
আমাদের বংশে সবাই দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।
আমার এমনটাই ধারনা ছিলো। আমার দাদা দাদী দুজনেই দীর্ঘদিন বেঁচে ছিলেন। আমি ভেবেছিলাম আমাদের বংশের ধারাই হলো দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা। কাজেই আব্বাও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। কোনো চিন্তা নাই। কিছু রোগ শোক তো থাকবেই। তবে সেসব আব্বা কাটিয়ে উঠতে পারবে। সমস্ত রোগ কাটিয়ে উঠতে পারলেও করোনা থেকে বাঁচতে পারলো না। তারপরও করোনা থেকে সেরে উঠেছিলো। কিন্তু হঠাত কি যে হয়ে গেলো।
আব্বাকে কোনো দিন অসুস্থ হতে দেখি নি।
কোনোদিন সে ডাক্তার দেখায় নি। তুফানের মতো চলাচল করেছে। চিৎকার করে কথা বলতো। সারা জীবন শেষে গত দুই বছর ধরে সে অসুস্থ। ডায়বেটিকস ছিলো প্রচন্ড। কিন্তু সে কোনো নিয়ম কানুন মানে নি। চায়ে চিনি খেত, সেমাই- পায়েশ কিছুই বাদ দিতো না। কেউ কিছু বললে, সে শুনতো না। মৃত্যুর একদিন আগেও সে বলেছে, হাসপাতাল আর ভালো লাগছে না। আমাকে বাসায় নিয়ে চল। আমার কিছু হয়নি। আমি ঠিক আছি।
আব্বা খুবই নরম মনের মানুষ।
আমার আব্বার সমস্ত দোষ গুন আমার ভেতর আছে। আই ফিল দ্যাট। কিভাবে কিভাবে যেন সব আমার মধ্যে চলে এসেছে। সব 'ডিএনএ'র কারসাজি নিশ্চয়ই। আমার মৃত্যুও আব্বার মতোন হবে। এরকম আমার মনে হচ্ছে। আমি সুরভিকে বলে রেখেছি। আমার অন্য ভাইদের আব্বার সাথে তেমন মিল নেই। আমি আব্বার মতো হাঁটি, খাই, কথা বলি। মানুষকে ভালোবাসি। এবং খুব সহজেই বিশ্বাস করি, আপন করে নিই। আব্বার মৃত মুখ যখন দেখলাম, মনে হলো না তিনি অসুস্থ। বেশ ভালো স্বাস্থ্য। টকটকে ফর্সা মুখ।
গতকাল সারারাত ঘুমাতে পারি নি।
বারবার আব্বার মুখ ভেসে আসছিলো চোখের সামনে। একজন মানুষকে বালিশ ছাড়া মাটিতে শুইয়ে রাখা হলো। করবের নামানোর পর কেউ একজন বলল, মুখটা পশ্চিমমুখী করে দেন। আব্বার পুরো শরীর মাটির সাথে মিশে যাবে একটু একটু করে। জন্মের পর থেকেই যাকে দেখে দেখে বড় হয়েছি। যার আদর ভালোবাসা পেয়ে বড় হয়েছি- সে মানুষটা নেই। এই না থাকাটাই ভীষন যন্ত্রনা দিচ্ছে। আব্বার করোনায় মৃত্যু না হলে- সে আরো দশ বছর বেঁচে থাকতো।
আমার অনেক গুলো চাচা ফুপু।
এদের মধ্যে সবার বড় ছিলেন আব্বা। আব্বাকে সবাই খুব মানতো। চাচা ফুপুরা কিছু করার আগে সব সময় আব্বার সাথে আলোচনা করে নিতো। আমার চাচা ফুপুরা খুব কান্নাকাটি করেছে। আমার ছয় ফুপুকে আব্বা বিয়ে দিয়েছেন। তারা সবাই ভালো আছে। সুখে আছে। এক ফুপু আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে অজ্ঞান হয়ে গেলো! আমার চাচাতো, ফুপাতো ভাইবোনের সংখ্যা অনেক। এদের কাউকে কাউকে আমি চিনিও না।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


