
দু:স্বপ্ন! ঠিক দুঃস্বপ্নও বলা চলে না সেটাকে।
একটা অন্ধকার গলি। এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি আমি। গলির অন্য প্রান্তে খুব ক্ষীন একটা আলো। কেউ কোথাও নেই। উপরে অন্ধকার আকাশ। অথবা হয়তো আকাশও ছিল না। শুধু জনহীন একটি অন্ধকার গলি। কোনো কুকুর নেই, এত প্রানহীন গলি আগে কখনো দেখিনি। গাছ নেই, ছায়া নেই, শব্দ নেই, বাতাস নেই, জ্যোছনা নেই। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। অলৌকিক কোনো ইশারায় এক পা-ও সামনে যেতে পারছি না। চোখ ভরা ভয়। না জানি কি হয়! না জানি কি অপেক্ষা করছে!
অন্ধকারটাকেই খুব বেশি ভয় পাচ্ছি।
প্রানহীন গাঢ় অন্ধকার। যে অন্ধকার কবরের কথা মনে করিয়ে দেয়। অন্য ভুবনের কথা মনে করিয়ে দেয়। মনে হলো এখানেই সব শেষ। সভ্যতার শেষ, স্বপ্ন ও সাধ্যের শেষ। আর কোথাও যাওয়ার নেই। প্রিয় মুখ গুলো আর দেখা হবে না। ওই অন্ধকার গলিই বলে দিচ্ছে, আর কিছু নেই, সব শেষ। খুব কষ্ট লাগছিল। এভাবেই সব শেষ হয়ে যায়! ছুটে পালানোর উপায় নেই। একে একে সবার কথা মনে পড়ছে। ঠিক তখন গভীর অন্ধকার থেকে কেউ একজন আসছে। তার হাতে লাঠি। লাঠির ঠক ঠক শব্দ পাচ্ছি। অথচ কাউকে দেখা যাচ্ছে না।
রাত তিনটা। সুরভি গভীর ঘুমে।
আমার যখন ঘুম ভাঙল তখন এক আকাশ ভয় আমাকে ঘিরে ধরলো। এত ভয় আগে কখনো পাইনি। কিন্তু মোটেও ভয়ের স্বপ্ন নয়। আশ্চর্য! তবে এত ভয় পেলাম কেন? গলা শুকিয়ে কাঠ। এক আকাশ ভয় আর হাহাকার বুকের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছিল। চোখের কোনায় পানি। সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। বিছানা থেকে নেমে এক নিঃশ্বাসে এক গ্লাস পানি খেলাম। মনে হচ্ছে আরো দুই গ্লাস খেতে পারবো। শীতের রাত। অল্প স্প্রীডে ফ্যান ঘুরছে। ইচ্ছা করছে ফ্যান বন্ধ করে এসি ছেড়ে দেই।
ব্যলকনিতে গিয়ে একটা সিগারেট ধরালাম।
স্বপ্নটা নিয়ে কিছু ভাবা দরকার। স্বপ্নটার মধ্যে ভয়ের বীজ কোথায়, ভেবে পাচ্ছি না। তবে কি কোনো সর্বনাশের সংকেত ছিল? কোনো অমঙ্গলের আভাস? আমি জানি, স্বপ্ন নিয়ে এত বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। স্বপ্নের মধ্যে সত্য বলে কিছু থাকে না। আবার হয়তো থাকেও। আব্বা মারা যাবার আগে দাদাকে স্বপ্নে দেখেছেন। মৃত্যুর আগেও দুবার 'বাবা' 'বাবা' বলে ডেকেছেন। দাদা কি আব্বাকে নিতে এসেছিলেন? আব্বা দাদাকে দেখতে পেয়েই কি বাবা বাবা বলে ডেকেছেন?
আজ গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম।
গ্রামে দোয়া মাহফিল হয়েছে। এতিমখানার ছাত্ররা কোরআন খতম দিয়েছে। বারো শ' মানুষ খেয়েছে। তেহারি আর মোরগ পোলাউ রান্না হয়েছিলো। আমার ফুপুরা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করলো। আমি কবরস্থানে গেলাম। কিছুক্ষন সেখানে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলাম। সন্ধ্যায় ঢাকা ফিরে এলাম। আবার কবে গ্রামে যাই না যাই ঠিক নাই। আব্বার কথা মনে পড়লে বুকের মধ্যে হাহাকার করে ওঠে। খুব কষ্ট হয়। খুব। চুপ করে থাকি। কাউকে বুঝতে দেই না।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১২:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


