somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

মোহনা

১০ ই ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছবিটি মোহনার। মোহনা পাঠিয়েছে।
আমি মোহনাকে দেখতে চেয়েছিলাম। মোহনা এই ছবিটি পাঠিয়েছে। ছবিতে মোহনাকে দেখা যাচ্ছে না। মোহনা ইচ্ছা করেই এমন ছবিটা দিয়েছে। সে চায় না, আমি তাকে দেখি। মোহনা আমাকে শাস্তি দিচ্ছে। সতের বছর আগে মোহনাকে শেষ দেখেছিলাম। ঈশ্বর মোহনাকে সব কিছুই দিয়েছিলেন- রুপ, গুন। কিন্তু সুখ দেন নি। যেটার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিলো মোহনার। আমি শুধু এটুকুই জানি এখন মোহনা টরন্টো থাকে। একা। স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই কোনো চাকরি করছে। দেশে তার কেউ নেই, তাই বাকি জীবনটা সে টরন্টোতে কাটিয়ে দেবে। হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষেরা আসলে হারিয়ে যায় না। তারা ফিরে ফিরে আসে। এই ফিরে আসাটা ভালো না মন্দ তা আমি জানি না।

একবার আমরা কুয়াকাটা গিয়েছিলাম।
ঢাকা থেকে দুরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার। অবশ্য বরিশাল থেকে খুব কাছে মাত্র ১০৮ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে আমি আর মোহনা বাসে করে গিয়েছিলাম। তখন রাস্তাঘাট খুব উন্নত ছিলো না। ১৪ ঘন্টার বেশি সময় লেগেছিলো। আমি মোহনাকে বলেছিলাম, চলো লঞ্চে করে যাই। লঞ্চ নাকি তার ভালো লাগে না। আমি বলেছিলাম কেবিন নিবো। কেউ বিরক্ত করতে পারবে না। মোহনা আমার কথা শুনে নি। বাসে মোহনা আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গিয়েছিলো। তখন আমার নিজেকে রোমের সম্রাট বলে মনে হয়েছিলো। আমার মনে আছে- হোটেল নীলাঞ্জনায় উঠেছিলাম আমরা। রুমের জানালা দিয়ে সমুদ্র সৈকত দেখেছিলাম আমরা। কি বাতাস ছিলো সেদিন! তিনদিন ছিলাম আমরা একসাথে ছিলাম। প্রায় পুরো কুয়াকাটা ঘুরে বেরিয়েছি। বৌদ্ধ মন্দির, মিষ্টি পানির কূপ, ঝাউ বন, বার্মিজ মার্কেট, শুটকি পল্লী, ঝিনুক বীচ সবই দেখে ফেলেছি। কিছুই বাদ দেইনি।

মোহনা ছিলো বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান।
আমার ধারনা মোহনার মায়ের জন্য তার জীবনটা এলোমেলো হয়ে গেছে। মোহনার মা জোর করে মোহনার বিয়ে দিয়ে দেয় এক দুষ্টলোকের সাথে। সেই বিয়ে এক বছরও টিকে নি। মোহনা বিয়েটা করতে চায় নি। কারন তখন তার লেখাপড়া শেষ হয় নি। মোহনার স্বামী ছিলো বিরাট বদ। মদ খেতো, আবার মদ খেয়ে মোহনাকে খুব মারতো। মোহনা নিজে আমাকে একদিন কাঁদতে কাঁদতে এই কথা বলেছিলো। সেদিন আমার ইচ্ছা করছিলো- মোহনার বদমাইশ স্বামীকে খুন করে ফেলি। সেদিন মোহনা আমার বুকে তার মাথা রেখেছিলো। আমি মোহনাকে আশ্রাস দিয়েছিলাম, আমি আছি তোমার সাথে। তোমার কোনো ভয় নেই। অথচ আমি কথা রাখতে পারি নি। মোহনার বিপদের সময় তার পাশে থাকতে পারি নি।

প্রথমে মারা গেলেন মোহনার মা।
তার এক বছর পর মোহনার বাবা মারা গেলেন। তারপর মোহনা কানাডা চলে গেলো। এবং আমার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখলো না। আমি অনেক চেষ্টা করেও মোহনার সাথে যোগাযোগ করতে পারি নি। খুব অভিমানী একটা মেয়ে। এই অভিমানী মেয়েটাকেই আমি জীবনে প্রথম চুমু খাই। তার বুকে মাথা রাখি। মেয়েটা পরম মমতায় জড়িয়ে ধরেছিলো আমাকে। মেয়েটা নিজেকে সম্পূর্ন মেলে দিয়েছিলো আমার কাছে। আমিও আমার স্বচ্ছ পবিত্র ভালোবাসা আর সমস্ত মেধা, সমস্ত ভালোত্ব দিয়ে মোহনাকে কাছে টেনে নিয়েছিলাম। আমরা দুজন দুজনের মধ্যে ডুবে ছিলাম দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী। কত না আনন্দময় সময় কাটিয়েছি একসাথে। অথচ সেইসব দিন গুলোর কথা বেমালুম ভুলে গেছি আজ। যোগাযোগ করার কত রকম মাধ্যম আছে, অথচ মোহনা ইচ্ছা করেই হারিয়ে গেলো। এতকাল পরে সে কেন যোগাযোগ করলো!

গতকাল সারারাত মোহনার কথা ভেবেছি।
অথচ সুরভি আমার পাশে। স্ত্রীকে পাশে রেখে অন্য মেয়ের কথা ভাবা নিশ্চয়ই পাপ। মাঝে মাঝে পাপ করতে ইচ্ছা করে। পৃথিবীর আসল মজাই পাপে। এত বছর পর গতকাল মোহনা আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। বহু বছর আগের কথা সব ছবির মতো স্পষ্ট মনে পড়ে গেলো আমার। বুকের মধ্যে কি উথালপাতাল! কি ঝড়! মোহনা কেন এত বছর পর যোগাযোগ করতে গেলো! সে তো ইচ্ছা করেই হারিয়ে গিয়েছিলো। আমি মোহনাকে বলেছি, আমি আসবো তোমার সাথে দেখা করতে। সে মানা করেছে। যতই মানা করুক আমি যাবো। কাছে গেলে ফিরিয়ে দিতে পারবে না, জানি আমি। সেই সাহস বা শক্তি মোহনার নেই। আমি জানি। সুরভি মোহনার কথা কিছুই জানে না। আমি জানতে দিবোও না। সেটা ভালো দেখায় না। কিছু কিছু ঘটনা গোপন রাখলেই সংসারে শান্তি থাকে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:৪১
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×