somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাত তিনটা সময়টা ভালো না

১০ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আপনারা কি সাতক্ষীরার ঘটনাটা জানেন?
১৯৯০ সালে যেটা ঘটেছিলো। ভয়াবহ এক ঘটনা ঘটেছিলো। দেশে বিদেশে বেশ আলোড়ন করেছিলো ঘটনাটা সেই সময়ে। সেই সময় পত্র পত্রিকাতে সাতক্ষীরার ঘটনা প্রতিদিন লেখা হতো। বিদেশের পত্রিকাতে অনেকবার লেখা হয়েছে। ঘটনা হলো- সাতক্ষীরার গ্রাম গুলো থেকে কিশোরী মেয়ে গুলো অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছিলো। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও যুবতী, কিশোরী মেয়ে গুলো ভেনিশ হয়ে যাচ্ছিলো। যার কোনো ব্যখ্যা পাওয়া যায়নি। এমন কি বিদেশ থেকেও দুই দল বিজ্ঞানী এসেও কোনো হদিস পান নি। আমাদের সাতক্ষিরার এই ঘটনা নিয়ে বলিউডে একটা সিনেমাও হয়েছে। যাই হোক, সাতক্ষীরার এই ঘটনা আরেকদিন বিস্তারিত লিখব। আজ অন্য একটা ঘটনা বলি। ঘটনাটি আমার ছোট মামার কাছ থেকে শোনা।

মামা এবং মামার বন্ধু নাটোর গিয়েছিলো এক কাজে।
কাজ শেষ করে ছোট মামা ঢাকা ফিরছিলেন। গাড়ি চালাচ্ছিল মামার বন্ধু। ঢাকা ফেরার পথেই অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটে। তখন রাত প্রায় তিনটা। রাত তিনটা সময়টা খুব খারাপ। এই সময় বিপদ আপদ বেশী ঘটে। মামার বন্ধু দ্রুত গাড়ি চালাচ্ছেন রাস্তা ফাঁকা পেয়ে। হঠাত মামা এবং মামার বন্ধু একটা মেয়েকে দেখতে পেলেন রাস্তার ধারে দাড়ানো অবস্থায়। মামার বন্ধু বলে এত রাতে এখানে একটা মেয়ে, বোধহয় বিপদে পড়েছে, চল মেয়েটিকে সাহায্য করি। একটা অসহায় মেয়েকে সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব।

ছোট মামা বললেন, মেয়েটা এত রাতে এখানে কি করছে? তাও আবার একা একা? দেখ চারিদিকে বিল, আশেপাশে কোন বাড়িঘর নাই। তাছাড়া রাত বাজে ৩টা এত রাতে এমন নির্জন জায়গায় একটা মেয়ে! আকাশের অবস্থাও ভালো না। মনে হচ্ছে খুব বৃষ্টি হবে। একটূ পর পর বিজলি চমকাচ্ছে। এটা কি আসলেই একটা মেয়ে না ভূত? মামার বন্ধুটি ভূত প্রেত কিছুতেই বিশ্বাস করে না। সে মামাকে বলল, তুই মেয়েটাকে সাহায্য না করিস, আমি সাহায্য করবো। মনুষ্যত্ব বলে তো একটা কথা আছে। মামার বন্ধুটি গাড়ি ঘুরিয়ে সেই মেয়েটি যে জায়গায় ছিল সেই জায়গায় যেয়ে দেখে মেয়েটি হাটু গেড়ে বসে আছে। কাঁদছে। ভীষন মায়া ভরা মুখ! মেয়েটার হাত ভরতি কাঁচের চুড়ি। চোখে কাজল দিয়েছে মোটা করে। কপালে একটা টিপও আছে।

মামা এবং মামার বন্ধু মেয়েটিকে দেখে খুব মুগ্ধ!
মেয়েটির বয়স আনুমানিক ১৮ থেকে ২২ এর মধ্যে। মামা মেয়েটিকে বললেন, এত রাতে আপনি এখানে কোন বিপদ হয়েছে নাকি? মেয়েটি কোন কথা না বলে ফুপিয়ে কাদতে থাকে। মেয়েটির কান্নার কারন জানতে চাইলেও মেয়েটি কিছুই বলে না। হঠাত মেয়েটি বিলের পাশ দিয়ে হেটে যেতে থাকে। মামা বন্ধুকে বললেন, মেয়েটির সাথে যাবার দরকার নাই, বিপদ হতে পারে। কিন্তু বন্ধুটি মামার কথা না শুনে মেয়েটির পেছন পেছন যেতে থাকে। নিরুপায় হয়ে মামাও যায় তার সাথে।

খুব বিজলি চমকাচ্ছে। বাতাস বইছে বেশ।
কিছু দূর যাবার পর মেয়েটি পোটলার মত কিছু একটা দেখিয়ে হু হু করে কেদে উঠল। মামা এবং বন্ধু দেখে পোটলার ভেতর একটা কাপড়ে ঢাকা ছোট বাচ্চার লাশ। মামা এই লাশ সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়েটি চুপ করে কাদতে থাকে। মামারা ভাবে মহিলাটি হয়তো বোবা। হুট করে মামার বন্ধুটি বলে উঠে যে, চল মেয়েটিকে আমরা সাথে করে নিয়ে ঢাকা নিয়ে যাই। এই নির্জন এলাকায় এত রাতে ফেলে রেখে যাওয়া উচিত হবে না। মামা অনিচ্ছা সত্বেও রাজি হলেন।

মেয়েটি যেতে আপত্তি করলো না।
মেয়েটিকে গাড়ির পেছন সিটে বসিয়ে দেওয়া হলো।
সময় তখন রাত সাড়ে তিনটা। কিছু দূর যাবার পর গাড়ির ইন্জিন হঠাত বন্ধ হয়ে গেল। গাড়ি সারতে সারতে প্রায় চারটা বেজে গেল। গাড়ি আবার চলছে। এমন সময় মামা লুকিং গ্লাসের দিকে তাকিয়ে দেখে মেয়েটার মাথাহীন দেহ। সাথে সাথে পেছন ফিরে দেখে মহিলাটি ঠিকই আছে। কিন্তু আবার যখন লুকিং গ্লাসের দিকে তাকাল তখন একই দূশ্য দেখল। মামা তখন তার বন্ধুকে লুকিং গ্লাস দেখতে ইশারা করলো। বন্ধুটিও একই দূশ্য দেখে ভয়ে কাপতে লাগল এবং তারা দুজনই প্রচন্ড ঘামতে শুরু করল। মামা ভয়ে কাপড় দিয়ে লুকিং গ্লাস ঢেকে দিল এবং মহিলার দিকে তাকিয়ে বলল, আপনি কি কিছু খাবেন? তখন মামা দেখলেন, মেয়েটির চোখ অনেকখানি লাল এবং মৃত শিশুটি তার কোলেই রয়েছে।

মামা এবং মামার বন্ধু আল্লাহ আল্লাহ করতে থাকলেন।
কিছু দূর যেতে না যেতে মামা এবং তার বন্ধু সেই মেয়েটিকে রাস্তার পাশে দাড়ানো অবস্থায় দেখে কিন্তু মেয়েটি তো তাদের গাড়িতে বসা ছিল। মামা গাড়িটা থামিয়ে দিলেন এবং দেখলেন যে গাড়ির পেছনের সিটে মেয়েটি নাই এবং সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপারটা হচ্ছে মৃত বাচ্চাটি সিটের উপর দাড়িয়ে তাদের দিকে মুচকি মুচকি হাসছে এবং বাচ্চাটির চোখের মনি নেই। এই দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে মামার বন্ধুটি সেন্সলেস হয়ে যায়। মামা মনে সাহস আনার চেষ্টা করলেন এই ভেবে- যদি আমার কিছু হয় তাহলে আমাদের আজ রাতে এখানে পরে থাকতে হবে, কিছুতেই জ্ঞান হারানো যাবে না।

মামা এবার নিজে ড্রাইভ করতে লাগলেন।
ছোট মামা খুব ভালো গাড়ি চালান। এবং ভয়ে পেছনে তাকাচ্ছেন না। মামা যত সূরা জানেন সবগুলো পড়তে লাগলেন। হঠাত মামা পেছনের সিট থেকে খঠমট আওয়াজ শুনতে পেলেন। মামা ভয়ে ভয়ে লুকিং গ্লাসের কাপড় সরিয়ে দিয়ে দেখেন বাচ্চাটি নিজের একটা রক্তাক্ত পা চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে। এইটা দেখে মামা গাড়ির গতি আরো বাড়িয়ে দিলেন এবং মামা নাকি আরো দুই বার রাস্তায় মেয়েটিকে দাড়ানো অবস্থায় দেখেছেন।

আকাশ ফর্সা হয়ে গেছে।
কয়েকটা পাখি উড়ে যেতে দেখা গেলো। ইতিমধ্যে মামা দেখতে পেলেন রাস্তা ঘাটে মানুষ এবং যানবাহন চলছে। ঘড়িতে তখন সকাল সাত টা। মামা গাড়ি থামিয়ে পেছনে দেখেন কেউ নাই শুধুমাত্র সেই কাপড়টা ছাড়া যে কাপড়ে বাচ্চাটি ঢাকা ছিল। মামা দেখেন কাপড়ের মধ্যে কয়েকটা রক্তাক্ত হাড় পড়ে আছে। মামা রাস্তার কয়েকজন লোককে ডেকে আনলেন ব্যাপারটা দেখানোর জন্য। কিন্তু এসে দেখেন গাড়ির পেছনের সিটে কাপড়সহ রক্তাক্ত হাড় গুলো নেই!
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৪৯
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×