somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল (চব্বিশ)

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শাহেদ জামাল বাসা থেকে বের হয়েছে।
উদ্দেশ্য রমনা পার্ক। কিন্তু সে কি মনে করে রমনা পার্ক গেলো না। চলে গেলো মন্ত্রী পাড়া। এখানে দেশের মন্ত্রীরা থাকেন। মন্ত্রীদের সরকারী বাড়ি। তাদের কি নিজেদের বাড়ি নেই? সরকারী বাড়িতে কেন থাকতে হবে? শাহেদ জামাল হাঁটতে হাঁটতে এক মন্ত্রীর বাড়ির সামনে চলে এলো। সেখানে অনেক ভিড়। মন্ত্রীরা যেখানে থাকে সেখানে সব সময় অনেক লোকজন থাকবে এটাই স্বাভাবিক। একটা দল এসেছে মন্ত্রীর সাথে দেখা করতে। সাহেদ সেই দলের সাথে মিশে গেলো। একদল লোকের সাথে শাহেদ জামাল চলে গেলো মন্ত্রীর বসার ঘরে। শাহেদ কাউকেই চিনে না। আবার শাহেদকেও কেউ চিনছে না। সবাই ফিসফিস করে কথা বলছে। বসার রুমটা অনেক বড়। সেখানে অনেক লোক। সবাই মন্ত্রীর অপেক্ষায় আছেন।

বুড়ো মন্ত্রী সাহেব এলেন।
সবাই উঠে মন্ত্রীকে সালাম দিলো। কেউ কেউ মন্ত্রীর পা ছুঁয়ে সালাম করলো। অনেকে মোবাইলে ছবি তুলছে, কেউ ভিডিও করছে। শাহেদ চুপচাপ শুধু দেখে যাচ্ছে। সব অতিথিকে নাটোরের বিখ্যাত সন্দেশ খেতে দেওয়া হলো। শাহেদ জামাল দুটা সন্দেশ নিয়ে নিলো। একদম খাটি দুধের সন্দেশ। খেতে বেশ ভালো। আজকের এই দলটি মন্ত্রীর খুব কাছের লোক সম্ভবত। মন্ত্রী তাদের খেয়ে যেতে বলেছেন। দলটির প্রধান বিরাট সাইজের একটা রুই এবং একটা কাতল মাছ নিয়ে এসেছেন। চারজন লোক সেই মাছ নিয়ে এলো মন্ত্রীর কাছে। মন্ত্রী মাছ দেখে খুব খুশি হলেন। শাহেদ জামাল জানে, দেশের মন্ত্রী এমপিদের বাজার করতে হয় না। তাদের খুশি করতে লোকজন বাড়ি এসে এরকম বড় বড় মাছ দিয়ে যায়। দেশের মন্দ লোকেরা ভালো ভালো খাবার খায়। যাই হোক, মাছকে সামনে রেখে ছবি তোলা হলো। ছবিটা তুলে দিলো শাহেদ জামাল। মন্ত্রী, এমপিদের সবাই খুশি করতে চায়। মধ্যবিত্তদের কেউ খুশি করতে চায় না। শাহেদ জামাল মাছ দুটা দেখে অবাক! এত বড় মাছ!

মন্ত্রীর কাছে গিয়ে কেউ কেউ ফিসফিস করে কথা কইছে।
আর হাত কচলাচ্ছে। শাহেদ জামাল মনে মনে বলল, গাধা হাত কচলানো বন্ধ কর, নইলে হাতের চামড়া উঠে যাবে। সাথে আছে তেলানো মুখের হাসি। অতি কুৎসিত দৃশ্য। সাহেদ জামালের বিরক্ত লাগছে। শাহেদ জামাল উঠে রুমের বাইরে গেলো। কিছু দূর যেতেই রান্না ঘর চোখে পড়লো। সেখানে মাছ দুটা কাটা হচ্ছে। বাবুর্চি বলে দিচ্ছে মাছ কিভাবে কাটতে হবে। শাহেদ জামাল বাবুর্চিকে বলল, আপনি অভিজ্ঞ মানুষ। বাবুর্চি বলল, ভাইজান আপনার নাম কি? আপনাকে তো চিনলাম না। শাহেদ জামাল একটু হাসলো। হাসি দেখে বাবুর্চি বলল, আমি এখন রান্না করবো। আপনি আমার সাথেই থাকুন। এই বাবুর্চি মন্ত্রীর খুব কাছের লোক। সতের বছর ধরে সে মন্ত্রীর সাথে সাথে আছে। মন্ত্রীর নাড়ীনক্ষত্র এই বাবুর্চি সব জানে। শাহেদ জামালের সাথে মুহুর্তেই বাবুর্চির খুব খাতির হয়ে গেলো। বাবুর্চি বিশাল সাইজের একটা ভাপা পিঠা শাহেদ জামালকে খেতে দিলো।

মাছ কাটা শেষ।
বাবুর্চি রান্না শুরু করেছে। শাহেদ জামাল মোড়ায় বসে আছে। তার হাতে চায়ের মগ। বাবুর্চি সমানে কথা বলে যাচ্ছে। বাবুর্চির কথা শুনে শাহেদ কামাল অবাক। এই বাবুর্চি একত্রিশ টা দেশ ভ্রমন করেছে। মন্ত্রী তার রান্না ছাড়া একদম খেতে পারেন না। মন্ত্রী যেখানেই যায় এই বাবুর্চিকে সাথে করে নিয়ে যায়। বাবুর্চি তার মোবাইলে তার স্ত্রী কন্যা পুত্রের ছবি শাহেদ জামালকে দেখিয়েছে। শাহেদ জামাল বলেছে, মাশাল্লাহ ভাবী তো অনেক সুন্দর। বাবুর্চি বলেছে, সে প্রেম করে বিয়ে করেছে। শাহেদ জামালকে আরেকদিন আসতে বলেছে, সেদিন সে তার প্রেমের গল্প শুনাবে। রান্না শেষ। বিশেষ অতিথিদের খাবার দেওয়া হয়েছে। শাহেদ জামাল আর বাবুর্চি খেতে বসেছে সবার শেষে। বাবুর্চি বিশাল এক পিছ মাছ শাহেদ জামালকে দিয়েছে। পালং শাক দিয়ে চিতল মাছ রান্না করা হয়েছে। শাহেদ জামাল বলল, এই মাছ আমি একা খেয়ে শেষ করতে পারবো না। বাবুর্চি বলল, ভাত খাওয়ার দরকার নাই। শুধু মাছটাই খান। মুখে মাছ দিয়ে দেখুন। মোমের মতোন গলে গলে যাবে।

বাবুর্চির মন্ত্রী বাড়ির নানান গল্প করলো।
গল্প শুনে শাহেদ জামাল অবাক! এই মন্ত্রীর ঢাকা শহরে তেরো টা ফ্লাট আছে। প্রতিটা ফ্ল্যাটের দাম এক কোটি টাকার উপরে। লন্ডন, মালোশিয়া, কানাডা আর সুইজারল্যান্ডে মন্ত্রীর বাড়ি আছে। গ্রামের বাড়িটা বিশাল। সেই বাড়িতে চারটা পুকুর আছে, পুকুরের ঘাট গুলো মার্বেল টাইলস দিয়ে বাঁধানো। দুইটা বিশাল বাগান আছে। বাগানে সব বিদেশী ফুল গাছ। ছোট একটা চিড়িয়াখানা আছে। সেই চিড়িয়াখানার পশু পাখি গুলো মালোশিয়া থেকে আনা হয়েছে। সম্প্রতি দুটা উট আনা হয়েছে ভারত থেকে। মন্ত্রীর ছেলেমেয়ে সবাই কানাডা থাকে। তবে তারা বছরে দুইবার দেশে আসে। মন্ত্রী বুড়ো হলে কি হবে, গান বাজনা ভীষন পছন্দ করেন। তাই ভারত থেকে নামীদামী শিল্পীদের আনা হয়। তারা সারারাত গান করে আর নাচে। মন্ত্রী নাচ দেখে মুগ্ধ হয়ে যান। এবং দরাজ দিলে তাদের ডলার বিতরন করেন। এই নাচলেওয়ালী কাউকে পছন্দ হয়ে গেলে মন্ত্রী তাদের মালোশিয়ার বাড়ি নিয়ে যান।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১:০১
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×