
স্বামী স্ত্রীর তুমুল ঝগড়া হচ্ছে।
এই ঝগড়ার মধ্যে আমি উপস্থিত হলাম। এই বাসায় আজ আমার দাওয়াত ছিলো। নায়লা ভাবী, আর জসিম ভাই দুই জনই আমার বিশেষ পরিচিত। দীর্ঘদিনের পরিচিত। এবং আমার খুব কাছের মানুষ। তারা দুই জনই ভালো মানুষ। শিক্ষিত এবং আধুনিক। সাত বছর প্রেম করে তারা বিয়ে করেছেন। দুইজন'ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। সারা ক্যাম্পাসে তাদের জুটিকে সবাই চিনতো। মাঝে মাঝে আমিও তাদের সাথে টিএসসি'তে গিয়ে আড্ডা দিতাম। বাদাম খেতাম, চা খেতাম। বিশেষ বিশেষ দিন গুলোতে বড় কোনো রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া করতাম। নায়লা ভাবী আর জসিম ভাইয়ের বিয়ের সময় আমি সাক্ষী ছিলাম। বর্তমানে জসিম ভাই চাকরি করছেন। বেশ ভালো চাকরি। গাড়ি, বাড়ি, ফ্লাট সবই করেছেন।
নায়লা ভাবী বলছেন, আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছো তুমি।
জসিম ভাই বললেন, আঙুল নামিয়ে কথা বলো। আঙ্গুল ভেঙ্গে দিবো।
নায়লা ভাবী বললেন, আমি কি আঙ্গুল কিভাবে ভাঙতে হয় জানি না?
জসিম ভাই বললেন, বেয়াদপ মহিলা। অসভ্য মহিলা।
নায়লা ভাবী বললেন, তুমি বেয়াদপ। আর তোমার ছোট চাচা একটা বদমাইশ।
জসিম ভাই বললেন, খবরদার আমার আত্মীয়স্বজন নিয়ে কিচ্ছু বলবে না।
নায়লা ভাবী বললেন, বালের সংসারে আমি থাকবো না।
জসিম ভাই বললেন, কে থাকতে বলেছে তোমাকে? তুমি গেলে বাঁচি।
আমি কি করবো বুঝতে পারছি না!
আমি ঘরের এক কোনায় তাদের একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বসে আছি। আর ঝগড়া দেখছি। তাদের বিয়ে হয়েছে তেরো বছর। একটা মাত্র মেয়ে তাদের। মেয়ের বয়স নয় বছর। তেরো বছরে নায়লা ভাবী এবং জসিম ভাই কমপক্ষে তেরো লক্ষ বার ঝগড়া করেছেন। নায়লা ভাবী কমপক্ষে দুই শ' বার ঝগড়া করে বাসা থেকে বের হয়ে গেছেন। আবার সব্বোর্চ তিন দিন পর ফিরে এসেছেন। জসিম ভাই তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে না খেয়ে থাকেন। একসময় নায়লা ভাবী এসে ভাত মেখে জসিম ভাইকে খাইয়ে দেন। ঝগড়ার অবসান হয়। গত তেরো বছর ধরে এরকমটাই দেখছি। দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
আজকের ঝগড়া থামছেই না।
নায়লা ভাবীর গলাই বেশি পাওয়া যাচ্ছে। আমি বললাম- ভাবী, প্লীজ থামেন। ভাবী বললেন, ওকে থামতে বলেন। আমি তো চুপ করেই থাকি। সব সহ্য করে যাই। জসিম ভাই বললেন, কোন কুলক্ষনে যে এই বেয়াদপকে বিয়ে করেছিলাম। নায়লা ভাবী বললেন, তোমার সাত কপালের ভাগ্য আমার মতো মেয়ে পেয়েছো। জসিম ভাই বললেন, এমন কপালের খেতাপুরী আমি। খেতাপুরী। ধ্বংস করে দিয়েছো তুমি আমার জীবন। অসভ্য মেয়েলোক কোথাকার। এদিকে আমার পেয়েছে ক্ষুধা। রান্না ঘরে গিয়ে আমি আর মিতা খাওয়া শুরু করলাম। মিতা হচ্ছে নায়লা ভাবীর মেয়ে। অনেক কিছুই রান্না করেছেন ভাবী। আমি অর্ধেক খাওয়া শেষ করে বললাম, ভাবী কোক টোক কিছু আছে? ভাবী বললেন, ফ্রিজে আছে। পায়েশও আছে।
আমাদের খাওয়া শেষ।
অথচ তাদের ঝগড়া শেষ হয় নাই। চলছেই। দু'জনেই লাফিয়ে লাফিয়ে ঝগড়া করছেন। তাদের ঝগড়ার একটা ভালো দিক হচ্ছে- তারা মুখে ঝগড়া করেন। কিন্তু একজন আরেকজনের গায়ে কখনও হাত তুলেন না। দেখলাম, ভাবী ঝগড়া করতে করতেই ব্যাগে কাপড় ভরছেন। অর্থাৎ তিনি আবার বাপের বাড়ি যাচ্ছেন। জসিম ভাই বলছেন, যাও। যাও। তুমি গেলেই বাঁচি। ভাবী বললেন, আমাকে ফোন করবে না, খবরদার। আমাকে আনতেও যাবে না। ভাবী মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, দ্যাখ। আমাকে দেখে শিখ। গাধা থাকবি না। গাধা হলে জীবনে আমার মতো অবস্থা হবে। মিতা হা করে মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। জসিম ভাই বললেন, আমার মেয়েকে নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না। ভাবী বললেন, মেয়েটা আমার। দশ মাস পেটে ধরেছি।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


