somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

মেয়েরা কেমন স্বামী পছন্দ করে?

০৫ ই অক্টোবর, ২০২২ দুপুর ১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাঙ্গালী মেয়েরা মূলত দুঃখী। তাঁরা আজীবন দুঃখী।
ভাতে দুঃখী, কাপড়ে দুঃখী, প্রেম ভালোবাসায় দুঃখী। এজন্য অবশ্য দায়ী পুরুষেরা। যদিও পুরুষের চেয়ে নারীরা চিন্তা ভাবনায় উন্নত ও মানবিক। প্রথম কথা হচ্ছে- প্রতিটা পুরুষের উচিৎ নারীদের সম্মান করা। কিন্তু পুরুষ নারীদের সম্মান করে না। বরং কুৎসিত ভাবে তাকিয়ে থাকে। যা অত্যন্ত দৃষ্টি কটু লাগে। মেয়েরা হচ্ছে ফুলের বাগান। মেয়েরা হচ্ছে এক আকাশ আনন্দ। মেয়েরা হচ্ছে- স্বচ্ছ, পবিত্র ও দেবী। তাদের যত্ন নিন। সম্মান করুণ। হোক একজন নারী আপনার পরিবারের সদস্য বা অন্য কোনো পরিবাদের সদস্য।

একজন নারী স্বামী হিসেবে এরকম পুরুষ চায়ঃ
শিক্ষিত, সাহসী, রুচিশীল, ভদ্র, স্বচ্ছ, মানবিক, সত্যবাদী, হৃদয়বান, চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী। সর্বোপরি একজন ভালো মানুষ। একজন সফল মানুষ। যে মিথ্যা বলে না। যে সহজ সরল জীবনযাপন করে, যে ভান বা ভনিতা করে না, যে পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল। অর্থ্যাত যাকে বিনা দ্বিধায় বিশ্বাস করা যায়, যার উপর ভরসা করা যায়। যার উপর আস্থা করা যায়। যে ভালোবাসতে জানে। মন খারাপ হলে যার বুকে মাথা রেখে কান্না করা যায়। যে বট গাছের মতো ছায়া দিতে পারে। এরকম পুরুষ প্রতিটা নারী চায়। অথচ বাঙ্গালী এরকম পুরুষ খুব একটা নেই। বাঙ্গালী পুরুষরা মূলত স্বার্থপর।

একজন স্বামীর এরকম হওয়া উচিৎ-
যেন স্ত্রী যদি মৃত্যুর পর আবার দুনিয়াতে আসে, যেন সে আবার তার স্বামীকেই চায়। মূলত বিয়ের সময় পুরুষদের একরকম চেহারা থাকে। বিয়ের পর সেই চেহারা বদলে যেতে থাকে। ফলাফল কেউ কেউ সহ্য করে যায়, কেউ কেউ ডির্ভোস নিয়ে নেয়। গত ৫০ বছরের চেয়ে ইদানিং সবচেয়ে বেশি তালাকের ঘটনা ঘটছে। কারন নারী এখন চুপ থাকে না। তাঁরা প্রতিবাদ করতে শিখেছে। জীবনে চলার পথে সাধারণত পুরুষরাই অসৎ হয় বেশি। এজন্য নারী যত প্রতিবাদ করবে, পুরুষ তত লাইনে আসবে। কারন পুরুষের স্বভাব ভালো না। পুরুষের হলো কুকুরের স্বভাব। ঘরে যত ভালো খাবারই থাকুক বাইরে গু'তে মুখ দিবেই। মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় অস্ত্রই হচ্ছে ভালোবাসা। কাজেই ভালোবেসে যান।

আমার নিজের কথা বলি-
আমি বিয়ে করেছি অনেক বছর হয়ে গেছে। আমার স্ত্রীকে অনেক ভালোবাসি। আমাদের মধ্যে সহজ সরল সম্পর্ক। আমরা ঝগড়া করি না। কারন, আমরা দুজন দুজনকে খুব ভালো বুঝি। আমার স্ত্রীকে বলতে হয় না, আমাকে চা দাও। সে নিজ থেকেই বুঝে আমি এখন চা খাবো কিনা। আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে যাই। ঘরের কাজে তাকে সাহায্য করি। রাতে ঘুম না এলে ব্যলকনিতে বসে গল্প করি। বেড়াতে যাই। শপিং করি। একসাথে মুভি দেখি। এসব করে আমিও খুশি। আমার স্ত্রীও খুশি। মেয়েদের খুশি করতে বেশী কিছু লাগে না। ইচ্ছাটাই যথেষ্ঠ। স্বামীর উচিৎ স্ত্রীকে বুঝা। তার মানসিকতা জানা, তার পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে জানা। সেই মতে জীবনযাপন করা। তাহলে সংসার জীবনে আনন্দ আসবে।

শ্বাশুড়ীর কটুক্তি, গঞ্জনা ও অপমানজনক আচরণের সময় স্বামীকে পাশে পাওয়া যায় না। স্বামীর মাতৃভক্তির মূল্য চোকাতে স্ত্রীকে কষ্ট সহ্য করতে হবে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। স্ত্রী নিরপরাধ হলে মায়ের অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করা পুরুষের কর্তব্য নয়। এটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিয়ম। মাতৃতান্ত্রিক সমাজের মানুষ মঙ্গল গ্রহে বাস করে না। পৃথিবীতেই বাস করে। আর মায়ের অন্যায় আচরনের প্রতিবাদ করা পুরুষের জন্যে কঠিন। তারচেয়ে বরং মাতৃতান্ত্রিক সমাজই ভালো। শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে গেলে- স্বামীকে পাশে পাবেন না। কারন মায়ের অন্যায়ের প্রতিবাদ করা বুদ্ধিমান ছেলের কাজ নয়।

আমাদের জীবনে পরিস্থিতির সাথে সংগ্রাম করার চেয়ে আমাদের উচিত পরিস্থিতিকে মেনে নেওয়া। কথার স্টাইল দেখে বুঝতে হবে আপনার শ্বাশুড়ি উজাইছে কিনা? উজালে থেমে যেতে হবে আপনাকে। কারন, আপনি যদি না থামেন তাহলে সে আরো বেশী উজাবে। তার মানে আপনার থেকেই সে উজানোর ফুয়েল পাচ্ছে। আপনি ফাইট করে পারবেন না। এটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সমস্যা। আর বিবর্তনের ব্যপারও আছে। শ্বাশুড়ি পূত্রবধুকে দেখতে পারবে না। এভাবেই বিবর্তন হয়েছে। এই সমাজে ছেলেকে বিয়ে দিয়ে মা ছেলের বউকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে। শুরু হয় সংসারে অশান্তি। স্বামী বেচারা পড়ে যায় বিপদে। সে কাকে সাপোর্ট করবে!


অবশ্য সমাজে যে সব নারীই ভালো- সেটা সঠিক কথা নয়। সমাজে অনেকে দুষ্ট নারী আছে। এরা বিয়ের আগে খারাপ, বিয়ের পরও খারাপ। এদের থেকে দূরে থাকাই ভালো। যাইহোক, পুরুষদের এরকম করে ভাবা উচিৎ- একজন বাবা মা কন্যা সন্তান জন্ম দেয়। তাকে সীমাহীন ভালোবাসা দিয়ে বড় করে। লেখাপড়া শেখায়। বড় করে তোলে। সেই মেয়েকে আপনি বিয়ে করে অনাদর করলে- মেয়ের কষ্ট, মেয়ের বাবা মায়েরও কষ্ট। মানুষের জীবন অনেক ছোট। এই ছোট জীবনে কাউকে কষ্ট কেন দিবেন? চেষ্টা করে দেখুন না দুজন মিলে আনন্দ নিয়ে জীবনযাপন করা যায় কিনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০২২ দুপুর ১:২৭
১৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গরমে নিউইয়র্কের লোকজন ক্রেংককি হয়ে যায়।

লিখেছেন সোনাগাজী, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ৮:৩৯



ঐতিহাসিক ঘটনা, আমি তখনো চাকুরীতে ছিলাম; আগষ্ট মাসের সন্ধ্যায় ঘরে ফিরছি সাবওয়ে ট্রেনে; এই সময় সাবওয়ের ষ্টেশনগুলো দোযখের মত গরম, ডিজাইনে সমস্যা থাকার সম্ভাবনা; ব্লগার হাসান কালবৈশাখী... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। কবিতা-স্পর্ধিত মিলন

লিখেছেন শাহ আজিজ, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১১:১৭



কখনো সখনো নকল মলিন
হয় মনে এই জীবনবেলা
ধুসর বিকেলবেলা
শুধাই অস্ফুট স্বরে ‘হ্যাগা’
বাটপাড়ি অথবা জোচ্চুরি
কিছুইকি হয়নি শেখা লেকাজোকা
জীবন নামক অন্ধকুঠরিতে
গামছা দিয়ে চোখ দুটো বাঁধা
অথবা
তমসা ঘেরা চাঁদহীন নধর রাতে
প্রহরী ঘোরে নিঃশব্দে... ...বাকিটুকু পড়ুন

টেলস ফ্রম দ্য ক্যাফেঃ যে ক্যাফে আপনাকে নিয়ে যাবে অতীত ভ্রমনে

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:৩১

যদি আপনি জানতে পারেন যে আপনার শহরেই এমন এমন একটা ক্যাফে আছে যেখানে গিয়ে আমি অতীতে গিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন তাহলে আপনার মনভাব কেমন হবে? এমন যদি কিছু সম্ভব হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেয়েরা বেবি বাম্পের ছবি দিলে তোমাদের জ্বলবে কেন???

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৪৬



- ছবিতে - আরমিনা।

আমরা যখন কোন স্পেশাল মুহূর্ত সেলিব্রেট করি তখন ফেসবুক ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করি। এটা এখন একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কেউ প্রিয় মানুষের সাথে রেস্টুরেন্টে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুখ মুরালি

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৩:৫৬


ফুলটি দেখতে যে,ন সুন্দর তার নামটিওচমৎকার "সুখ মুরালি"।
২০১৮ সালের কথা, বৃক্ষকথা গ্রুপের বেশ কয়েকজন বৃক্ষপ্রেমির সাথে আমি গিয়েছিলাম মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে। হাঁটতে হাঁটতে দেখতে দেখতে একসময় গার্ডেনের পশ্চিম-উত্তর কোনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×