somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল (একুশ)

১৫ ই নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শাহেদ জামালের মেজাজ প্রচন্ড খারাপ।
মেজাজ এতটাই খারাপ যে, এখন সে নিজের বাপকেও তুই করে বলে ফেলতে পারে। মেজাজ খারাপ হওয়ার যুক্তি সংগত কারন আছে। একজন মানুষের দিনের পর দিন ঘুম ঠিকভাবে না হলে মেজাজ খারাপ হবেই। সারারাত শাহেদ জামালের ঘুম আসে না। সে রাত এগারোটা-বারোটায় বিছানায় গিয়ে দেখেছে তার ঘুম আসে না। রাত একটা দুইটায়ও বছানায় গিয়ে দেখেছে তার ঘুম আসে না। তার ঘুম আসে ভোরের দিকে। ফযরের আযানের পর। খুবই হালকা ঘুম। অতি সামান্য শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়। আর একবার ঘুম ভেঙ্গে গেলে আর ঘুম আসে না। একা একা জেগে থাকা প্রচন্ড যন্ত্রনার।

ঘুম না আসার কারনে চোখেমুখে বিবর্নতার ছাপ স্পষ্ট।
গতকাল শাহেদ জামাল ফযরের আযানের পর যথারীতি বিছানায় গেলো। সাথে সাথে ঘুম এসে গেলো। বালিশে মাথা রাখার সাথে সাথে যাদের ঘুম এসে যায় তারা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানুষ। শাহেদ জামাল বেশিক্ষন ঘুমাতে পারলো না।ভোর পাঁচটা। পাশের বাসায় কে যেন খুট খুট করেই চলেছে। খুট খুট কে করছে তা শাহেদ জামাল বুঝতে পারছে। পাশের বাসায় এক ঘর জামাই থাকে। সে ছাদে বাগান করেছে। প্রতিদিন ভোরে সে ছাদে এরকম খুট খুট করে। গাছে দিবে পানি, খুট খুট শব্দ কেন হবে? তাছাড়া ঘর জামাই গাধা কি বুঝে না, এখন ঘুমের সময়। খুট খুট করলে অন্যলোকের ঘুমের সমস্যা হবে। এতটুকু কমনসেন্স কি থাকবে না মানুষের? শাহেদ জামাল মনে মনে বেশ কয়েকটা কুৎসিত গালি দিলো ঘর জামাইকে।

ঘর জামাই টানা এক ঘন্টা খুট খুট শব্দ করলো।
ইদানিং এই খুট খুট প্রতিদিনই চলছে। শাহেদ জামাল সাড়ে ছ'টায় আবার বিছানায় গেলো। এবং সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়লো। আট টার দিকে আবার প্রচন্ড খুট খুট শব্দ। এবার শব্দের মাত্রা আরো বেশি। মনে হচ্ছে কেউ যেন বাড়ি ভেঙ্গে ফেলছে। শাহেদ জামালের মনে হলো কেউ যেন হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় বাড়ি দিচ্ছে। শাহেদ জামাল বিছানা থেকে উঠে গেল সকাল আট টায়। মন মেজাজ বিক্ষিপ্ত, শরীরও বিক্ষিপ্ত। পাশের বাসায় ছাদে একটা ঘর তোলার কাজ হচ্ছে। মিস্ত্রিরা শব্দ করছে। দিনের পর দিন একই ঘটনা। এক বাসার কাজ শেষ হয়, আরেক বাসার কাজ শুরু হয়। গত বিশ বছর ধরে এরকমই চলছে।

ঢাকা শহরের বাড়ীগুলো একটার সাথে আরেকটা লাগানো।
কেউ এক আঙুল জায়গাও ফাঁকা রাখতে নারাজ। কেউ ভাবে না, তার কারনে অন্য একজনের সমস্যা হচ্ছে। কিছু বলতে গেলে পুরো লেগে যাবে। আজকাল পার্কে গিয়েও শান্তিতে ঘুমানো যায় না। ভিক্ষুকরা বড় বেশি বিরক্ত করে। আছে নানান রকম হকার। একজনের পর একজন আসতেই থাকে। এই দুনিয়ায় কোথাও কি দুদন্ড শান্তি পাওয়া যাবে না। অবশ্য শান্তি পাওয়া যায় না। শান্তি অর্জন করে নিতে হয়। একেকজন একেক রকম ভাবে শান্তি অর্জন করে নেয়। কিছু কিছু স্বপ্ন শাহদ জামালকে শান্তি দেয়, আনন্দ দেয়। এই স্বপ্ন গুলো ঘুরেফিরে শাহেদ জামাল বারবার দেখে। আর মনে মনে বলে, স্বপ্ন আসুক সত্যি হয়ে।

একটা অবাস্তব স্বপ্ন শাহেদ জামালকে শান্তি দেয়।
স্বপ্নটা এই রকমঃ শাহেদ জামাল বিরাট এক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে কাজ করছে। সে কোম্পানীর সিইও। তার সেলারি চার লাখ টাকার কিছু বেশি। কোম্পানী থেকে একটা গাড়িও দিয়েছে। একটা সুন্দরী পিএ আছে তার। সে সারাদিন হাজার বার স্যার স্যার বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলে। অফিসে শাহেদ জামালের তেমন কোনো কাজ নেই। মাঝে মাঝে মিটিং করা আর কিছু কাগজে চোখ বুলানো ছাড়া। মিটিং এ শাহেদ জামাল বেশ মজা করে। শাহেদ জামাল প্রতিদিন সময় মতো অফিস যায়। অযথা অফিস কামাই করে না। অফিস শেষে শাহেদ জামাল নীলাকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়।

শাহেদ সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদের অধিকারী কর্মকর্তা।
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের সমস্ত কার্যকলাপ তার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। অফিসে তার রুমটা অনেক বড়। একপাশে একটা লাইব্রেরীও আছে। লাইব্রেরীতে তিন শ' বই আছে। হাতে কাজ না থাকলে শাহেদ জামাল বই পড়ে। তার রুমের এসিটা খুব ভালো। মুহুর্তেই পুরো রুম ঠান্ডা হয়ে যায়। প্রতিমাসে তিনবার করে তাকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছুটতে হয়। অফিসের সমস্ত লোকেরা তাকে ভীষন ভালোবাসে। সব কিছু মিলিয়ে শাহেদ ভালো আছে। সে তার কর্মহীন বন্ধুদের খুঁজে খুঁজে বের করে চাকরী দিয়ে দিচ্ছে। অসহায় মানুষদের পাশে দাড়াচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:২৪
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×