
কোরআন হাদীস আমি পড়ি।
পড়তে আমার ভালো লাগে। কোরআন এর কিছু কিছু সূরা আমার ভীষন প্রিয়। সকালে ঘুম থেকে উঠেই ইউটিউবে সূরা অর্থসহ বাংলা অনুবাদ ছেড়ে দেই। শুনতে ভালো লাগে। কিছু কিছু হাদীস আমাকে আনন্দ দেয়। কোরআনের আয়াত আর হাদীস কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে মানুষের হেদায়েতের জন্য। কোরআন আল্লাহর উপহার মানবজাতীর জন্য। কোরআনে আছে শান্তি, হাদীসে আছে সমাধান। কোরআন হাদিস যে মেনে চলবে, সে পথ হারাবে না। বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সা.) এমন এক মহান মানুষ ছিলেন, যাঁর সম্পর্কে যত জানবেন ততই অবাক হবেন, মুগ্ধ হবেন। তাঁর ক্ষমাশীলতা আর বিনয়, নম্রতা তুলনাহীন। শিক্ষা দেওয়ার সময়, ভুল শুধরে দেওয়ার সময়ও তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ বিনয়ী শিক্ষক। একটা অসাধারণ শিক্ষনীয় হাদিস শুনুন। সবার জন্যই এটা খুবই শিক্ষনীয়।
এক বেদুঈন মসজিদের ভেতরে প্রস্রাব করে দিল।
লোকেরা তাকে ধমক দিয়ে বকাবকি করতে লাগল। অনেকে তাকে মারতে উদ্যত হল। কিন্তু নবী (সা.) বললেন, ‘ওর প্রস্রাব আটকে দিও না, ওকে ছেড়ে দাও’। ও না বুঝে ভুল করেছে। বুঝিয়ে বললেই হবে। সুতরাং বেদুইনকে ছেড়ে দেওয়া হল। সে প্রস্রাব শেষ করল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে ডেকে নম্রতার সাথে, শান্তভাবে নরম গলায় বললেন, ‘এই মসজিদ কোন প্রকার পেশাব না নোংরা জিনিসের জন্য নয়। এ হলো কেবল আল্লাহ তায়ালার যিকির, নামাজ ও কুর’আন পড়ার জন্য’। বুঝতে পেরেছো? বেদুঈন তার ভুল বুঝতে পারলো। এবং ভুল স্বীকার করে নিলো।
হাদিসে আছে, নবী (সা.) বললেন-
‘ওকে ছেড়ে দাও এবং ওর প্রস্রাবের উপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। কেননা তোমাদেরকে সহজ নীতি অবলম্বন করার জন্য পাঠানো হয়েছে, কঠোরনীতি অবলম্বন করার জন্য পাঠানো হয়নি’। মানুষকে ভালোবাসতে হবে। ভুল করলে ভুল শুধরানোর সুযোগ দিতে হবে। (সুবাহানাল্লা)। খুব সুন্দর কথা। নবীজীর দেখানো পথে আমি চলতে চাই। তবেই আমার জীবন সুন্দর হবে। এবং মৃত্যুর পর আমি জান্নাত পাবো। আমি পেয়ারা নবীর উম্মত, আমি অবশ্যই বেহেশতে যাবো। যাই হোক, হাদীসটা এখনও শেষ হয় নাই। কিছুটা বাকি আছে। বাকিটুকু শেষ করি।
বেদুঈন নবীজির ব্যবহারে মুগ্ধ!
সবাই তাকে মারে, বকাজকা করে। বেদুঈন ভুল/অপরাধ করেও নবী (সা.) এর কাছ থেকে এত সুন্দর বিনয়ী ব্যবহার পেয়ে মুসলিম হয়ে যান। মুসলিম হয়ে নিয়মিত নামাজ, রোজা করছেন। পরে এই বেদুইন আবার একটা ভুল করে বসে। নামাজের দু’আতে বলেছিল, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার ও মুহাম্মাদের প্রতি রহম করো। আর আমাদের সাথে কাউকে রহম করো না’। এই কথা শুনে মুহাম্মাদ (সা.) তাকে বলেছিলেন, ‘তুমি তো প্রশস্ত আল্লাহর রহমতকে সংকীর্ণ করে দিলে! মনের সংকীর্নতা দূর করো।দুনিয়ার সবাই আল্লাহর সৃষ্টি। তাই প্রতিটা সৃষ্টিকে ভালোবাসতে হবে। সবার মঙ্গল চাইতে হবে।
এত ভুলের পরেও দয়ার নবী তাকে ক্ষমা করে দিলেন।
বিনয়ী শিক্ষক মুহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ (সা.) বেদুঈনের প্রতি কঠোর হোন নি। বিরক্তও হননি। নবীজীর নম্রতা ও অমায়িকতা দেখে সে স্বীকার করতে বাধ্য হয়ে বলেছিল, ‘আমার পিতামাতা মুহাম্মাদের জন্য কুরবান হোক। তিনি আমাকে গালি দেন নি, বকাবকি করেন নি এবং প্রহারও করেননি’। এরকম মহামানব সারা বিশ্বে একজনই। তিনি আল্লাহর রাসূল। দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। হাশরের ময়দানে তিনি আমাদের সেফায়েত করবেন। তার আনুকল্য ছাড়া বেহেশতে যাওয়া যাবে না। এমন কি আল্লাহকে পেতে হলে, আগে নবী (স.) কে পেতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



