somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

যদিও সন্ধ্যা

২০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ বৃহস্পতিবার।
বৃহস্পতিবার দিনটি শফিক কখনই ভালো যায় না। এই ব্যাপারটা শুধু নীলা জানে। নীলা জেনে গেছে গুল্লু কপালে টিপ এবং চোখে কাজল অনেক পছন্দ করে তাই নীলা শফিকের সাথে দেখা করতে গেলেই কপালে টিপ এবং চোখে মোটা করে কাজল দিবেই। নীলা আর শফিকের বয়স প্রায় কাছাকাছি । শফিক রেস্টুরেন্টে বসে চা খাওয়ার চেয়ে রাস্তার পাশের দোকান থেকে চা খেতে পছন্দ করে। শফিকের একটা গোপন ইচ্ছা হলো- সে নীলাকে সাথে নিয়ে ঢাকা শহরের সব রাস্তার পাশের দোকান থেকে চা খাবে। নীলা যদি চা ছাড়া অন্য কিছু খায় খাবে ক্ষতি নেই। শফিকের বাবা ছেলেকে প্রায়ই বলেন, দিন দিন তুমি কালো হয়ে যাচ্ছো কেন? রোদে রোদে কম ঘুরবে। শফিক বাধ্য ছেলের মতন বলেছে, জ্বী আচ্ছা। শফিকের যখন পনের বছর তখন শফিক তার বাবার একটা ডায়েরী হাতে পায়। বাবার হাতের লেখা অনেক সুন্দর। সে তার ছেলেকে অত্যাধিক পছন্দ করেন। শফিক এত বড় হয়ে গেছে- তবু বাবা হাত ধরে রাস্তা পার করে দেন।

সকাল দশটায়। চারিদিকে ঝলমলে রোদ।
শফিক দাঁড়িয়ে আছে ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বরে। নীলা আসবে। শফিক আকাশের দিকে তাকিয়ে সিগারেট টানতে থাকে তখন নীলার ফোন আসে- হ্যালো, তুমি এসে পড়ছো? রাস্তায় জ্যাম আমার আসতে আরো আধা ঘন্টা দেরী হবে। স্যরি বলে নীলা ফোন রেখে দেয়। শফিকের মাঝে মাঝে হিমুর মতন হতে ইচ্ছা করে। সে হিমুর মতন হলুদ পাঞ্জাবী পড়ে থাকবে। নীলাকে নিয়ে জোছনা দেখতে শালবনে যাবে। নীলাকে ফোন করে বলবে, তুমি খিচুরী আর গরুর মাংস এবং ইলিশ মাছ ভাজো। আমি রাতে খেতে আসবো। খাওয়া শেষে তোমাকে কবিতা আবৃত্তি করে শোনাবো। নীলা তাড়াহুড়া করে রান্না শেষ করে নীল একটা শাড়ি পড়বে, অনেক সময় নিয়ে চোখে কাজল দিবে। কপালে একটা ছোট্র টিপ পড়বে তারপর ছাদের কোনায় দাঁড়িয়ে শফিকের জন্য অপেক্ষা করবে। কিন্তু শফিক আসবে না এবং মোবাইলটাও বন্ধ করে রাখবে। নীলার চোখ দিয়ে দু'টা জল গড়িয়ে পড়বে।

রাত দুইটা। নীলার চোখে ঘুম নেই।
শফিক নীলাকে ফোন করে বলল- একটা গান শোনাও তো। তোমার গান শুনতে শুনতে ঘুমাই।
নীলা বলল, আচ্ছা, অনেকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে না কেন বলতো?
শফিক বলল, এখন শীতকাল তাই বৃষ্টি হচ্ছে না। বৃষ্টি দিয়ে তুমি কি করবে?
নীলা বলল, বৃষ্টির দিনে তোমাকে নিয়ে রিকশায় করে ঘুরব আর বৃষ্টিতে ভিজব।
শফিক বলল- সেদিন কি তুমি শাড়ি পড়বে?
জ্বী জনাব শাড়ি পড়ব, চোখে কাজল দিবো, কপালে টিপও পড়বো এবং আপনার যদি খুব ইচ্ছা করে তাহলে আপনি আমাকে একটা চুমুও দিতে পারেন।
শফিক বলল, কই গান তো গাইলে না।
নীলা গান গাইতে শুরু করলো- 'যদি আমার কোনও পালাবার জায়গা না থাকে – দিন, রাত্রি, অন্ধকারে/ তুমি কি আমার হাতটা একটু ধরবে।'
শফিক গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। যদি জেগে থাকত তাহলে বুঝতে পারত একটি মেয়ে গান গাইছে কিন্তু তার চোখ জলে ভরা। জলে ভরা চোখ নিয়ে নীলা গাইছে- 'যদি তলিয়ে যাই স্মৃতিতে/ যদি ক্ষয়ে যাই জলে/ যদি থেমে যাই চলাতে/ তুমি কি আমার হাতটা একটু ধরবে।

রাতে নীলা না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়।
আর শফিক ঘুমের মধ্যে অদ্ভুত সব টুকরো টুকরো স্বপ্ন দেখে। একটা স্বপ্ন এই রকম। শফিককে একটা অন্ধকার ঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছে। খুব পানির পিপাসা পায় কিন্তু ঘরে পানি নেই। শফিক পানি পানি করে চিৎকার করতে থাকে কিন্তু কেউ পানি নিয়ে আসে না। হঠাৎ অন্ধকার থেকে একটি মেয়ে এসে বলে- এই নিন পানি খান। শফিক অবাক হয়ে মেয়েটির দিকে তাকায়। মেয়েটির মুখ শাড়ির আঁচলে ঢাকা। কিন্তু পায়ে রূপার নূপূর। নূপূরের শব্দে শফিকের ঘুম ভেঙ্গে গেল। তারপর শফিক সারা রাত ব্যালকনিতে বসে ছিল। ফযরের আযানের পর রাস্তায় বের হলো- চা খেতে। শফিক জানে এত ভোরবেলা কোথায় চায়ের দোকান খোলা থাকে। মালিবাগ মোড়ে গিয়ে শফিক পত্রিকা কিনল- পত্রিকায় পাতা উল্টিয়ে তার তোলা ছবি দেখল। শফিক অনেক পরিশ্রম করে পুরান ঢাকার মুসলিম মাদ্রাসার ছবি তুলেছিল। কর্ণফর্ড নামে একটা কোম্পানী মুসলিম মাদ্রাসার জায়গা দখল করে বিশাল এপাটমেন্ট বানিয়েছে।

সন্ধ্যাবেলা শফিক গেল নীলার কাছে।
যদিও ভর সন্ধ্যায় প্রিয় মানুষদের কাছে যেতে নেই। নীলা অপ্রত্যাশিত এক আকাশ আনন্দ পেল। নীলার ইচ্ছা করছে শফিককে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ কাঁদতে। মানুষের মনের গোপন ইচ্ছা গুলো কখনই পূরণ হয় না। নীলা বলল, হাত মুখ ধুয়ে আসো- গরুর মাংস ভূনা রান্না করা আছে, গরম গরম পরোটা ভেজে দিচ্ছি- চটপট খেয়ে নাও। শফিক লক্ষ্মী ছেলের মতন খেতে বসল। নীলা তার সামনে বসে আছে। শফিক এত আরাম করে খাচ্ছে- দেখে খুশিতে নীলার চোখ ভিজে উঠল। ভর সন্ধ্যায় চোখের পানি প্রিয় মানুষকে দেখাতে হয় না বলে নীলা শাড়ির আঁচল দিয়ে গোপনে চোখের পানি মুছে নিল। শফিক বলল- নীলা, তুমি গরুর মাংসের ভর্তা বানাতে পারো? নীলা বলল, না পারি না। শফিক বলল- প্রথমে মাংসের টুকরো গুলো তাওয়ায় লবণ মেখে সেঁকে নিতে হয় আধঘন্টা। তারপর তাওয়া গরম হলে মাংস বিছিয়ে ঢেকে দিতে হয়। মাংসের পানি বের হয়ে শুকিয়ে একটু পোড়া পোড়া গন্ধ বের হবে। গরম মাংসকে পাটায় ভালোভাবে থেঁথলে নিবে। যাতে গুঁড়ো গুড়ো আঁশ হয় কাঁচামরিচ চুলায় ঢেলে পেঁয়াজ ও আদা কুচি একটু থেথলে নিতে হবে। তারপর- সব একসঙ্গে মেখে একটি বাটিতে ভালোভাবে চেপে চেপে রেখে দুই/তিন ঘন্টা ফ্রিজেও রাখতে পারো যাতে নষ্ট না হয়। সরিষার তেল দিয়ে খুব ভালোভাবে মাখাতে হবে। মাখাটা আটা মাখার মতো হলে তখন ভর্তা রেডী হবে ।

শফিক নীলার বাসা থেকে বের হলো রাত ১১ টায়।
শীতকাল বলে রাস্তাঘাট ফাঁকা ফাঁকা। একটা রিকশাও নেই। শফিক রাস্তায় হাটা শুরু করলো- যেদিন নীলার সাথে দেখা হয়, সেদিন শফিক একাএকা অনেকক্ষন রাস্তায় এক আকাশ আনন্দ নিয়ে হেঁটে বেড়ায়। শফিক নীলার কথা ভাবতে ভাবতে রাস্তার ফুটপাত দিয়ে হাটছিল- হঠাৎ একদল বখাটে এসে শফিককে দা-বটি ছুরি দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলল।
নীলা সকালে ফযরের নামাজ পড়ে পত্রিকা হাতে নিয়ে শফিকের মৃত্যুর খবর জানতে পারে। তখন আকাশে এক ঝাঁক পাখি দূরে কোথাও উড়ে যাচ্ছিল।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৫৭
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×