
আবু বকব এঁর বয়স ৩৬ হবে।
মুখে ভরতি দাঁড়ি। কথায় কথায় আল্লাহু আকবার। মাশাল্লা। আলহামদুল্লাহ বলে। আমাদের এলাকায় থাকে। বিয়ে করেছে। কিন্তু বউ এঁর সাথে আপাতত তার কোনো যোগাযোগ নাই। অবশ্য বিয়ের পর বউকে তার বাসায় আনতে পারেনি। আনি আনি করে করে আর আনা হয়নি। আসলে আবু বকর বেকার। সে থাকে তার বোনের সাথে। এমনকি তার বাপ মা-ও মেয়ের সাথে থাকে। বউকে কোনো খরচপাতি দিতে পারে না আবু বকর। সপ্তাহে দুই দিন গিয়ে বউ এঁর সাথে থাকতো। এভাবে দুই বছর চলল। তাদের একটা সন্তান হলো। আবু বকর এতটাই দরিদ্র যে সন্তানের কোনো খরচও দিতে পারে না। বরং বড় বড় কথা বলে। একদিন আবু বকরের বউ রাগ করে বলল, তোমার সাথে থাকা আমার আর সম্ভব না। তুমি ভয়াবহ বদ ও মিথ্যাবাদী।
আজ প্রায় এক বছর ধরে আবু বকর একা।
সে তার সন্তানকে পর্যন্ত দেখতে যেতে পারে না। আবু বকরের সাথে আমার রাস্তায় দেখা। আমি বললাম, কি হয়েছে আপনার? এমন শুকিয়ে গেছেন কেন? আবু বকর বলল- আমাকে কুফুরী করেছে। আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এজন্য দিন দিন আমি শুকিয়ে যাচ্ছি। কালো হয়ে যাচ্ছি। রাতে ঘুমাতে পারি না। কিছু খেতে পারি না। আমি বললাম, আপনার অপরাধ কি? কেন আপনাকে শাস্তি দিচ্ছে? আবু বকর বলল- আমার বউটা ভালোই ছিলো। আসল বদমাশ হলো আমার শ্বাশুড়ি আর তার ছেলে। এই বেটিই আমাকে কুফুরী করেছে। বেটি আর তার ছেলে চায় না আমি আমার স্ত্রীর সাথে মিলেমিশে থাকি। আর আমার বউও গাধী। আবু বকর মন খারাপ করা গলায় বলল- আমার সন্তানকে পর্যন্ত দেখতে যেতে পারি না। খুব কষ্ট হয়।
কুফুরী কালাম সম্পর্কে আমি তেমন কিছু জানি না।
ধারনা করি- কাউকে যাদুটোনা করা, বান মারা এরকম কিছু হবে। এগুলো মুভিতে দেখেছি। এই যুগে এগুলো বিশ্বাস করার কিছু নেই। আমি আবু বকর কে বললাম- কুফুরী একটা ফালতু বিষয়। এগুলো বিশ্বাস করা ঠিক না। আপনি শুকিয়ে গেছেন কারন- আপনার স্ত্রী সন্তান আপনার কাছ থেকে দূরে। তাদের কথা খুব ভাবেন। রাতে ঠিক মতো ঘুমান না। ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করেন না। আবু বকর কিছুটা আমার উপর রেগে গেল। বলল- কুফুরী অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। কুফুরী বিশ্বাস না করলে ইমান থাকবে না। হয়তো কুফুরী সম্পর্কে আপনার কোনো ধারনা নেই। আমার নিজের দুইজন আত্মীয়কে কুফুরী করে মেরে ফেলা হয়েছে। নিজের চোখে দেখেছি। আমি বললাম, কুফু'রীই যদি এত পাওয়ার থাকে। আমাকে কুফুরী করে মেরে ফেলেন। সমস্যা নেই আমি সাদা কাগজে সাইন করে দিচ্ছি- আমার মৃত্যুর জন্য আমিই দায়ী।
মানুষের মধ্যে কিছু বিশ্বাস গেঁথে যায়।
সে গুলো কিছুতেই আর বের করা যায় না। আমৃত্যু সে তার বিশ্বাস নিয়ে থাকে। আবু বকর কুসংস্কার বিশ্বাসী মানুষ। জন্ডিস হলে ডাক্তারের কাছে যায় না। এক মহিলার কাছে যায়। মহিলা দশ টাকা নেয়। সে মাথা ধুয়ে দেয়। মাথা থেকে পানির সাথে সব হলুদ বের হয়ে যায়। জন্ডিস ভালো হয়ে যায়। আমি ব্যাক্তিগতভাবে আবু বকরের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলাম। আমি আবু বকরের বউ এঁর সাথে দেখা করলাম। বললাম, ভাবী বকর ভাই তো খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। রাতে ঘুমান না। শুকিয়ে গেছেন। ভাবী বললেন, বকর ভন্ড। সে আমার জীবনটা নষ্ট করেছে। তার সম্পর্কে যা বলেছে, সব মিথ্যা বলেছে। বিয়ের পর থেকে একটা টাকা খরচ করেনি। বাচ্চার দুধ কেনার টাকা পর্যন্ত তার কাছে নেই। থাকবে কি করে সে তো কোনো কাজই করে না। কিন্তু বড় বড় কথা বলে- তার চাচা মন্ত্রী। তার মামা সচিব। তার খালু বিরাট ব্যবসায়ী। আসলে এগুলো মিথ্যা। মিথ্যা আমি পছন্দ করি না।
আমার ধারনা আবু বকর আর তার স্ত্রীর ঝামেলা মিটে যাবে।
বাঙ্গালী মেয়ে ঠিকই মেনে নিবে। মানিয়ে নিবে। সবচেয়ে বড় কথা আবু বকরের স্ত্রী স্বাবলম্বী। লেখাপড়া জানা মেয়ে। ভালো চাকরী করে। একজন আবু বকরকে চালিয়ে নেওয়া তার জন্য কঠিন কিছু না। আমার ধারনা আবু বকরের প্রধান সমস্যা তার ধর্ম। অতি ধার্মিক। সে ধার্মিকের ভান ধরে থাকে। কিন্তু সে মোটেও আসল ধার্মিক না। একবার তার স্ত্রী বেশ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন সে তার স্ত্রীকে হাসপাতালে না নিয়ে দোয়া পড়ে ফু দেয়। বলল, এই দোয়ার অনেক ক্ষমতা। তুমি সুস্থ হয়ে যাবে। বেচারি সুস্থ হয়নি। শেষে মেয়ের মা হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমি বিশ্বাস করি, আবু বকর যদি তার ধর্ম থেকে বের হয়ে আসতে পারে এবং তার মিথ্যা কথা বলা বন্ধ করে পারে-তাহলে তার জীবন সুন্দর হবে। আনন্দময় হবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ২:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


