somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ঘরজামাই অথবা কেউ আমাকে ভালোবাসে না

২১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের এলাকায় ঘর জামাইয়ের সংখ্যা অনেক।
যত মেয়ের বিয়ে হয়েছে তারা শ্বশুর বাড়ি যায় নি। জামাই নিয়ে নিজের বাপ মায়ের সাথেই থাকেন। এমন কি আমার খালার দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে, আমার খালাতো বোনরা বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি যায় নি। থেকে গেছে বাপ মায়ের কাছে। আমাদের মহল্লার সব বাড়িতে এরকম এক, দুইজন করে ঘর জামাই পাওয়া যাবে। ঘর জামাই থাকা ভালো কি মন্দ, আমি সেই হিসাবে যাবো না। কেউ ঘর জামাই থাকলে আমার কিছু যায় আসে না। আমার কোনো সমস্যা নাই। এটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু আমি কিঞ্চিৎ বিপদে পড়ে গেছি। একদিন কাকে যেন কথায় কথায় বলেছিলাম- আমাদের এলাকা ঘর জামাইয়ের এলাকা। প্রতিটা বাড়িতে একজন করে ঘর জামাই আছেই। এই কথাটা কিভাবে যেন ফাঁস হয়ে এগছে। মহল্লার সবাই সহ সমস্ত ঘর জামাইরা কিভাবে যেন জেনে গেছে। এখন সমস্ত ঘর জামাই আমাকে দেখলে ভ্রু কুচকে তাকায়। আমার সাথে তারা কথা বলেন না।

সেদিন বিকেলে এলাকার চায়ের দোকানে।
আমি চায়ের দোকানে গিয়েছি। দেখি সব ঘর জামাইরা বসে আড্ডা দিচ্ছে। তাদের মধ্যে খুব মিল। আমি বললাম, কেমন আছেন আপনারা সবাই। কেউ আমার সাথে কথা বলল না। তারা আমার উপর খুব রাগ। এমন কি তাদের স্ত্রী ছেলেমেয়েরাও আমার উপর রাগ। কেউই আমার সাথে কথা বলে না। কারো সাথে দেখা হলে আমাকে এড়িয়ে চলে যায়। এখন, এলাকার লোকজনের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। সেদিন মসজিদে আব্বার জন্য মিলাদ দিয়েছি। এলাকার সব ঘর জামাইরা নিয়মিত নামাজে পড়েন। নামাজ শেষে ঘর জামাইগন মিলাদে অংশ গ্রহন করেছে সবাই কিন্তু আমার সাথে কোনো কথা বলে নি। এলাকার এক মহিলা আমাকে রাস্তায় দেখলেই এই 'নজরুল' এই 'নজরুল' বলে ডাকতো। নজরুল বলার কারন হলো একসময় আমার মাথার চুল কবি নজরুলের মতো লম্বা ছিলো। এখন সেও আমার সাথে কথা বলে না। নজরুল বলে ডাকে না।

ইদানিং বেশ একা হয়ে পড়েছি।
এলাকাবাসী আমার সাথে কথা বলে না। বন্ধুরাও খুব একটা খোঁজ খবর নেয় না। এমন কি তাদের ফোন দিলেও আমার ফোন ধরে না। তাদের অফিসে গেলেও আমার সাথে দেখা করে না। আত্মীয়স্বজনরাও তেমন একটা খোঁজ খবর নেয় না। আমার অন্য ভাইদের আত্মীয়স্বজনরা ফোন দেয়। খোঁজ খবর নেয়। নিয়মিত যোগাযোগ করে কিন্তু তারা আমাকে ফোন দেয় না। আমার কোনো খোঁজ খবর নেয় না। এলাকাবাসী কোনো অনুষ্ঠানে আমাকে ডাকে না। সেদিন এলাকায় এক মুরুব্বী মহিলা মারা গেছেন। সেই মহিলার জানাজায় এলাকায় সবাই গিয়েছে। কবর দিতেও গিয়েছে। অথচ আমাকে কেউ জানায় নি। বাইরে বের হয়ে জানলাম, মহিলার জানাজায় সবাই গিয়েছে, কবর দিতেও সবাই গিয়েছে। শুধু আমিই যাই নি। আমাকে জানানো হয়নি। আমার সমস্যাটা কোথায়? আমি তাদের কি ক্ষতি করেছি? আমি তো সবার সাথে হেসে হেসেই যথেষ্ঠ আন্তরিকতার সাথেই কথা বলি। এলাকায় পিকনিকের আয়োজন চলছে। অথচ আমি কিছুই জানি না।

এই সামু ব্লগেও লোকজন আমাকে পছন্দ করেন না।
অনেক ব্লগার আমার পোষ্টে আসেন না। অথচ কারো সাথে আমি কোনো খারাপ আচরন করি নাই। বহু ব্লগার আমার মন্তব্যের উত্তর দেন না। তারপরও আমি সবার পোষ্টে নিয়মিত যাচ্ছি। মন্তব্য করছি। কারো লেখা ভালো না লাগলে আমি কঠিন বা নির্মম মন্তব্য করি না। কিন্তু কিছু ব্লগার আমাকে একেবারেই পছন্দ করেন না। এমন কি কোনো কোনো ব্লগার ফেসবুকে এসে আমাকে ইনবক্সে অকথ্য ভাষায় গালাগালিও করেছেন। ব্লগে তারা ছদ্মনামে আছেন, তেমনি ফেসবুকে তারা ছদ্মনামে আছেন। তাই কে আমাকে ইনবক্সে গালাগালি করেছেন তা বের করতে পারি নাই। তাছাড়া কুৎসিত সব গালি দিয়ে আমাকে ব্লগ করে দিয়েছে। আমি কোনো দিন সামুতে কারো সাথে ঝগড়া বা কাউকে কঠিন কিছু বলি নাই। তাহলে আমাকে অপছন্দ করার কারন কি? ভেবে পাই না। খারাপ সময় এলে চারদিক থেকেই আসে। আমি সু সময়ের অপেক্ষায় আছি। অপেক্ষা করতে করতে মাথায় চুল সাদা হতে শুরু করেছে। সেই সু সময় মনে হয় ইহ জনমে আর আসবে না। কারন আমার ভাগ্য খারাপ।

ভালোবাসার বদলে ভালোবাসা পাওয়া যায় না।
ঘরে-বাইরে, অফিস আদালতে, ফেসবুক-ব্লগে, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে খারাপ ব্যবহার পেয়ে পেয়ে আমার গায়ের চামড়া মোটা হয়ে গেছে। এখন কেউ খারাপ ব্যবহার করলে অবাক হই না। বরং কেউ ভালো ব্যবহার করলে ভ্রু কুচকে তাকাই। কিন্তু এরকম হওয়ার কথা ছিলো না। আমার ধারনা ছিলো- সবাই আমাকে ভালোবাসে, সবাই আমাকে পছন্দ করে। সবাই আমার শুভাকাঙ্ক্ষী। আমার কোনো শত্রু নেই। সবাই আমার বন্ধু। আমার আপনজন। আমি তো সবাইকে বন্ধুই ভাবি। আপন ভাবি। আমি যিশুর ফর্মুলা ব্যবহার করেছি সারাটা জীবন। কেউ এক গালে চড় মারলে আমি অন্য গাল পেতে দিয়েছি। কখনও প্রতিবাদ করি নি। ছোটবেলা থেকেই আমি এই রকম। ছোটবেলা যখন সব বাচ্চাদের সাথে খেলা করতাম। তখন কেউ কেউ আমাকে ধাক্কা দিয়ে ময়লার ড্রেনে ফেলে দিলেও আমি জিজ্ঞেস করতাম না আমাকে কেন ড্রেনে ফেলা দেওয়া হলো।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:০০
২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×