
আমি একজন ব্যর্থ মানুষ।
আমার জীবনে আমি সব কাজ ভুল করেছি। অবশ্য এজন্য আমার কোনো আফসোস নেই। মানুষ ভালো-ভালো মুভি দেখে, আমি দেখেছি দুনিয়ার সব ফালতু মুভি। ফালতু মুভি দেখার কারন হলো- এত টাকা পয়সা খরচ করে, এত পরিশ্রম করে পরিচালক কেন ফালতু মুভি বানিয়েছেন এটা বুঝার জন্য বছরের পর বছর ধরে ফালতু মুভি গুলো মন দিয়ে দেখে গেছি। ঠিক এভাবেই ফালতু বই পড়ে গেছি, বুঝার জন্য যে লেখক কেন এই ফালতু বই লিখেছেন। ঠিক সেভাবেই আমি দিনের পর দিন ফালতু ছবি তুলে গেছি। আমার জীবনে আমি কমপক্ষে পাঁচ লাখ ছবি তুলেছি। দুঃখের বিষয় দশটা ভালো ছবি তুলতে পারি নি। মিথ্যা বলছি না। ফ্লিকারে আমার একাউন্ট আছে। সেখানে আমার তোলা ছবি গুলো দেখলেই বুঝবেন। পাঁচ লাখ ছবি তুলেছি, কিন্তু আমার কাছে এক হাজার ছবিও এখন নেই। ছবি গুলো কোথায়? সেটা নিয়ে অন্য কোনো সময় লিখব। যাই হোক, আর কথা বাড়াবো না। এখন ছবি গুলো দেখুন। এই পোষ্টের সমস্ত ছবি গুলো আমার হুয়াওয়ে নোভা থ্রি আই মোবাইল থেকে তোলা। মোবাইলটা নষ্টের দিকে। যে কোনো সময় মোবাইল ইন্তেকাল করবে।
১।

এক মেয়ে বাইরে বের হয়েছে। তখন তার মনে হয়েছে লিপস্টিক কম দেওয়া হয়েছে। তাই সে লিপস্টিক ঠিক করে নিচ্ছে। এই মেয়েটাকে চিনতে পেরছেন? মেয়েটার নামের প্রথম অক্ষর সু।
২।

এটা আমার জন্মদিনের কেক। কেকের গায়ে 'পি' লেখা। বাসার সবাই আমাকে পি বলে ডাকে। পি মানে প্রিয়। সুরভি, পরী, ভাবী- সবাই পি বলে ডাকে।
৩।

ইদানিং আকাআকি শুরু করেছি। রাতে ঘুম আসে না। মুভি দেখতে ভালো লাগে না। তখন ছবি আঁকি। ছবি আকতে গিয়ে দেখলাম, ভালো লাগছে। আনন্দ লাগছে।
৪।

মাঝে মাঝে সুরভি আর আমি চুপি চুপি বাইরে খেতে চলে যাই। বিয়ের আগে থেকেই আমাদের এরকম অভ্যাস। হাঁ হাঁ হাঁ-----
৫।

তাইয়্যেবা। নয় মাসের বাচ্চা। সে মোবাইলের কি বুঝে? অথচ মোবাইল নিয়ে টিপাটিপি করে। তার হাত থেকে মোবাইল নিলে চিৎকার শুরু করে দেয়।
৬।

সেদিন বিকেলে সুরভিকে বললাম- চা দাও। সুরভি আগে দিলো বিস্কুট। আমি বললাম, বিস্কুট তো চাই নি। সুরভি বলল, চা হতে সময় লাগবে। বিস্কুটের প্লেটে একটা পাকা ছোট আম কি দেখতে পারছেন?
৭।

এই ছবিটা আঁকতে আমার সময় লেগেছে সাত ঘন্টা। একটানা এঁকে গেছি।
৮।

সুরভি, আমি আর পরী তিনজনে মিলেই এটা রঙ করেছি।
৯।

এটা একটা মৌ মাছি। কিন্ডার জয় নামে একটা ডিমের মতো চকলেট আছে। সেই ডিমের একপাশে থাকে খেলনা, আরেক পাশে থাকে চকলেট। এই মৌ মাছির প্রতিটা পাট আলাদা করে খোলা যায়।
১০।

তাইয়্যেবার জুতো। এডগার এলেন পো'র একটা একদম ছোট গল্প আছে। গল্পটা এই রকমঃ একজোড়া নতুন জুতো কেনা হয়। বাবা মা দোকানে গিয়ে জুতো কিনে আনেন কিন্তু সেই জুতো শিশুটা পড়তে পারে নি।
১১।

সুরভি আর ভাবী এই প্লাস্টীকের সাপ দেখে প্রচন্ড ভয় পায়। প্রচন্ড ভয়। খেলনা সাপ তবু ভয় পায়। আজিব! সেদিন এই সাপ দিয়ে ভাবীকে ভয় দেখিয়ে পাঁচ শ' টাকা নিয়েছি। হে হে---
১২।

জন্মদিনের কেক কাটি।
১৩।

তাইয়্যেবা এরকম বাঁকা হয়ে আছে কেন বুঝলাম না। আর এই ছবি আমি তুললাম কেন?
১৪।

পরীর খেলনা। পরী বলেছে সে তার সব খেলনা তাইয়্যেবাকে দিয়ে দিবে।
১৫।

এই ছবিটা কোলকাতার নিউ মার্কেট এলাকা থেকে তুলেছি।
১৬।

পরী সারাদিনে তার চশমা পনের বার হারায়। আর আমাকে সেই চশমা খুঁজে বের করতে হয়। এবার চশমা পেয়েছি ছাদে। পেয়ারা গাছে।
১৭।

সেদিন সুরভি বলল, তার জিলাপী খেতে ইচ্ছা করছে। নিজের হাতে বানালাম। দেখতে খারাপ হলেও খেতে মন্দ হয় নি। তাছাড়া জীবনের প্রথম জিলাপী বানিয়েছি।
১৮।

ইউটিউব দেখে আমি আনার কাটা শিখেছি। খুব সুন্দর আনার ছিলতে পারি এখন আমি।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৩:০৭