
ইদানিং আমার মুখ দিয়ে গালি বের হয়ে আসে।
অথচ আমি গালিগালাজ ছোটবেলা থেকেই পছন্দ করি না। যারা গালি দেয় বা খারাপ কথা বলে সারা জীবন তাদের কাছ থেকে দূরে থেকেছি। আমি কোনোদিন কাউকে গালি দেই নাই। এখন চারপাশের মানুষের কর্মকান্ড দেখে অটোমেটিক আমার মুখ দিয়ে গালি বের হয়ে আসে। তখন মুখে হাত দিয়ে রাখি। গালি যেন বের হতে না পারে। আমার মতো মানুষের পক্ষে গালি দেওয়া সম্ভব না। আমার পরিবার সেই শিক্ষা দেয়নি। যদি সত্যিই কাউকে একটা গালি দিয়ে দেই, সুরভি সেটা কিছুতেই মেনে নিবে না। সহ্য করবে না। আমার নিজেরও ভাল লাগবে না। ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছা মন্দ কথা, মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকবো।
টিভি না ছেড়ে আমি ভাত খেতে পারি না।
দীর্ঘদিনের অভ্যাস। আজ দুপুরে ভাত খাচ্ছি। টিভিতে গ্রামীন ফোনের একটা বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে। অতি দুর্গম এলাকা। এক মেয়ে একটা মাটির ঘরের উঠানে বসে মোবাইল সামনে রেখে অনলাইনে পড়াশোনা করছে। তার নানা বাঁশ দিয়ে কিছু একটা বানাচ্ছেন। গ্রামীন ফোনের ফোরজি নেটওয়ার্ক সারা বাংলাদেশ ছেয়ে ফেলেছে। জীবনযাত্রার মান সহজ হয়ে গেছে। ইত্যাদি। সত্যিকথা হলো, কয়েকদিন আগে আমি বান্দরবান গিয়েছি। রোয়াংছড়ি এলাকায়। সেখানে গ্রামীন ফোনের নেটওয়ার্ক নেই। সারাদিন আমি পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারি নাই।
টিভিতে খবর দেখছি।
শীতে করোনা বেড়ে যেতে পারে। তাই সরকার আগে থেকেই অনেক ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। সরকারী হাসপাতাল গুলোতে অতিরিক্ত বেড, ডাক্তার, নার্সসহ দরকারী এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা মজুদ করে রাখা হয়েছে। খুব ভালো কথা। ভালো সংবাদ। তিন দিন আগের কথা। আমার শ্বশুর খুব অসুস্থ। টেস্ট করার পর জানা গেলো তার করোনা হয়েছে। অবস্থা খুব খারাপ। নিঃশ্বাস নিতে পারছেন না। খুব দ্রুত হাসপাতালে ভরতি করতে হবে। দশটা হাসপাতালে ফোন দেওয়া হলো, তারা বলছেন- সিট নেই। সিট নেই। যাই হোক, শেষে অনেক দেন দরবার করে একটা হাসপাতালে ভরতি করতে সক্ষম হয়েছি।
মাস্ক নিয়ে বেশ ভালো খেলা চলছে।
কোনো এক বিশেষ কারনে দেশের মানুষ মাস্ক পরতে চাচ্ছে না। সরকারও কম যায় না। অনেক সরকারী বেরসরকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ম করেছে- মাস্ক ছাড়া প্রবেশ করতে পারবে না। পাবলিকও কম ত্যাদর না। তারা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করার সময় পকেট থেকে মাস্ক বের করে পরছেন। প্রতিষ্ঠান থেকে বের হলেই মাস্ক খুলে ফেলছেন। বড় শপিংমল গুলোতেও মাস্ক ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ। সারাপথ মাস্ক ছাড়া। মার্কেটে প্রবেশের আগে মাস্ক পড়ে নিচ্ছে। আবার মার্কেট থেকে বের হওয়ার পর মাস্ক খুলে পকেটে রেখে দিচ্ছে। দেশের মানুষের মাস্কের প্রতি এত অনীহা কেন? সমস্যাটা কোথায়?
বাংলাদেশের করোনার শেষ আপডেট কি জানেন?
আমি বলে দিচ্ছি- গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত ২১। নতুন আক্রান্ত ২১১১। সুস্থ ১৮৯৩। নমুনা পরীক্ষা ১৬৪৬৯। মোট মৃত ৬২৭৫। আক্রান্ত ৪৩৮৭৯৫। এবং সুস্থ ৩৫৪৭৮৮ জন। জোর করে কি মানুষকে সচেতন করানো যায়? নিজ থেকে সচেতন না হলে? মুখে বলে এই জাতিকে সচেতন করানো যাবে না। নো নেভার। যার মুখে মাস্ক থাকবে না, তাকে পেছন থেকে মোটা লাঠি দিয়ে পিঠের মধ্যে ঠাশ ঠাশ করে বাড়ি দিতে হবে। যার মুখেই মাস্ক থাকবে না। কোনো কথা নেই। তার পিঠেই ঠাশ ঠাশ। ঠাশ ঠাশ ছাড়া এই জাতী লাইনে আসিবার নয়। আমার ক্ষমতা থাকলে, মাস্ক না পরে উল্টো না পরার পেছনে গোটা পাঁচেক যুক্তি দেয়া লোকদের শক্তি থাকলে পেটাতাম!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



