somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জীবনের গল্প- ৫৯

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৯:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ আমার তোলা।

মানব জীবন বড় রহস্যময়।
বড় আনন্দময়। তবে জীবনের পথ মসৃন নয়। জন্মের পর আমৃত্যু সংগ্রাম করে যেতে হয় বেঁচে থাকার জন্য। কোনো মানুষের জীবনই সহজ সরল সুন্দর নয়। তবে দক্ষ ও পরিশ্রমী মানুষেরা জীবনটাকে নিজের মনের মতো সাজিয়ে নিতে পারে। অবশ্য তাদের সংখ্যা খুবই কম। বেশির ভাগ মানুষই জীবন যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর তাঁরা দুঃখে-কষ্টে আর অভাবে অভাবে জীবন পার করে। অল্প কিছু মানুষ সত্যিকারভাবে জীবনটাকে উপভোগ করতে পারে। ধনী দেশের মানুষের তুলনায় দরিদ্র দেশের মানুষের কষ্ট বেশি। আমাদের বাংলাদেশের মানুষ সীমাহীন কষ্ট করে আমৃত্যু পর্যন্ত। জীবনে ঘটে যাওয়া কোনো কোনো ঘটনা জীবনকে মহামানিত্ব করে তোলে। বড় আনন্দ দেয়। আজ সেরকমই দু'টা ঘটনা বলব।

১। মন্ডা মিঠাইঃ
এই ঘটনা শুরু প্রায় ২০/২২ বছর আগে। একদিন আমি বাগেরহাট যাচ্ছিলাম। আমি যাবো রায়েন্দা। সেখানে বাসে আমার সাথে পরিচয় হয় কামাল নামের একজনের সাথে। কামাল যাবেন মোল্লারহাট নামক জায়গায়। বাসে আমরা পাশাপাশি বসেছিলাম। কামাল দরিদ্র ঘরের সন্তান। লেখাপড়া সামান্য করেছে। কামালের সাথে নানান বিষয়ে গল্প হলো। এক জায়গায় বাস থামলো। আমরা চা-টা খেলাম। কথায় কথায় কামাল বলল- আপনি কি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মন্ডা খেয়েছেন। আমি বললাম- না খাই নি। কামাল বলল- আমি আপনাকে খাওয়াবো। আমাদের অঞ্চলের বিখ্যাত মন্ডা মিঠাই। কামাল প্রায় জোর করেই আমার ঠিকানা নিলো।

এরপর কামালের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ হয়নি।
মাঝখানে ২০/২২ বছর কেটে গেছে। কামালের কথা আমি সম্পূর্ন ভুলে গেছি। যদিও এর মধ্যে আমিও বেশ কয়েকবার মনমনসিংহ গিয়েছি। কিন্তু মন্ডা খাওয়া হয়নি। এই তো কয়েক বছর আগে এক আত্মীয়ের বাসায় মুক্তাগাছার মন্ডা খেয়েছি। আমার কাছে আহামরি কিছু মনে হয় নি। গতকাল এক অপরিচিত লোক বাসায় এসেছে। তার নাম কামাল। কামাল বাসায় দুই কেজি মন্ডা দিয়ে গেছে। কামাল তার কথা রেখেছে- সে আমাকে তার অঞ্চলের মন্ডা খাইয়েছে। ২০/২২ বছর সময় লাগার কারন হচ্ছে- তার জীবনের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেছে। সে কাজের জন্য মধ্যপ্রাচ্য চলে গিয়েছিলো। সেখানে বিনা অপরাধে তার জেল হয়েছিলো। ইত্যাদি ইত্যাদি।

২। একজন অসহায় মাঃ
ইসলামপুর পাটিয়াটুলী'তে আমার ফুপার ব্যবসা আছে। বিরাট ব্যবসা। কোটি কোটি টাকার ব্যবসা। যাই হোক, একদিন ফুপার কাছে গিয়েছি। ফুপা অফিসে নেই। আমি ফুপার অফিসের নীচে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছি। এমন সময় দেখি একজন অসহায় মা তার দুই শিশু কন্যার জন্য ভিক্ষা চাচ্ছে। কেউ তাকে ভিক্ষা দিচ্ছে না। অসহায় মা খুব আকুতি মিনতি করে বলছে- আমার বাচ্চা দু'টা না খাওয়া। ওদেরকে ভাত খাওয়াবো। কেউ টাকা দিচ্ছে না। রাস্তার পাশে ফুটপাতে এক ভাতের হোটেলে মা তার দুই বাচ্চাকে নিয়ে বলল- সামান্য ভাত আর একটু ঝোল দেন, বাচ্চাদের খাওয়াবো। হোটেলওলা ধমক দিয়ে বলল- যাও এখন বিরক্ত করো না। বিকেলের দিকে আসো। আমার খুব রাগ হলো। সামান্য ভাত দিলে কি এমন ক্ষতি হতো হোটেলওলার!

আমি অসহায় মায়ের কাছে গেলাম।
ছোট দুটা বাচ্চার বয়স ৪/৫ হবে। আমি ফুটপাতের সেই হোটেলে মা আর বাচ্চাকে বসালাম। বললাম, আপনাদের যা যা খেতে ইচ্ছা করে আপনারা খান। টাকা আমি দিবো। মা এবং বাচ্চা দুটি খুব আরাম করে খেলো। আমি তাদের পাশে চুপ করে বসেছিলাম। মা তার দুই কন্যাকে ভাত মেখে খাইয়ে দিচ্ছে। দুই কন্যার চোখমুখ খুশিতে ঝলমল করছিলো। বাচ্চা দুটার আনন্দ দেখে আমার মন খুশিতে ভরে উঠলো।

এই ঘটনার পর অনেক বছর পার হয়ে গেছে।
আমি অসহায় মা আর তার দুই কন্যার কথা ভুলেই গেছি। বছরে দুই তিন বার আমার পাটুয়াটুলী যাওয়া হয়। ফুপার সাথে দরকারী আলাপ সেরে চলে আসি। দুই বছর আগের কথা। ফুপার কাছে গিয়েছি। ফুপার সাথে দেখা সাক্ষাৎ শেষ করেছি। ফুপার অফিস থেকে বের হতেই এক মহিলা আমার কাছে এলো। বললো- ভাইজান আমাকে চিনতে পারছেন। আমি বললাম, না চিনি নাই।

মহিলা অনেক বছর আগের সেই ঘটনা বলল।
আমি তাকে এবং তার দুই কন্যাকে ভাত খাইয়েছিলাম। মহিলার চোখে পানি চলে এসেছে। মহিলা গর্বের সাথে বলল, সেই ভাতের হোটেল এখন আমার। আমি কিনে নিয়েছি। আমার দুই মেয়ে লেখাপড়া করে। মহিলা খুব নরম গলায় বলল- আপনি যদি আমার হোটেলে আসেন, একটু ভাত খান আমি খুবই খুশি হবো। আমি সেই হোটেলে গেলাম এবং ভাত খেলাম। রান্না বেশ ভালো। মহিলা তার দুই মেয়েকে ডেকে নিয়ে এলো। দুটা মেয়েই অনেক বড় হয়ে গেছে। দেখতে বেশ মিষ্টি। দুটা মেয়ের মাথায় হাত রেখে আমি দোয়া করে দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৯:৩৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন সমগ্রঃ পর্ব ২

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



আকবর শেঠ।



'বৈঠকি খুনের জনক' আকবর শেঠ এর জন্ম ১৯৫০ এর দশকে। আকবরের প্রথমদিককার জীবন সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়না। আকবর শেঠ প্রথম লাইমলাইটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিব হল → ওসমান হাদি হল: নতুন বাংলাদেশের শুরু ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে ডাকসু নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করনি‼️রবিন্দ্র নাথ সঠিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু ভুল ছিলেন। বাঙালি আজও অমানুষ!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১৩


১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের জনগন সহ সমগ্র বিশ্বের প্রতি যে নির্দেশনা। তা এই ভাষণে প্রতিটি ছত্রে ছত্রে রচিত করেছিলেন। ৭ই মার্চের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ভাষণের নির্দেশনাগুলো! কি অবলীলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মের শুভেচ্ছা হে রিদ্ধী প্রিয়া

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০১



জন্মের শুভেচ্ছা নিও হাজার ফুলের
শৌরভে হে রিদ্ধী প্রিয়া, তোমার সময়
কাটুক আনন্দে চির।স্মৃতির সঞ্চয়
তোমার নিখাঁদ থাক সারাটা জীবন।
শোভাতে বিমুগ্ধ আমি তোমার চুলের
যখন ওগুলো দোলে চিত্তাকর্ষ হয়
তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

=হাঁটি, আমি হাঁটি রোজ সকালে-মনের আনন্দে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

রোজ সকালে খুব হাঁটার অভ্যাস আমার, সকালটা আমার জন্য আল্লাহর দেয়া অনন্য নিয়ামত। হাঁটা এমন অভ্যাস হয়েছে যে, না হাঁটলে মনে হয় -কী যেন করি নাই, কী যেন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×