
১। আমার ছোট চাচার জন্য মেয়ে দেখতে গিয়েছি।
পুরান ঢাকার কলতাবাজারে। মেয়ে দেখতে কে কে যাবে, কে কে যাবে না- এই করতে করতে ২৪ জন হয়ে গেছে। আমরা দুইটা মাইক্রো এবং একটা প্রাইভেট কারে করে রওনা দলাম। মেয়ের বাসায় গেলাম সন্ধ্যার পর। তবে ছোট চাচা আমাদের সাথে যান নি। মেয়ের বাসায় গিয়ে বসতেই আমাদের নানান রকম পিঠা, সরবত আর নানান রকম ফল খেতে দিলো। ফলের পরিমান খুব বেশী। যে পরিমান ফল টেবিলে দিয়েছে কমপক্ষে ৬০ জন মানুষ খেতে পারবে। অথচ আমরা মাত্র ২৪ জন। একটু পর মেয়ের বাপ বলছে, সব ফল খেয়ে শেষ করতে হবে। আবার একটু পর মেয়ের মা এসে বলছে- সব ফল শেষ করতে হবে। এত ফল আমরা খাবো কি করে? তাছাড়া এর পর পোলাউ রোষ্ট বিরানীর পর্ব বাকি আছে। কিন্তু মেয়ের বাপ মা একই কথা বার বার বলছেন, সব ফল খেয়ে শেষ করতে হবে। তখন আব্বা বললেন, কোনো চিন্তা করবেন না আমরা সব শেষ করবো। শেষ করতে না পারলে ব্যাগে করে নিয়ে যাবো।
মেয়ে দেখা হলো। মেয়ে বেশ সুন্দর।
খাওয়া দাওয়া হলো খুব। শেষে ফেরার পথে সত্যি সত্যি আমরা পলিথিন ব্যাগে করে সমস্ত ফল নিয়ে নিলাম। আমার মা খুব রেগে গেলেন আব্বার উপর। আব্বা বললেন, ওরা এত করে, এত বার অনুরোধ করেছে না নিলে তারা কষ্ট পেতেন। অবশ্য এই ফল নেওয়াতে আমাদের মধ্যে কোনো অপরাধ বোধ নেই। মেয়ে দেখে আমরা মেয়ের হাতে দশ হাজার টাকা দিয়েছি। যাই হোক, এই মেয়ের সাথে আমার ছোট চাচার বিয়ে হয় নি। ছোট চাচার একটা মেয়ের সাথে প্রেম ছিলো। চাচা সেই মেয়েকেই বিয়ে করেছেন। চাচার এখন দুই ছেলে। তারা থাকেন গুলবাগ।
২। আমার বন্ধু জসিম এক মেয়ের প্রেমে পড়ে গেলো।
জসিম আমাদের সাথে আড্ডা দিতে আসে না। সারাদিন মেয়ের পেছন পেছন ঘুর ঘুর করে। জসিমের কাছে জানতে পারলাম মেয়ে ডাক্তার। রোজ সকালে জসিম ডাক্তার মেয়ের পেছন পেছন হাসপাতালে যায়। মেয়ে বিকেলে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফের, জসিম ডাক্তার মেয়ের পেছন পেছন বাসা পর্যন্ত যায়। তিন মাস ধরে এরকমই চলছে। আমরা জানি, জসিম ছোটবেলা থেকেই কোনো ডাক্তার মেয়েকে বিয়ে করবে। একদিন জমিস সাহস করে হাসপাতালের ভেতরে যায়। হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারে মেয়ে ডাক্তার না। মেয়ে নার্স। জসিম বলল, নার্সও খারাপ। আমার নার্স চলবে। একদিন আমি হাসপাতালে গেলাম। নার্সের সাথে কথা বলতে। গিয়ে দেখি, মেয়ে নার্স না। ডাক্তার দেখার সিরিয়াল দেয়। মেয়ে আমাকে বলল, ডাক্তার দেখাতে আসছেন? এই নিন টোকেন। আমার টোকেন নম্বর ২৩। আমি বন্ধু জসিমকে বললাম, দোস্ত এই মেয়ে নার্স না। ডাক্তারের সেম্বারে ঢোকার সিরিয়াল দেয়।
জসিম বলল, আমি এই মেয়েকেই বিয়ে করবো।
সত্যি সত্যি একদিন আমরা সবাই মিলে মেয়েটার বাসায় গেলাম। মেয়ে লালমাটিয়া কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স করেছে। ভালো চাকরি পায় নি বলে হাসপাতালে কাজ করছে। মেয়ের কথা হলো- বসে থাকার চেয়ে কাজ করা ভালো। এবং এই কাজ অনেক নিরাপদ। যাই হোক, মেয়েটার সাথে বন্ধুর বিয়ে হয়ে গেছে। এখন তারা ভালো আছে। তাদের দুই কন্যা সন্তান। কন্যারা স্কুলে পড়ছে। তারা সুখে আছে। ভালো আছে। তাদের বাসা শ্যামলী।
৩। আমার বন্ধু মিজান।
বেকার। কোনো কাজ করে না। লেখাপড়া শেষ করে বসে আছে। তার জন্য মেয়ে দেখতে গেলাম গাজীপুর। মেয়েরা অনেক ধনী। মেয়ের বাপ বলল, ছেলে কি করে? ছেলে নিজেই বলল, আমি কিছু করি না। তবে আমি এই দেশের মন্ত্রী হবো। আমাকে ভবিষ্যৎ মন্ত্রী বলতে পারেন। আমি সমাজ সেবা করি। ধরুন, আমার এলাকায় কোনো ঝগড়া হলে আমি দৌড়ে গিয়ে ঝগড়া মিটিয়ে দেই। কেউ রিকশা না পেলে আমি দৌড়ে বড় রাস্তা থেকে রিকশা নিয়ে আসি। লম্বা লাইনে দাড়িয়ে বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল দিয়ে আসি এলাকাবাসীর। আসলে আমি এসব তুচ্ছ কাজ করে এলাকাবাসীর মন জয় করে নিয়েছি। তারা আমার ভোটার। এলাকাবাসীকে আমি আমার সময় এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, মানে বলতে পারেন 'সময়' ইনভেস্ট করেছি। এখন আমি নির্বাচনে দাড়ালেই প্রথম চান্সেই জয়ী হয়ে যাবো। সব শুনে মেয়ের বাবা বললেন, তোমরা এখন আসতে পারো।
আমরা চলে এলাম।
কিন্তু মিজান খুব আশাবাদী। গাজীপুরের এই মেয়ের সাথেই তার বিবাহ হবে। এবং একদিন সত্যি সত্যি মিজানের বিয়ে হয়ে গেলো। মিজান এখন ঘর জামাই থাকে গাজীপুরে। কোনো কাজ করে না। শ্বশুর বাড়ির সবাইকে সে বিরক্ত করে মারছে। তার শ্বশুর তাকে প্রতিমাসে হাত খরচ দেয়। একটা বাইক কিনে দিয়েছে। মিজান সারা দিন বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। শ্বশুরের জুতো পরে বাইরে চলে যায়। শ্বশুর জামাইকে ফোন দেয়, মিজান তুমি আমার জুতো পরে বাইরে গিয়েছো কেন। মিজান বলে বাবা আপনার জুতোটা আমার পছন্দ হয়েছে তাই। সেদিন আমার শার্ট পরেছো। মিজান বলে শার্টটা আমার পছন্দ হয়েছে। মিজান শ্বশুরের টাকায় এলাকায় কমিনার নির্বাচনে দাড়িয়ে ছিলো। মাত্র তেরো ভোট পেয়েছে। ভোটে হেরে গিয়ে মিজান এই দেশের মানুষের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এখন সে কারো উপকার করে না।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


