
কিউট একটা হাতির বাচ্চা উঠোনে মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছে। একেবারে চুপচাপ। একটুও নড়ছে না। মাঝে মাঝে শুধু শুঁড়টা ডানে বামে নিচ্ছে। আমি দোতলার ব্যলকনি থেকে দেখছি। হাতিটাকে দেখে খুব মায়া হচ্ছে। ইচ্ছা করছে হাতির গায়ে হাত বুলিয়ে দেই।
সুরভি হাতিটার মুখের কাছে একটা টোস্ট বিস্কুট ধরলো।
হাতিটা খেল না। বরং মুখ ফিরিয়ে নিল।
সুরভি আবার এক গামলা পানি এনে ধরল মুখের কাছে। হাতিটা পানিও খেল না।
সুরভি দোতলায় আমার দিকে অসহায়ের মতো তাকিয়ে বলল- বাবু!
কি?
হাতির বাচ্চাটা কিচ্ছু খাচ্ছে না।
ওর মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দাও।
হায়-হায় যদি কামড় দেয়?
দূর বোকা, হাতি কি বাঘ যে কামড়ে দিবে?
কামড়ায় তো, আমার ছোট মামাকে একবার কামড়ে দিয়েছিল!
আরে--- তুমি একটু হাত বুলিয়ে দাও তো।
সুরভি রেগে গিয়ে বলল- তার চেয়ে বরং তাড়িয়ে দেই।
আহা তাড়িয়ে দিও না, মুখটা ভালো করে তাকিয়ে দেখ- অভিমান করেছে।
সুরভি খুব ভয়ে ভয়ে হাতির পিঠে হাত রাখতেই হাতিটা গর্জন করে উঠলো।
ভয়ে সুরভি এক লাফে দূরে সরে গিয়ে দাঁড়ালো। তারপর খুব হাসতে শুরু করলো।
আমি বললাম- হাসছো কেন?
হাতি কি বলল, শুনলে না?
কি বলল?
বলল- রাজীব এখনও আমার গায়ে হাত রাখেনি কেন?
যাহ। হাতি কি কথা বলতে পারে?
তুমি কিচ্ছু জানো না। আমি হাতির কথা বুঝতে পারি। তোমার হাতি, তুমি এসে খাওয়াও।
আমি নিচে নেমে এলাম। হাতির বাচ্চার মুখোমুখি দাঁড়ালাম। হাতিটা মানুষের গলায় বলল- যাও, যাও। তোমার সময় শেষ। সময় শেষ---
আমি হাতিটার পিঠে উঠে বসলাম। হাতিটা চলতে শুরু করলো। হাতির পিঠে চড়ে কিছুক্ষনের মধ্যেই একটা জঙ্গলে চলে এলাম। চারিদিক গাঢ় সবুজ। নানান রকম গাছপালা। প্রতিটা গাছ আমার অচেনা। গাছের পাতা গুলো অনেক বড় বড়। অসংখ্য নাম না জানা ফল আর ফুল। আকাশে বিশাল একটা চাঁদ। চাঁদ কি এত বড় হয়! চারিদিকে চাঁদের তীব্র স্বচ্ছ আলো। চাঁদের আলোতে খেলা করছে খরগোশ আর কাঠবিড়ালি। আর তিনটা ময়ূর খুব নাচছে। জায়গা খুব সুন্দর।
আমি মনে মনে ভাবলাম- সুরভিকে এখানে নিয়ে আসবো একদিন। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পেলাম। জঙ্গলের ভেতর থেকে একলোক ছুটে এলো আমার সামনে। বলল, আপনার একটা চিঠি এসেছে। লোকটাকে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলাম, সে ইমাম সাহেবদের মতো আচকান পড়েছে।
আমি বললাম- আপনি কি পোষ্টম্যান?
হ্যাঁ। এই নিন আপনার চিঠি। আমার আরও চিঠি বিলাতে হবে। যাই।
খামের চিঠিটা হাতে নিয়ে দেখি, খামের মুখটা খোলা। চিঠিটা বের করে দেখলাম। চিঠিতে কিছু লেখা নেই। পুরোটাই সাদা। আমার খুব রাগ হলো। আমি চিঠিটা কুঁচিকুঁচি করে ছিঁড়ে ফেলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

