somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

কখন কি ঘটবে আমরা জানি না

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



লঞ্চে করে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি।
আমি আর আব্বা। ডিসেম্বর মাস বার্ষিক পরীক্ষা শেষ আমার। হাতে অনেক সময়। আব্বা বললেন, চল ঘুরে আসি। অনেকদিন তোর দাদা দাদীকে দেখি না! আমার অন্য ভাইরা গেলো না। কারন গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। এখন আমাদের গ্রামের বাড়ি যেতে দেড় ঘন্টা সময়ও লাগে না। চমৎকার রাস্তা হয়েছে। কিন্তু সেই সময় ৬/৭ ঘন্টা সময় লাগতো। ছোট একটা লঞ্চ। লঞ্চ ভরতি নানান রকম মানুষ। নানান রকম হকার। কেউ ডিম সিদ্ধ বিক্রি করছে, কেউ বাদাম, কেউ ঝালমুড়ি। একজনকে দেখলাম লঞ্চে দুটা ছাগল নিয়ে উঠেছে। আব্বা আমাকে নিয়ে লঞ্চের ছাদে গেলেন। একটা পরিস্কার চাদর পেতে দিলেন। আব্বা চাদরে বসে বললেন, তুই আমার কোলে মাথা রেখে আকাশের দিকে মুখ করে শুয়ে থাক। আকাশ দ্যাখ।

বিশাল পদ্মা নদী।
ছোট্র একটা লঞ্চ ধীরে ধীরে, দুলে-দুলে চলছে। হঠাত আকাশ কালো করে মেঘ জমতে শুরু করলো। মুহুর্তে চারিদিক অন্ধকার হয়ে এলো। নদী উথালপাতাল করছে খুব। মনে হচ্ছে যেন লঞ্চ ডুবে যাবে। লঞ্চের সারেং বলছে ঝড় শুরু হবে। বিরাট ঝড় হবে। সবাই আল্লাহকে ডাকেন। আমার কিচ্ছু করার নাই। লঞ্চের মধ্যে কান্নাকাটি শুরু হয়ে গেলো। কেউ কেউ নামাজে দাঁড়িয়ে গেলো। কেউ কেউ চিৎকার করে আল্লাহ আল্লাহ করছিলো। আমার আব্বা আমাকে কোলে নিয়ে বিভিন্ন মানুষজনের কাছে গিয়ে বলছে, আমার ছেলেটাকে বাচান। আমি সাঁতার জানি না। কেউ আমাকে নিতে রাজী হলো না। প্রচণ্ড বিপদের সময় কেউ কাউকে সাহায্য করে না। বিপদের সময় নিজে বেঁচে থাকাটাই বড় কথা।

আব্বা যাকে সামনে পাচ্ছে, বলছে- আমার ছেলেটাকে বাঁচান।
আব্বার অস্থিরতা দেখে এক হুজুর এসে বললেন, আমি সাঁতার জানি ভাইসাহেব। আপনি আপনার ছেলেকে আমার কাছে দেন। আপনাকে কথা দিলাম- এই ঝড়ে যদি লঞ্চ ডুবে যায়, আমি আপনার ছেলেকে বাঁচাবো। আমি যেভাবেই হোক সাঁতার কেটে তাকে তীরে পৌছাবো। আব্বা কাঁদতে কাঁদতে আমাকে হুজুরের কোলে তুলে দিলেন। আমার কপালে চুমু দিলেন। আব্বা হুজুরকে বললেন, আমার বাড়ি কামার গাঁ। খান বাড়ি। হুজুর বললেন, আমি পৌঁছে দিবো। কথা দিলাম।

আজ সকালে গ্রামে গেলাম।
আব্বার কবরটা দেখে এলাম। কবরের পাশে কিছুক্ষন বসে থাকলাম। আব্বাকে কি আমাকে দেখতে পেয়েছেন? আগামী শুক্রবার গ্রামের বাড়িতে দোয়া মাহফিল হবে আব্বার জন্য। সমস্ত গ্রামের মানুষকে বলা হয়েছে। আমাদের এলাকায় চারটা এতিমখানা আর মাদ্রাসা আছে। ওদের সবাইকে আসতে বলা হয়েছে। ওরা কোরআন খতম দিবে। মানে ধর্মীয় যেসব নিয়ম কানুন আছে- সবই পালন করা হবে। মোট দুই হাজার মানুষের খাবারের আয়োজন করা হবে। ঢাকা থেকে বাবুর্চি যাবে। রান্না কোথায় হবে, সামিয়ানা কোথায় হবে, চেয়ার টেবিল কোথায় বসবে সব দেখিয়ে দিলাম।

সব কাজ দেখাশোনা করবেন আমার চাচা ফুপুরা।
গতকাল মিটিং হয়েছে। আব্বার কাছে চারজন লোক টাকা পায়। সব মিলিয়ে দুই লাখ টাকার মতোন। শুক্রবার তাদের আসতে বলা হয়েছে। তাদেরকে টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। অনেকে জানিয়েছেন- তারা আব্বার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। আমরা বলেছি, সেই টাকা ফেরত দিতে হবে না। আব্বার জন্য দোয়া করে দিবেন। গতকাল মিটিং এ জানতে পারলাম আব্বার সাভার এবং মানিকগঞ্জে কিছু জমি আছে। আমরা চাচাদের বলে দিয়েছি- আমাদের কিচ্ছু লাগবে না। শুক্রবারের অনুষ্ঠানের জন্য চাচাদের হাতে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি যা লাগবে চাচা ফুপুরা দিয়ে দিবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:০৭
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×