
১। আমাদের পাশের বাসায় একটা বিয়ে হচ্ছে।
বিয়ে বাড়িতে খুব কাজ হচ্ছে। সিড়ির টাইলস ভেঙ্গে নতুন করে টাইলস লাগানো হচ্ছে। পুরো বাড়ি রঙ করা হচ্ছে। যে ছেলেটার বিয়ে, সেই ছেলেটাকে আমি ছোটবেলায় কোলে নিয়েছি। লোডশেডিং হলেই ছেলেটা আমার কাছে দৌড়ে এসে বলতো, মামা আমাকে গল্প শুনাও। গল্প শুনতে খুব পছন্দ করতো ছেলেটা। ছেলেটার বাবা তিন মাসে আগে মারা গেছেন। সম্ভবত করোনাতে মারা গেছেন। যদিও তার পরিবার স্বীকার করছেন না। ভদ্রলোক সরকারী চাকরি করতেন। যাই হোক, ছেলেটার আর কোনো ভাইবোন নেই। বাবা অনেক টাকা এবং সম্পত্তি রেখে গেছেন। এই ছেলে সারা জীবন খেয়েও বাপের টাকা সম্পত্তি শেষ করতে পারবে না। সে যাকগে, ছেলেটা বিয়ের আগেই তার হবু স্ত্রীর সাথে কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট ঘুরে বেড়িয়েছে। এমন কি মেয়েটা বাসায় এসেও রাতের পর রাত থেকেছে। মেয়েটা বিয়ের আগেই দুইবার এবরশন করিছে। ছেলেটার মা এসে আমাদের বাসায় বিয়ের কার্ড দিয়ে গিয়েছেন। শুক্রবার বিয়ে। আমার মন ভালো নেই, আমি এ বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবো না।
২। আমাদের ডান দিকের বাসার ঘটনা।
এক পিচ্চি। ছোটবেলা তাকে কোলে করে দোকান নিয়ে গিয়ে চিপস কিনে দিয়েছি। সেই ছেলে গোপনে এক মেয়েকে বিয়ে করেছে। প্রায় প্রতিদিনই ছেলেটার সাথে আমার রাস্তায় দেখা হয়, কথা হয়। আমাকে চাচু বলে ডাকে। মাত্র সতের বছর বয়স। এক ভাই এক বোন। তার বাপ থাকে ঘর জামাই। মেয়ের বিয়ে হয়েছে, কিন্তু মেয়ে শ্বশুর বাড়ি যেতে পারে না। তাই বাপের কাছেই থাকে। এদিকে ভাইটা গোপনে বিয়ে করে ফেলেছে। সমস্যা হলো যে মেয়েটাকে করেছে সেই মেয়ের বয়স ষোল বছর। মেয়েটা প্রেগন্যান্ট। চার মাস চলছে। চারিদিকে জানাজানি হয়ে গেছে। ছেলের বাপ এই মেয়েকে কিছুতেই মেনে নিবে না। এদিকে মেয়ের বাপ মেয়েকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। ভয়াবহ অবস্থা। মেয়েটা আমার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। আমি তাকে আমার বাসায় নিয়ে এলাম। ছেলের বাপকে হাতে পায়ে ধরে বুঝালাম, সোনা ভাই, মিয়াঁ ভাই। ওদের ক্ষমা করে দিন। ছেলেমেয়ে তো ভুল করবেই, আপনি বাপ, আপনি ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহর দোহাই লাগে। প্লীজ। বাসায় ঘরোয়া ভাবে মেয়েটার বিয়ে হলো। তবে বিয়ের আগে ছেলের বাপ তার ছেলেকে ইচ্ছা মতো জুতা দিয়ে পিটিয়েছে বৌ এর সামনে। ছেলে বলেছে, এটা তার বাবার ভালোবাসার প্রকাশ।
৩। আমাদের বাসার তিনতলা ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
স্বামী স্ত্রী দুজন থাকে। বেশ ভদ্র। কোনো ঝামেলা নাই। স্বামী প্রতিদিন অফিস থেকে বাসায় ফিরেই সন্ধ্যায় স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়। খুব মিল মহব্বত তাদের মধ্যে। মানুষের স্বচ্ছ পবিত্র ভালোবাসা দেখতেও ভালো লাগে। একদিন আমাদের বুয়া বলল, তিনতলার ভাড়াটিয়া ছেলেটা মুসলমান, মেয়েটা হিন্দু। তাদের প্রেমের বিয়ে। এবং এই বিয়ে তাদের দুইজনের পরিবার মেনে নেয় নি। তাই তারা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছে। আমি বললাম, তারা প্রাপ্ত বয়স্ক এবং সুখে আছে এটাই বড় কথা। ধর্ম দিয়ে মানুষকে বিচার করা ঠিক না। প্রায় এক বছর হয়ে গেছে তাদের মধ্যে কোনোদিন ঝগড়া হয় নাই। ছেলেটা জুম্মার নামাজ পড়তে যায় পাঞ্জাবি পরে। মেয়েটা পুজোর সময় খুব সেজে মন্দিরে যায়। সাথে তার স্বামী থাকে। পুজো থেকে ফেরার সময় নানান রকম খাবারদাবার কিনে। খুব সুন্দর একটা পরিবার। সেদিন এই পরিবারে একটা শিশু জন্ম নিয়েছে। ফুটফুটে একটা রাজকন্যা হয়েছে। মেয়েটার মা গোপনে তার নাতীকে দেখতে আসে প্রায়ই। আসার সময় অনেক কিছু রান্না করে নিয়ে আসে। যাওয়ার সময় মেয়েকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষন কান্না করে। শ্বাশুরিকে বড় রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসে মেয়ে জামাই।
৪। পাঁচ বছর পর আমার এক বন্ধুর সাথে দেখা।
বন্ধু মহা ধার্মিক হয়ে গেছে। মুখ ভরতি দাড়ি। কথায় কথায় আল্লহর নাম নেয়। আল হামদুলিল্লাহ, মাশাল্লাহ ছাড়া কোনো কথাই বলে না। বন্ধু বিয়ে করেছে। সম্প্রতি তার এক ছেলেও হয়েছে। বন্ধু এখন ভালো আছে। ভালো চাকরি করছে। ইত্যাদি ইত্যাদি নানান রকম কথাবার্তা জানলাম বন্ধুর কাছ থেকে। পুরোনো বন্ধু ভালো আছে শুনে মনে মনে আমি অনেক খুশি হলাম। বন্ধু খুব করে বলল, তার বাসায় গিয়ে যেন তার ছেলেটাকে দেখে আসি।
একদিন গেলাম বন্ধুর বাসায়। বন্ধু আমাকে দেখে খুব খুশি হলো। সে আমাকে বসিয়ে রেখে বাসার নিচে গেলো। বলল, পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সে ফিরবে। বন্ধুর স্ত্রী সুমাইয়ার সাথে গল্প করছি। সুমাইয়া একটা কলেজে পড়ায়। তাদের বিয়ে হয়েছে দুই বছর। সুমাইয়া আমাকে কিছু কথা বললো, কথা গুলো শুনে আমি প্রচন্ড অবাক! সুমাইয়া বলল, তার স্বামী বিয়ের আগে থেকেই কোনো কাজ করে না। অথচ সবাইকে বলে বেড়ায়, সে বিরাট চাকরি করছে। একশ' পারসেন্ট ভাদাইম্মা। ভয়াবহ মিথ্যাবাদী। স্ত্রীর টাকায় ফুটানী করে। বিয়ে করেছে দুই বছর অথচ আজও স্ত্রীকে তুলে নিতে পারে নি। আজ নিচ্ছি, কাল নিচ্ছি করে দুই বছর পার হয়ে গেছে। এখন আমার বন্ধু তার স্ত্রীকে বলছে, তোমার ভাগের জমি আর নগদ টাকা যা আছে, সে সব নিয়ে আসো, আমরা আলাদা বাসায়া থাকবো। ধর্মে আছে স্ত্রীর সম্পত্তিতে স্বামীর হোক আছে।
৫। আমাদের এলাকায় এক ছেলে থাকে।
সে শান্ত মরিয়ম ইউনিভার্সিটি থেকে লেখাপড়া করে বের হয়েছে। শান্ত মরিয়মে পড়ার সময় তার এক মেয়ের সাথে প্রেম ভালোবাসা হয়। দীর্ঘ ছয় বছরের তাদের সম্পর্ক। ছেলেটা এখন ভালো চাকরি করছে একটা আইটি ফার্মে। মেয়েটা সরকারী ব্যাংকে চাকরি করছে। এই দুটা ছেলেমেয়েকে আমি খুব পছন্দ করি। ওদের সাথে আমার অনেকবার দেখা হয়েছে। কথা হয়েছে, গল্প হয়েছে অনেক। ছেলে মেয়ে দুজনের বয়সই বেড়ে চলেছে। সমস্যা বাধিয়েছেন ছেলের মা। সে কিছুতেই এই মেয়ের সাথে তার ছেলের বিয়ে দিবেন না। আমি বললাম, খালাম্মা মেয়ের সমস্যা কি? শিক্ষিতা মেয়ে। ভাল চাকরি করছে। খালাম্মা বললেন, এই মেয়ে বাহিরমুখী। আমার দরকার সাংসারিক মেয়ে। আমি বললাম, এই মেয়ে বাইরে বাইরে তো আপনার ছেলের সাথেই ঘুরেছে। প্রেম করেছে। তাহলে কি আপনার ছেলের বাহিরমুখী না? আর বাহিরমুখী হলে সমস্যা কি? তাছাড়া বিয়ে হয়ে গেলে তো একসাথেই থাকবে- তখন আর তারা এত বাইরে যাবে না। খালাম্মা খুব রেগে গেলেন। এবং আমাকে আর তার বাসায় আসতে নিষেধ করে দিলেন।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ৩:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



