somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমি মোটামোটি একজন দুঃখী মানুষ

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি একজন সুখী মানুষ।
তবে অনুভব করি মোটামটি আমি একজন দুঃখী মানুষ। কিছু দুঃখ আমার আছে। যা আমৃত্যু আমাকে বহন করে যেতে হবে। তবে আমার দুঃখগুলো গভীর গোপন। ইচ্ছা করেই আমি গোপন রাখি। কাউকে জানতে দেই না। বুঝতে দেই না। ছোটবেলায় আমি যখন একটা ইংলীশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি হই, তখন আমাদের ক্লাশে একটা মেয়ে ছিলো। মেয়েটার নাম ছিলো সুকন্যা। দেখতে একদম পুতুলের মতোন সুন্দর। মেয়েটা এখন কোথায় আছে আমি জানি না। সুকন্যাকে আমার প্রায়ই দেখতে ইচ্ছা করে। মেয়েটা তার টিফিন আমাকে খাওয়াতো। আমিও খুব আগ্রহ করে খেতাম। অথচ মেয়েটাকে আমি কোনো দিন কিছু খাওয়াতে পারি নি। সেই মেয়েটার কথা মনে পড়লে আমার খুব দুঃখবোধ হয়। বুকের মধ্যে হাহাকার করে। যদি একবার মেয়েটার সাথে দেখা হতো। আচ্ছা, মেয়েটার সাথে এখন দেখা হলে কি চিনতে পারবো?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালে পড়ার আমার খুব ইচ্ছা ছিলো।
আমার বড় ভাই সেখানেই পড়েছে। কিন্তু আমার ভাগ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুটেনি। এমন কি আমার ক্যাডেট কলেজে পড়ার খুব ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু চান্স পাইনি। ক্যাডেট কলেজ সুযোগ পাওয়ার জন্য ক্যাডেল ভর্তি কোচিং করেছি। আমার মনে আছে, সে সময় খুব মন দিয়ে পড়েছিলাম। যাই হোক, মাস্টার্স শেষ করে ইচ্ছা ছিলো আমেরিকা গিয়ে পিএইচডি করবো। কিন্তু হলো না। জীবনটা ছ্যাড়াবেড়া হয়ে গেলো। পোড়া কপাল আমার। কোনো ইচ্ছাই আমার পূরন হলো না। অথচ সময় কত দ্রুত ফুরিয়ে গেলো। দুনিয়াতে যদি আরেকবার আসি, তাহলে আমার জন্য ভালো হবে। ইচ্ছা গুলো পূরন করার সুযোগ পাবো। এবার আর ভুল করবো না। আমার বাবার আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিলো। আমি হতভাগা আমার বাপের কোনো স্বপ্ন পূরন করতে পারি নি। অথচ আব্বা কোনো দিন আমকে কিছু বলে নি। বরং
বলেছে, তুমি যেমন আছো, ভালো আছো।

আমার একটা শিল্প কারখানা দেওয়ার ইচ্ছা ছিলো।
হাজার হাজার শ্রমিক আমার কারখানায় কাজ করবে। আমার কারখানায় নানান রকম পণ্য উৎপাদন হবে। সারা দেশে ছড়িয়ে যাবে আমার উৎপাদিত পণ্য। এমন কি বিদেশেও রপ্তানি হবে আমার পণ্য। একটা গার্মেন্টস দেওয়ার ইচ্ছা ছিলো। আমার ফ্যাক্টরীতে বানানো কাপড় যাবে আমেরিকা, ফ্রান্স আর জার্মানী। সেই স্বপ্নও আমার পূরন হলো না। এজন্য আমার গভীর গোপন দুঃখ বুকে বাজে। বুকের গভীর থেকে দীর্ঘশ্বাস বের হয়! যা আমাকে যন্ত্রনা দেয়। একটা লাইব্রেরী করার ছিলো। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মতো। সেটাও হলো না। অবশ্য লাইব্রেরী করার সময় এখনও আমার আছে। নিজেকে নিজে বুঝ দেই- দেরী হোক, যায়নি সময়। নিজেকে যতই বুঝ দেই- আমি বুঝি সময় খুব দ্রুতই যাচ্ছে। একটা প্রকাশনী দেওয়ার ইচ্ছা আমার দীর্ঘদিনের। সেটা আজও করা হলো না। প্রকাশনী করতে টাকাও বেশি লাগে না। কিন্তু করা হচ্ছে না। সময় চলে যাচ্ছে। আমি তো অলস নই।

বাসা থেকে বের হলেই অসংখ্য দরিদ্র মানুষ দেখি।
চারিদিকে এত এত দরিদ্র মানুষ কিন্তু কারো জন্যই কিছু করা হয় না। রাস্তায় বের হলে অসংখ্য ভিক্ষুক হাত পাতে। কয়জনকে দেওয়া যায়? অথচ সবাইকেই দিতে ইচ্ছা করে। সবাইকে দিতে না পারার জন্য আমার মন খারাপ হয়। দুঃখ লাগে। আমার ইচ্ছা আছে একদিন এক বস্তা টাকা নিয়ে বের হবো। যত গরীব মানুষ দেখবো সবাইকে দিবো। কাউকে ফিরিয়ে দিবো না। একটা ফোটোগ্রাফী স্কুল খোলার ইচ্ছা আছে। দরিদ্র পিতা মাতার সন্তানের জন্য একটা স্কুল দিবো। সেখানে ছেলেমেয়েরা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। একটা হাসপাতাল দেওয়ার ইচ্ছা আছে। আসলে এগুলো শুধু ইচ্ছা না, এগুলো আমার স্বপ্ন। এখনও কত কিছু করার বাকি, কত কিছু করার ইচ্ছা। অথচ জীবনের পয়ত্রিশ বছর পার করে ফেলেছি। আর কত দিন বাঁচবো। স্কুল, লাইব্রেরী, ফ্যাক্টরী কিছুই কি করা হবে না? এসব না করে মরে গেলে, মরেও তো শান্তি পাবো না।

আমি আমার পরিবার নিয়ে আমেরিকা চলে যাবো।
পরীকে নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। পরী যাবে কানাডা। বড় ভাই, ভাবীর সাথে থাকবে। সুরভি, ফারাজা আর আমি যাবো আমেরিকা। কারন এই দেশে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব না। আমাদের দেশের মানুষ গুলো বড় বেশি বদ। কেউ কেউ একেবারে অমানুষ। এই দেশে ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যায় না। রাস্তায় বের হলেই ভিক্ষুক। মানুষ গুলো বড় বেশি জটিল আর কুটিল। এরা নিজেরাও ভালো থাকবে না, অন্যকেও ভালো থাকতে দিবে না। বিশেষ করে ঢাকা শহর হলো গজবের শহর। এই শহরে আমি থাকবো না পরিবার নিয়ে। এই শহরের মানুষ গুলো একজন আরেকজনকে ঠকাতে পারলেই খুশি হয় এবং ঠকিয়ে নিজেকে বুদ্ধিমান ভাবে। সব কিছু মিলিয়ে আমি একজন মোটামোটি দুঃখী মানুষ। চাওয়া গুলো পাওয়া হয়নি। এই না পাওয়াই আমাকে দুঃখ দেয়। যন্ত্রনা দেয়। তাই মৃত্যুর আগে সমস্ত ইচ্ছা গুলো পূরন করতে হবে আমাকে। করতেই হবে। আমি একা ভালো থাকতে চাই না। আমি চারপাশের সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে চাই। সেটাই আমার আসল আনন্দ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১২:৫৮
২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খালেদা জিয়া নাকি শেখ হাসিনা! কে কাকে হত্যা করতে চেয়েছিল?

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৪০



সুপার এক্সক্লুসিভঃ খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং করে মেরে ফেলেন শেখ হাসিনা – কতটুকু সত্য? খালেদা জিয়া যে মদ্যপায়ী ছিলেন এবং মদ্যপানের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসল সত্য তাহলে কোনটা?

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬

আসল সত্য তাহলে কোনটা?

জাপানের ফুজি মাউন্টেন, ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ওরা এখনো বলে, শাপলা চত্বরে হেফাজতের জমায়েতে
কাউকেই নাকি হত্যা করা হয়নি।
গায়ে রং মেখে কিছু লোক ৫ মে ২০১৩... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্ষোভের দাবানলে পুড়ছে খোমেনির তখত-তাউস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৬

ক্ষোভের দাবানলে পুড়ছে খোমেনির তখত-তাউস।
=============================
ইরান আজ আর শুধু বিক্ষোভের দেশ নয় ইরান এখন একটি ক্ষুব্ধ জাতির নাম। খামেনির নেতৃত্বাধীন মোল্লাতান্ত্রিক জঙ্গি শাসনের বিরুদ্ধে যে গণজাগরণ শুরু হয়েছে, তা কোনো হঠাৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা নবীজিকে ভুল ভাবে অনুসরণ করেন, তারাই দিপু দাসকে হত্যা করেছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

ইসলাম বুঝতে আপনি কার আদর্শ বেশি অনুসরণ করবেন - নবীজির বংশধর নাকি তাঁদের বাইরের কারো? নবীজির কথা যারা ভুলে গিয়েছেন এবং আমাদের ভুলে যেতে অযাচিতভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন, তারাই দিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার কথা : তৃতীয় পর্বের পর

লিখেছেন সুম১৪৩২, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩০



“আসলে উনি কে…?”
এই শিরোনামের একটি লেখা দিয়েই আমার লেখালেখির শুরু।
সামুতে।
এটার পর, আমি এই গল্পের কয়েকটা পর্ব লিখেছিলাম। মোট তিনটি । শেষ পর্বটির নাম ছিল—“পশ্চিম পাড়ার পথে”।

গল্পটার সময়কাল ১৯৯০ সাল।
রহস্য আছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×