somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ঢেঁড়স

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





মানুষের যখন বয়স বাড়ে, তখন ছোটবেলার কথা মনে পড়ে।
ছোটবেলার বহু ঘটনা একদম ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু ইদানিং হুটহাট বহু ঘটনা চোখের সামনে ভেসে আসে। আমাদের পাশের বাসায় কাদের নামে একজন লোক থাকতেন। আমরা সবাই তাকে কাদের মামা বলে ডাকতাম। তিনি ছোটদের খুবই ভালোবাসতেন। মাঝে মাঝে মামা আমাদের সাথে ফুটবল খেলতেন।
একবার কাদের মামার সাথে তার গ্রামের বাড়ি গেলাম। বাড়ি ঢাকার কাছেই সোনারগাও। যদিও এখন সোনারগাও যেতে এক ঘন্টা সময় লাগে। কিন্তু তখন অনেক সময় লাগতো। কাদের মামার বাসায় গিয়ে দেখি তার স্ত্রী এবং দুই কন্যা উঠানে বসে ভাত খাচ্ছে ঢেঁড়স ভর্তা দিয়ে। আর কোনো কিছু নেই। আমাকেও ঢেঁড়স ভর্তা দেওয়া হলো। ঢেঁড়স বাজি বা ভর্তা আমি কোনোটাই খাই না। লাল চালের ভাত। সেই ভাত আবার কেমন নরম হয়েছে। এরকম খাবার আমার পক্ষে খাওয়া সম্ভব না। সামান্য ডাল বা অন্য কোনো তরকারীও নেই। কাদের মামা যে এতটা দরিদ্র সেটা আমি জানতাম না।

তখন আমি ক্লাশ সেভেন এ পড়ি।
একলোক আমেরিকা থেকে আমাদের বাসায় কিছুদিন থাকতে এসেছেন। তবে তিনি নিজে রান্না করে খাবেন। সারাদিন বাইরে বাইরে থাকেন। সন্ধ্যার আগে আগে বাসায় আসেন। একদিন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম- সারাদিন কোথায় থাকেন? তিনি বললেন, আমার স্ত্রী আর ছেলেমেয়েদের খুঁজি। তাঁরা হারিয়ে গেছে। বিশ বছর ধরে তাদের কোনো খোজ আমি জানি না। যাই হোক, তাকে দেখলাম পলিথিন ব্যাগে করে কিছু ঢেঁড়স নিয়ে এসেছেন। আমার সামনেই ঢেঁড়স সিদ্ধ দিলেন। কিছু পরিমান লবন ছিটিয়ে দিলাম। তারপর কচকচ করে খেতে শুরু করলেন। আমি অবাক হয়ে দেখলাম। এটাও সম্ভব! আমি বললাম, এই বস্ত খেতে আপনার কাছে কেমন লাগছে। তিনি বললেন, তুমি খেয়ে দেখো। খেতে অসাধারণ হয়েছে। জন্মভূমির সব সবজি আমার প্রিয়। কতদিন পড়ে খাচ্ছি!

ঢেঁড়স আমি পছন্দ করি না।
তবে দুই একবার খেয়েছি। খেতাম না। সুরভি খুব জোর করাতে সামান্য খেয়েছি। সুরভি ঢেঁড়স ভাজি করে। আবার মাঝে মাঝে চিংড়ি মাছ দিয়েও রান্না করে। বাসার সবাই বলে সুরভির ঢেঁড়স ভাজি বা ঢেঁড়স এর তরকারী খেতে খুব ভালো হয়। আমি বাসার জন্য সবজি কেনার সময় ঢেঁড়স কিনি। সব সময় এক কেজি ঢেঁড়স কিনি। দাম সস্তা। ৪০/৫০ টাকা কেজি। পরী বেশ মজা করে ঢেঁড়স খায়। সেদিন দেখলাম, পরী খেতে বসেছে। সে ঢেঁড়স দিয়েই সব ভাত খেয়ে নিলো। অথচ টেবিলে দেশী মূরগী ছিলো। ডাল ছিলো। লাল শাক ছিলো। আমি চুপ করে পরীর খাওয়া দেখলাম। খাওয়া শেষে জিজ্ঞেস করলাম, শুধু ঢেঁড়স খেলে কেন? মূরগী বা ডাল নিলে না কেন? পরী বলল, ঢেঁড়স ভাজিটা খুব মজা হয়েছে। কিভাবে রান্না করে কে জানে! খেতে দারুন হয়। পরীর দেখাদেখি আমিও ভাতের সাথে ঢেঁড়স নিলাম। কিন্তু আমি ঢেঁড়স খেয়ে মজা পেলাম না। আজিব!

একবার সিলেট বেড়াতে গিয়েছিলাম।
সেবার সিলেট গিয়ে অনেকদিন ছিলাম। পুরো সিলেটের আনাচে কানাচে সব ঘুরে দেখেছি। যাই হোক, যে বাসায় বেড়াতে গিয়েছি তাঁরা অনেক ধনী। সারাদিন ঘুরে বেড়াই তাদের গাড়িতে করে।। রাতে তাদের বাসায় খাই। খেতে বসে অবাক হতে হয়। টেবিল ভর্তি নানান রকম খাবার। কমপক্ষে ১৫/২০ পদ তো হবেই। যত পদই থাকুক আমি সাধারনত গরুর মাংস আর ইলিশ মাছ ছাড়া অন্য কিছু খাই না। যাই হোক, গরুর মাংস দিয়ে মজা করে গরম ভাত খাচ্ছি। পোলাউ ছিলো নিই নি। পোলাউ এর চেয়ে সাদা ভাত'ই আমার বেশি ভালো লাগে। তখন বাড়ির কর্তী বললেন, এই ছেলে তুমি এক পদ দিয়ে খাচ্ছো কেন? রান্না কি ভালো হয়নি? বলেই তিনি আমার প্লেটে একগাদা ঢেঁড়স দিয়ে দিলেন। ঢেঁড়স রান্না হয়েছে ঘন ডাল দিয়ে। আমি প্রচন্ড বিরক্ত হলাম। আমি আরাম করে খাচ্ছিলাম। ভদ্রমহিলা আমার খাওয়াটা নষ্ট করে দিলেন।

এই কিছুদিন আগের কথা।
দুপুরে এক হোটেলে খেতে গিয়েছি। রুই মাছ আর ডালের অর্ডার করেছি। ওয়েটার এসে আমার প্লেটে ঢেঁড়স দিয়ে দিলো। আমি বললাম, এটা কি করলে? ওয়েটার বলল, ঢেঁড়স ভাজি দিলাম স্যার। এটা ফ্রি। দাম দিতে হবে না। আমার খুব রাগ হলো। আমি বললাম, আমি আজীবন 'ফ্রি' ব্যাপারটা অপছন্দ করেছি। আর তুমি আমাকে আমার অনুমতি না নিয়েই ফ্রি দিয়ে দিলে! ওয়েটার বলল, ঢেঁড়স সবাই খায়। এমন কি অনেকে একবার দিলে আরেকবার চেয়ে নেয়। আমি বললাম, ঢেঁড়স আমি খাই না। একেবারেই খাই না। বলা যায় আমি ঢেঁড়স অপছন্দ করি। আর তুমি সরাসরি একগাদা ঢেঁড়স আমার প্লেটে ঢেলে দিলে! এই ভাত ফেরত নিয়ে যাও। আবার নতুন করে ভাত আনো। ওয়েটার বেশ বিরক্ত হলো আমার উপর। যতই বিরক্ত হোক, খাওয়া শেষে বেশি করে বকশিস দিয়ে তাকে খুশি করে দিবো। মানুষকে খুশি করতে আমার ভালো লাগে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:৪১
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মীয়তা বজায় রাখা ইসলামে ফরজ

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:১৪

ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা (সিলাতুর রাহিম) একটি মৌলিক নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। এটি কেবল সামাজিক শিষ্টাচার নয়; বরং আল্লাহর নির্দেশিত ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কুরআন ও হাদীসে বারবার আত্মীয়তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ইলিশ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:২৬


ইলিশ!ইলিশ!! রূপালী ইলিশ, কোথায় তোমার দেশ? 
ভোজন রসিকের রসনায় তুমি তৃপ্তি অনিঃশেষ। 

সরষে- ইলিশ, ইলিশ-বেগুন আরও নানান পদ
যেমন তেমন রান্না তবুও খেতে দারুণ সোয়াদ

রূপে তুমি অনন্য ঝলমলে ও চকচকে।
যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×