
'All men have the stars, but they are not the same things for different people.' ভূত-প্রেত, অশরীরি, কাল্পনিক ছায়া, মৃত্যু সম্পর্কিত অলৌকিক কোন ঘটনা যেটা স্বাভাবিক ভাবে ঘটা সম্ভব নয়। এরকম বিভিন্ন ঘটনার সাথে মানুষের মনের যে সংযোগ, ক্রিয়াকলাপ অথবা অবচেতন মনের খেলা এবং চিন্তার সমন্নয় প্রভৃতি সম্পর্কে প্যারানরমাল সাইকোলজি বা প্যারাসাইকোলজি বলে। ভূত প্রেতের দিন শেষ। অশরীরী- আত্মা ইত্যাদি বস্তু দেখে ভয় পাওয়ার অনেক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। অবশ্য এরকম সমস্যা গরীবদের হয় না। এগুলো ধনীদের অসুখ। সাইকিয়াট্রিস্টদের কাছে গরীবেরা যায় না। সব সময় ভাবুন, সময় আপনার প্রতিকূলে! তাই আপনার মেজাজ নিয়ে কারো মাথাব্যাথা নেই বরং আপনাকেই অন্যদের সাইকোলজি বুঝে আগাতে হবে! অনেকদিন আগে একটা বই পড়েছিলাম- "সাইকোলজি: ইসলামি দৃষ্টিকোণ"। লেখক আইশা হামদান।
মানুষ বেশি সুন্দর কোনো বস্তুকে সহ্য করতে পারে না।
এরকমও ঘটেছে বেশি সুন্দর দৃশ্য দেখে সহ্য করতে না পেরে মানুষ আত্মহত্যা করেছে। সুন্দর কিছু দেখলে মানুষ নষ্ট করে ফেলতে চায়। যেমন ধরুন বাগানের ফুল। আমাদের প্রত্যেকের মস্তিষ্কে একটি খুনির প্রভাব রয়েছে। যেই হাত একবার মন্দ কাজ করেছে, একবার খুন করেছে, সেই হাত বারবার মন্দ কাজ করতে চায়, খুন করতে চায়। ইয়াবা যেমন একটি নেশা তেমনি অপরাধ একটি নেশার মত ব্যাপার। কেউ একবার করলে, বারবার করতে চাইবে। মানুষের মস্তিস্ক একটি অদ্ভুত অঙ্গ। আমাদের মস্তিস্ককে কোনো কাজ করতে মানা করা হলে, মস্তিস্কভাবে ওই কাজটির মধ্যে নিশ্চয় কোনো রহস্য রয়েছে। সেই রহস্য উন্মোচনের চেষ্টাই কাজটি করতে আমরা আরও বেশী উৎসাহিত হয়ে যাই।
মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হলো-
আপনি যখন কোন কিছু কিনতে যাবেন, দাম বেশি দেখলে আপনার মনে হবে জিনিশটা ভালো। আমাদের সাইকোলজি নিয়ে ব্যবসায়ীরা ভালোই লাভবান হচ্ছেন! আজকাল চাকরী শুধু পড়াশোনা দিয়ে হয় না। হয় পড়ায় এক্সেলেন্ট হতে হবে, নয়তো খুব স্মার্ট অ্যাটাটিউড হতে হবে। দুটোই থাকলে তাড়াতাড়ি চাকরী পাওয়ার চান্স থাকতে পারে। আজকাল জেনারেল লাইনে মানে শুধু গ্রেজুয়েশনে তো চাকরী দেখছি পাওয়া যায় না। মাস্টার্স ডিগ্রি বা পিএইচডি টিএইডি হলে একটা চাকরী জোটানো যেতে পারে। তমে ক্ষমতাবান মামা চাচা থাকলে ভিন্ন কথা। বিভিন্ন কোম্পানির মার্কেটিং এ সাইকোলজির ছেলেমেয়েদের নিচ্ছে। প্রোডাক্ট বানানোর আগে এই সাইকোলজিস্টরা খদ্দেরদের মানসিকতা বোঝার জন্য রিসার্চ করে। খুব ইন্টারেস্টিং।
মনস্তত্ত্ব বা সাইকোলজি জানার জন্য আপনি মিসির আলি সমগ্র পড়ে দেখতে পারেন।
অনেক কিছু শেখার আছে, জানার আছে। যদিও মানুষকে পুরোপুরি চেনার আসলেই কোনো উপায় নেই। কেননা, একজন মানুষের মন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে পারে। মানুষ খুব সহজেই নিজেকে পরিবর্তন কররেও নিতে পারে। তাই আজ আমি একজনকে যেমনটা চিনেছি, কাল হয়তো সে তেমনটা নাও থাকতে পারে। মানুষ খুবই বৈচিত্র্যময়। অনেক সময় দীর্ঘ মেলামেশার পরেও একজন আরেকজনকে চিনতে বা বুঝতে পারে না। তাই মানুষের ভাবনার মতই যে আরেকজন হবে সেটা নয়। তাই সহজ সরল সত্য কথা হলো- মানুষকে চেনার আসলেই কোন উপায় নেই। বুদ্ধিমানরা মানুষের কর্মকান্ড দেখে যেটা ধারনা করে সেটা ভুল।
হিউম্যান সাইকোলজি মারাত্বক এক জিনিস।
ধর্ম চলে বিশ্বাসে ভর করে। বিজ্ঞান চলে যুক্তি আর প্রমানের উপর ভর করে। এক অনুতে কত মোল আছে তা বিজ্ঞান অংক গুনে বলে দিতে পারে, কিন্তু পৃথীবিতে একই ধর্মে কত অসংগতি আছে তা খোদ এর ধর্মবেত্তারাই জানে না। ব্যাক্তিগতভাবে আমি 'যার ধর্মের নাম মানবতা' তাকে আমি ভালোবাসি। লেখা থাকে- 'এখানে গাড়ি পার্কিং নিষেধ'। তবুও দেখবেন ঐ স্থানেই গাড়ি পার্কিং করে রেখে দিয়েছে সমাজের কিছু মানুষ। 'বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ'! এরকম লেখা দেখলেই কিন্তু আমাদের ইচ্ছে করে যে, ঢুকেই দেখি না, কী আছে এর ভিতরে? আল্লাহর ঘরে ঢুকতে অনুমতি লাগে না। 'বাস থামানো নিষেধ'! দেখবেন ঠিক সেখানেই বাস এসে দাঁড়াবে, অথচ একটু সামনেই হয়ত বাস স্ট্যান্ড। 'ফুল ছেড়া নিষেধ'! দেখা যায় যে, ওখান থেকেই মানুষ ফুল ছিড়বে। সিগারেটের প্যাকেট এর গায়ে লেখা থাকে, 'ধূমপান মৃত্যুর কারণ'। তারপরও মানুষ নিষেধ শুনতে চায় না। নিষেধ ভাঙা আমাদের বেশী প্রিয়। আমাদের সবার সাইকোলজিই এমনই।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

