
রাস্তার পাশের চায়ের দোকান গুলো জ্ঞানের ভান্ডার।
একটা চায়ের দোকানে নানান রকম মানুষ আসে- তারা চা খেতে খেতে নানান রকম গল্প করে, সেই গল্প থেকে অনেক কিছু জানা যায়। আমি নিয়মিত রাস্তার পাশের চায়ের দোকান গুলোতে যাই। চা খাই আর আশে পাশের লোকজনদের কথা গুলো খুব মন দিয়ে শুনি। কত রকম বিষয় নিয়ে যে আলোচনা হয়- তা চায়ের দোকানে না গেলে বুঝা সম্ভব নয়।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আমি বুঝি চায়ের দোকান থেকে।
করোনার আপডেট খবর গুলো আমি জানি চায়ের দোকান থেকে। নিয়মিত চায়ের দোকানে গেলে পত্রিকা পড়ার দরকার হয় না। গ্রামের চায়ের দোকান গুলো আরো বেশী আনন্দের। তবে এখনকার গ্রামের চায়ের দোকান গুলোতে সারাদিন টিভি চলতে থাকে। বেশির ভাগ সময় দোকানদার টিভিতে বাংলা সিনেমা ছেরে রাখেন।
এক সময় আমার খুব ইচ্ছা ছিল-
বড় করে একটা চায়ের দোকান দিবো। সারাদিন দুনিয়ার মানুষজন এসে আমার দোকানে চা খাবে-গল্প করবে। আর আমি খুব মন দিয়ে তাদের গল্প শুনব। এই ইচ্ছাটা আমার এখনও আছে। সেদিন সন্ধ্যায় মেয়েকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছি। পরী আমার হাতের একটা আঙুল ধরে রেখেছে। সে নানান গল্প করছে। রাস্তায় বের হলেই পরী অনেক খুশি। রাস্তারা সব কিছুই তার ভালো লাগে। যদি রাস্তা দিয়ে একটা ভিক্ষুকও হেঁটে যায়- সে এক আকাশ বিস্ময় নিয়ে ভিক্ষুকের দিকে তাকিয়ে থাকবে।
খিলগা ওভার ব্রীজের কাছে একটা চায়ের দোকান আছে।
আমার খুব প্রিয় একটা চায়ের দোকান। চা-টা দারুন বানায়। এক কাপ চা খেলেই- মনটা আনন্দে ভরে উঠে। সেদিন দুপুরবেলা আরাম করে চা খাচ্ছি- এমন সময় পাঁচ সাতজন পুলিশ এসে উপস্থিত। একজন পুলিশ চায়ের দোকানদারকে খুব বাজে কয়েকটা গালি দিল। আমি মাত্র চায়ে প্রথম চুমুক দিবো, এমন সময় একটা পুলিশ ধমক দিয়ে বলল- চায়ের কাপ রাখেন। আমি বললাম কেন? পুলিশ বলল- রাখতে বলেছি রাখেন, চেক করবো। আমি বললাম- চা-টা শেষ করে নিই, ঠান্ডা হয়ে যাবে তো! পুলিশ চোখ মুখ খিচিয়ে বলল- আপনার কাজ আগে না আমাদের কাজ আগে? একটা পুলিশ আমার হাত থেকে চায়ের কাপ কেড়ে নিল। কিছু গরম চা ছিটকে এসে আমার হাতে পড়ল। পুলিশ আমাকে চেক করে পিস্তল, ছুরি বা ইয়াবা কিছুই পেল না। এর মধ্যে একজন পুলিশ আমার ম্যানিব্যাগ তন্ন তন্ন করে কি যেন খুজছে। যেন আমি ম্যানিব্যাগে গ্রেনেড লুকিয়ে রেখেছি। হঠাত করে একজন পুলিশ তুই করে বলতে শুরু করলো- তুই কই থাকস? কি করস?
অপরিচিত মানুষ তুই করে বললে খুব রাগ হয় আমার।
ইচ্ছা করলো একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেই। আমি কোনো দল করি না। হাসিনা খালেদা কেউই ভালো না। আমার ক্ষমতা থাকলে এই দুইজনকে জোর করে অবসর করাতাম। কারন তাদের রাজনীতির মধ্যে দেশের জন্য ভালোবাসা প্রকাশ পায় না। প্রকাশ পায় ক্ষমতার প্রতি লোভ। খবরের কাগজ পড়া ছেড়ে দিয়েছি। এখন মনে হচ্ছে টিভিতে খবর দেখাও ছেড়ে দিতে হবে। সব গুলো চ্যানেলই ভন্ড-বদমাইশ। নিরপেক্ষ খবর কেউ প্রচার করে না। (টক শো গুলো তো- মাথায় আগুন ধরিয়ে দেয়।) মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে এই দেশটা ছেড়ে ইউরোপের কোনো দেশে চলে যাই। বাকিটা জীবন সুখে শান্তিতে বাস করি। সমস্যা হচ্ছে- এইদেশটাকে আমি অনেক ভালোবাসি। খুব বেশী ভালোবাসি।
ছবিঃ আমার তোলা।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


