somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

হিউম্যান সাইকোলজি

১৩ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




'All men have the stars, but they are not the same things for different people.' ভূত-প্রেত, অশরীরি, কাল্পনিক ছায়া, মৃত্যু সম্পর্কিত অলৌকিক কোন ঘটনা যেটা স্বাভাবিক ভাবে ঘটা সম্ভব নয়। এরকম বিভিন্ন ঘটনার সাথে মানুষের মনের যে সংযোগ, ক্রিয়াকলাপ অথবা অবচেতন মনের খেলা এবং চিন্তার সমন্নয় প্রভৃতি সম্পর্কে প্যারানরমাল সাইকোলজি বা প্যারাসাইকোলজি বলে। ভূত প্রেতের দিন শেষ। অশরীরী- আত্মা ইত্যাদি বস্তু দেখে ভয় পাওয়ার অনেক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। অবশ্য এরকম সমস্যা গরীবদের হয় না। এগুলো ধনীদের অসুখ। সাইকিয়াট্রিস্টদের কাছে গরীবেরা যায় না। সব সময় ভাবুন, সময় আপনার প্রতিকূলে! তাই আপনার মেজাজ নিয়ে কারো মাথাব্যাথা নেই বরং আপনাকেই অন্যদের সাইকোলজি বুঝে আগাতে হবে! অনেকদিন আগে একটা বই পড়েছিলাম- "সাইকোলজি: ইসলামি দৃষ্টিকোণ"। লেখক আইশা হামদান।

মানুষ বেশি সুন্দর কোনো বস্তুকে সহ্য করতে পারে না।
এরকমও ঘটেছে বেশি সুন্দর দৃশ্য দেখে সহ্য করতে না পেরে মানুষ আত্মহত্যা করেছে। সুন্দর কিছু দেখলে মানুষ নষ্ট করে ফেলতে চায়। যেমন ধরুন বাগানের ফুল। আমাদের প্রত্যেকের মস্তিষ্কে একটি খুনির প্রভাব রয়েছে। যেই হাত একবার মন্দ কাজ করেছে, একবার খুন করেছে, সেই হাত বারবার মন্দ কাজ করতে চায়, খুন করতে চায়। ইয়াবা যেমন একটি নেশা তেমনি অপরাধ একটি নেশার মত ব্যাপার। কেউ একবার করলে, বারবার করতে চাইবে। মানুষের মস্তিস্ক একটি অদ্ভুত অঙ্গ‌। আমাদের মস্তিস্ককে কোনো কাজ করতে মানা করা হলে, মস্তিস্কভাবে ওই কাজটির মধ্যে নিশ্চয় কোনো রহস্য রয়েছে। সেই রহস্য উন্মোচনের চেষ্টাই কাজটি করতে আমরা আরও বেশী উৎসাহিত হয়ে যাই।

মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হলো-
আপনি যখন কোন কিছু কিনতে যাবেন, দাম বেশি দেখলে আপনার মনে হবে জিনিশটা ভালো। আমাদের সাইকোলজি নিয়ে ব্যবসায়ীরা ভালোই লাভবান হচ্ছেন! আজকাল চাকরী শুধু পড়াশোনা দিয়ে হয় না। হয় পড়ায় এক্সেলেন্ট হতে হবে, নয়তো খুব স্মার্ট অ্যাটাটিউড হতে হবে। দুটোই থাকলে তাড়াতাড়ি চাকরী পাওয়ার চান্স থাকতে পারে। আজকাল জেনারেল লাইনে মানে শুধু গ্রেজুয়েশনে তো চাকরী দেখছি পাওয়া যায় না। মাস্টার্স ডিগ্রি বা পিএইচডি টিএইডি হলে একটা চাকরী জোটানো যেতে পারে। তমে ক্ষমতাবান মামা চাচা থাকলে ভিন্ন কথা। বিভিন্ন কোম্পানির মার্কেটিং এ সাইকোলজির ছেলেমেয়েদের নিচ্ছে। প্রোডাক্ট বানানোর আগে এই সাইকোলজিস্টরা খদ্দেরদের মানসিকতা বোঝার জন্য রিসার্চ করে। খুব ইন্টারেস্টিং।

মনস্তত্ত্ব বা সাইকোলজি জানার জন্য আপনি মিসির আলি সমগ্র পড়ে দেখতে পারেন।
অনেক কিছু শেখার আছে, জানার আছে। যদিও মানুষকে পুরোপুরি চেনার আসলেই কোনো উপায় নেই। কেননা, একজন মানুষের মন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে পারে। মানুষ খুব সহজেই নিজেকে পরিবর্তন কররেও নিতে পারে। তাই আজ আমি একজনকে যেমনটা চিনেছি, কাল হয়তো সে তেমনটা নাও থাকতে পারে। মানুষ খুবই বৈচিত্র্যময়। অনেক সময় দীর্ঘ মেলামেশার পরেও একজন আরেকজনকে চিনতে বা বুঝতে পারে না। তাই মানুষের ভাবনার মতই যে আরেকজন হবে সেটা নয়। তাই সহজ সরল সত্য কথা হলো- মানুষকে চেনার আসলেই কোন উপায় নেই। বুদ্ধিমানরা মানুষের কর্মকান্ড দেখে যেটা ধারনা করে সেটা ভুল।

হিউম্যান সাইকোলজি মারাত্বক এক জিনিস।
ধর্ম চলে বিশ্বাসে ভর করে। বিজ্ঞান চলে যুক্তি আর প্রমানের উপর ভর করে। এক অনুতে কত মোল আছে তা বিজ্ঞান অংক গুনে বলে দিতে পারে, কিন্তু পৃথীবিতে একই ধর্মে কত অসংগতি আছে তা খোদ এর ধর্মবেত্তারাই জানে না। ব্যাক্তিগতভাবে আমি 'যার ধর্মের নাম মানবতা' তাকে আমি ভালোবাসি। লেখা থাকে- 'এখানে গাড়ি পার্কিং নিষেধ'। তবুও দেখবেন ঐ স্থানেই গাড়ি পার্কিং করে রেখে দিয়েছে সমাজের কিছু মানুষ। 'বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ'! এরকম লেখা দেখলেই কিন্তু আমাদের ইচ্ছে করে যে, ঢুকেই দেখি না, কী আছে এর ভিতরে? আল্লাহর ঘরে ঢুকতে অনুমতি লাগে না। 'বাস থামানো নিষেধ'! দেখবেন ঠিক সেখানেই বাস এসে দাঁড়াবে, অথচ একটু সামনেই হয়ত বাস স্ট্যান্ড। 'ফুল ছেড়া নিষেধ'! দেখা যায় যে, ওখান থেকেই মানুষ ফুল ছিড়বে। সিগারেটের প্যাকেট এর গায়ে লেখা থাকে, 'ধূমপান মৃত্যুর কারণ'। তারপরও মানুষ নিষেধ শুনতে চায় না। নিষেধ ভাঙা আমাদের বেশী প্রিয়। আমাদের সবার সাইকোলজিই এমনই।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:০১
১৫টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×