
১। করোনা কেড়ে নিলে আরেক মহীরূহকে। জীবনের অমোঘ নিয়মে হয়তো বিদায় নিতেই হতো এক সময়। কিন্তু জীবনের এই শেষ কটা দিন করোনা ভাইরাসের থাবায় কাটাতে হলো হাসপাতালে। আজ দুপুরের আগে ছেড়ে গেলেন এই পৃথিবীর মায়া, কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে।
২। দীর্ঘ ৬০ বছর ধারাবাহিকভাবে অভিনয় করে যাওয়া, এ তো চাট্টিখানি কথা নয়। ১৯৫৮ সাল থেকে ২০২০ সাল অবধি আমৃত্যু অভিনয়-ই করে গিয়েছেন। কি মঞ্চে, কি সিনেমায় সমানভাবে সাবলীল ছিলেন। তেমনি কবিতায়, গদ্যে, আবৃত্তিতেও ছিলেন সমানভাবে সাবলীল। এক প্রকৃত মহীরুহ ছিলেন সব্যসাচী অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।
৩। বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। গত ৫ অক্টোবর অভিনেতার কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরের দিন হাসপাতালে ভর্তি হন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। দু-সপ্তাহে করোনা মুক্ত হলেও, কোভিড পরবর্তী শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন সৌমিত্র বাবু।
৪। কোন মৃত্যুই আমাকে বিচলিত করে না। তবে কোন কোন মৃত্যুতে তৃষ্ণা বেড়ে যায় বিদেহীর প্রতি। যেন আরো খানিকক্ষণ থাকার কথা ছিল! অত্যাচারী হীরক রাজার দেশের প্রতিবাদীর বিদায়। আমরা শোকাহত।
৫। 'দাদাসাহেব ফালকে, পদ্মভূষণ, লেজিয়ন ডি অনার-এর মতো একাধিক সম্মান তিনি পেয়েছেন তাঁর অভিনয় ক্ষমতার জন্য। তাঁর পরিবার, সিনেমা জগৎ এবং অগণিত ভক্তদের সমবেদনা জানাই।
৬। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের ৩৪টি সিনেমার ভিতর ১৪টিতে অভিনয় করেছেন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিটি কলেজ, আমহার্স্ট স্ট্রিট, কলকাতা) সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি প্রথম সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় ‘অপুর সংসার’ ছবিতে অভিনয় করেন।
৭। সৌমিত্র আমার খুবই প্রিয় অভিনেতা ছিলেন। ওনার তরুণ বয়সের অভিনয় ভালো লাগতো, বৃদ্ধ বয়সের অভিনয় যেন আরও বেশি ভালো লাগতো।
৮। মহানায়ক উত্তম কুমারের অকাল চ'লে যাওয়া যতোটা ভাবাতো তার বিপরীতে সান্ত্বনার বড় জায়গাটি ছিলেন সৌমিত্র চট্রোপাধ্যায়। আজ তিনিও চ'লে গেলেন।
৯। লাস্ট দেখেছি "শ্রাবণের ধারা"।
ভারতীয় বাংলা ছবি বলতেই গত দু বছর ধরে আমি শুধু সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এর ছবি খুঁজেছি, দেখেছি। প্রাক্তন ছবিতে তার আবৃত্তি আমাকে এত মুগ্ধ করেছিল! সবসময় মনে হয়েছে একটা মানুষের ভয়েস কি করে এত সুন্দর হয়!
১০। যখন বিশ্বাস করতে অভ্যস্ত হলাম যে তিনি ফিরে এসেছেন ঠিক তখনই চলে গেলেন! সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে হারানোর বেদনা আমার হৃদয় থেকে কখনও মুছবে না।
১১। একজন লড়াকুর জীবনাবসান। মৃত্যুকে জয় করতে করতে চলে গেলেন তিনি। আপনার তুলনা কেবল আপনিই ছিলেন এবং থাকবেন। একজন সৌমিত্র আর জন্মাবেনা।
১২। তাঁর কর্মজীবন অবশ্য আকাশবাণীতে শুরু ঘোষক হিসেবে। পরে বাচিক শিল্পী হিসেবেও তিনি ছাপ রাখেন। তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রকবিতা বা জীবনানন্দ আচ্ছন্ন করে কবিতারসিক বাঙালিকে। কবিতা আবৃত্তি শুধু নয়, নিজে কবিতা রচনাও করেছেন তিনি। করেছেন পত্রিকা সম্পাদনার কাজ। তবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় মূলত অভিনেতা।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



