somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

সব মিলিয়ে অল্প সল্প সে গল্প

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবি- আমার তোলা।

‘‘আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা,
আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই
যে মোরে করেছে পর।”


আপনি কেমন আছেন?
বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তে, যে কোনো মানুষকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়- কেমন আছেন? অধিকাংশ মানুষ উত্তর দিবে, ভালো আছি। এ ভালো মানে আসল ভালো নয়। এটা হচ্ছে সামাজিকভাবে কথা বলার একটি ধরণ। মানুষ সাধারণত নিজের নেতিবাচক বিষয় গুলো সবার সাথে শেয়ার করতে চায় না। সে নিজেকে ইতিবাচক-ভাবে তুলে ধরতে চায়। সেজন্য সবাই বলে, ভালো আছি। আসলে কেউ ভালো নেই।

হুটহাট করে মাঝে মাঝে টুকরো টুকরো সৃতি খুব মনে পড়ে যায়।
কত তুচ্ছ অর্থহীন সব ঘটনা। তখন আমার চার কি পাঁচ বছর বয়স হবে। একটা চকলেট হাতে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। মাঝরাতে অসংখ্য পিঁপড়া আমাকে ঘিরে ধরলো। পিপড়ার কামড়ে ঘুম ভেঙ্গে গেল, চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলাম আমি। মা আলো জ্বালালো। দেখা গেল লাল পিপড়ে দিয়ে ভরে গেছে আমার বালিশ- বিছানা। আব্বা তো হইচই শুরু করে দিল। একটাকেও আস্ত রাখবো না। সব ক'টা পুড়িয়ে মারবো। আমার ছেলেকে কামড় দিয়েছে। কেরাসিন আনো, দিয়াশলাই দাও। মা বলল, এত রাতে চিৎকার চেচামেচি করো না। আর আমি তখন বসে বসে ভাবছি- পিঁপড়েদের এত রাতে খবর দিল কে? কি করে তারা জানতে পারল আমার হাতে চকলেট আছে? পিপড়া'রা কি রাতে ঘুমায় না?

মেডিক্যালের এক ছাত্র উচ্চতর ক্যালকুলাসে ফেইল করে প্রফেসরের কাছে গিয়ে ক্ষোভ ঝাড়ে, “হেই, ছাতার এই অঙ্ক করে আমার কি লাভ? আমি কেন ক্যালকুলাস পড়ব? এমন তো না যে আমি ডাক্তার হলে ক্যালকুলাস আমার হাতি ঘোড়া উপকার করবে!” প্রফেসর শান্তভাবে উত্তর দেন, “আসলে তুমি যা বলেছ ঠিক নয়। ক্যালকুলাস মানুষের প্রাণ বাঁচায়।” “কীভাবে? দেখান দেখি!” ছাত্র জানতে চায়।
“খুব সোজা। ডাক্তার হওয়ার মতো যোগ্যতা যাদের নেই, ক্যালকুলাসের কারণে আগে থেকেই তারা মেডিক্যাল স্কুল থেকে ঝরে পড়ে।

গ্রিক দার্শনিক প্রবর নাকি দিনের বেলা বাতি জ্বালিয়ে কোনো কিছু খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন। এক পথচারী তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, মহোদয় আপনি দিনের বেলায় এমন করে কী খুঁজছেন? উত্তরে দার্শনিক বলেছিলেন মানুষ। দার্শনিক প্রবরের খুঁজে বেড়ানোর ধারা আর উত্তরের মধ্যে বেশ অভিনবত্ব আছে এ কথা স্বীকার করতেই হবে। কারণ মানুষ যেখানে চারপাশেই ভিড় করে আছে সেখানে তাকে খুঁজে বেড়াতে হয় না। আবার দিনের বেলায় বাতি জ্বালিয়ে খোঁজা সে তো এক দেখার মতো ব্যাপার। কাজেই সব ব্যাপারটার মধ্যে যদি অন্য কোনো তাৎর্পয না থাকে তাহলে এটাকে পাগলামি বলা ছাড়া গত্যন্তর নেই।

বিচক্ষণ ব্যক্তি মাত্রই বলবেন, না, ব্যাপারটা পাগলামি নয় এর মধ্যে তাৎর্পয তো আছেই, তদপুরি আছে একটি শাশ্বত তথ্য। অর্থাৎ এমনি দিনের বেলায় বাতি জ্বালিয়ে মানুষ খোঁজার ব্যাপারটি দার্শনিকের সঙ্গেই শেষ হয়ে যায়নি। প্রতি যুগেই এমনি মানুষ খোঁজার একটা প্রচেষ্টা আমরা লক্ষ্য করে থাকি। অতীতেও তা ছিল, আর এখনো আছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, মানুষ তাহলে মানুষ নয় আর দিনের আলোও আলো নয়। চারদিকে অজ্ঞানতার অন্ধকারে ছেয়ে আছে। এর সামনে দিনের আলো আর রাতের কালো সবই এক সমান। আর সেই অন্ধকারে মানুষের চেহারা নিয়ে যারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা সবাই মানুষ নয়, ভিন্নতর কোনো জীব। দার্শনিক জ্ঞানের মশাল নিয়ে তাই মানুষ খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

হে ঈশ্বর তুমি সকলের সুমতি দান করো।
তুমি প্রকট হও।




সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১২:৩৫
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিব হল → ওসমান হাদি হল: নতুন বাংলাদেশের শুরু ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে ডাকসু নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করনি‼️রবিন্দ্র নাথ সঠিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু ভুল ছিলেন। বাঙালি আজও অমানুষ!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১৩


১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের জনগন সহ সমগ্র বিশ্বের প্রতি যে নির্দেশনা। তা এই ভাষণে প্রতিটি ছত্রে ছত্রে রচিত করেছিলেন। ৭ই মার্চের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ভাষণের নির্দেশনাগুলো! কি অবলীলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মের শুভেচ্ছা হে রিদ্ধী প্রিয়া

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০১



জন্মের শুভেচ্ছা নিও হাজার ফুলের
শৌরভে হে রিদ্ধী প্রিয়া, তোমার সময়
কাটুক আনন্দে চির।স্মৃতির সঞ্চয়
তোমার নিখাঁদ থাক সারাটা জীবন।
শোভাতে বিমুগ্ধ আমি তোমার চুলের
যখন ওগুলো দোলে চিত্তাকর্ষ হয়
তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মা জননী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯


তুমি আপসহীন বলে ঘুমিয়ে গেলে
শহীদ জিয়ার পাশে অশ্রুসিক্ত শুধু
বাংলার মাটিতে ধানের শীষে শীষে
তোমার নামের ধ্বনিতে গান গায়ব
আমরা শুনোবো যে দোয়েলের ঠোঁটে
তুমি চিরামলিন তোমার কর্ম আদর্শে
আমরা জাগবো লাল সবুজ পতাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

=হাঁটি, আমি হাঁটি রোজ সকালে-মনের আনন্দে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

রোজ সকালে খুব হাঁটার অভ্যাস আমার, সকালটা আমার জন্য আল্লাহর দেয়া অনন্য নিয়ামত। হাঁটা এমন অভ্যাস হয়েছে যে, না হাঁটলে মনে হয় -কী যেন করি নাই, কী যেন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×