।
সুমন বলল, তোমার হাসিটাও সুন্দর। খুব সুন্দর। আমি চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারি, জীবনে কোনো পাপ তোমাকে স্পর্শ করেনি। তোমার চোখে মুখে স্বচ্ছতা আর পবিত্রতা খেলা করছে। মেয়েটা সুমনকে অবাক করে দিয়ে সুমনের ঠোটে চুমু দিয়ে বসলো। সুমন বলল, তোমার চুমুর স্বাদও ভীষন মিষ্টি। সুমন বলল, আমাকে বিয়ে করবে? মেয়েটা বলল, বিয়ে করতে পারি, তবে একটা শর্ত আছে। বিয়ের পর তুমি আমার সাথে এই আনন্দপুরেই থেকে যাবে। সুমন বলল, তা তো সম্ভব না। আমার বাবা মা আছেন। ভাইবোন আছে। তাদের ছেড়ে থাকাটা সম্ভব নয়। তোমাকে বিয়ে করে শহরে নিয়ে যেতে পারি। মেয়েটা বলল, আমি কখনও আনন্দপুর ছেড়ে কোথাও যাবো না। নো নেভার। সুমন চিন্তায় পরে গেলো!

(দ্বিতীয় পর্ব আগামীকাল)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৩:০৩
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×