somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

এই সমাজ- ৫৫

২৬ শে মার্চ, ২০২৩ বিকাল ৪:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ আমার তোলা।

অহংকারী হওয়া মানে নিজের চারদিকে বেড়া দিয়ে মানুষকে পর করা, আর মানুষকে পর করা মানে- আনন্দকে পর করা। মানুষ-মানুষে মিলনেই আনন্দের জন্ম, বিরোধে নয়। বিরোধ আনন্দের শত্রু। তবু কিছু মানুষ বিরোধ সৃষ্টি করে। আনন্দ নষ্ট করে। কিন্তু এটা বোঝে না- জীবন কত ছোট! এই জন্য আমি সব সময় মানুষকে অনুরোধ করি- 'মানুষ হও। একজন ভালো মানুষ। মানবিক ও হৃদয়বান মানুষ। মানুষের মধ্যে কুৎসিত মানসিকতা দেখলে আমি মেনে নিতে পারি না। কারন মানুষ তো সৃষ্টির সেরা জীব।

আমাদের বাসায় দুজন অতিথি এসেছেন।
তাঁরা দুইজন আমাদের বাসায় একমাস থাকবেন। আসলে তারা আমাদের বাসায় নিজ থেকে আসেননি। আমরাই তাদের অনুরোধ করে নিয়ে এসেছি। দুজন বয়স্ক মানুষ। স্বামী স্ত্রী। তাঁরা বড় দুঃখী। তাদের এক ছেলে, এক মেয়ে। ছেলেমেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে বাবা মায়ের খোজ খবর রাখে না। মেয়ে মোবাইলে খোজ খবর নেয়। ছেলে তার বাবা মাকে বলে দিয়েছে, তোমরা গ্রামে চলে যাও। তোমাদের ঢাকায় থাকার দরকার নেই। আমার বাসা ছোট। তাছাড়া আমার বউ তোমাদের পছন্দ করে না। মেয়ে বলেছে, আমি থাকি শ্বশুর বাড়িতে। এখানে আমার দেবর ননদ আছে। এই বাসায় তোমাদের রাখা সম্ভব না। বৃদ্ধ বয়সে এই বাবা মা বিরাট বিপদে পড়েছেন। সবচেয়ে বড় বিপদ। একা একা থাকা। ছেলেমেয়ে থাকা স্বত্তেও বাবা মা আজ অসহায়।

এ বৃদ্ধ বাবা মা রমজান মাসটা আমাদের বাসায় থাকবেন।
ঈদ করে গ্রামে চলে যাবেন হয়তো। আমাদের বাসায় পাঁচ টা ছোট বাচ্চা আছে। তাঁরা দুজনই সারাদিন বাচ্চাদের নিয়ে ব্যস্ত আছেন। বাচ্চাদের সাথে খেলছেন, মজা করছেন, আনন্দ করছেন। আমার কন্যা নানু নানু বলছে। অথচ তাদের নিজের নাতনী আছে। তাঁরা দুইজন ছেলের বাসার নিচে দাড়িয়ে ছেলেকে অনুরোধ করছিলো নাতনীকে একটু দেখা। ছেলে তাদের বাসায় ঢুকতে দেয়নি। তাঁরা বাসায় ঢুকলে তার স্ত্রী বের হয়ে যাবে। ছেলে উপর থেকে বলেছে, ঘুমাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠলে মোবাইলে কথা বলিয়ে দিবো। প্রচন্ড দুঃখজনক ঘটনা। এই ঘটনা আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে। আমি চেয়েছিলাম ছেলেটার বাসায় গিয়ে তাকে দুটা থাপ্পড় দিয়ে আসি। যেসব ছেলেরা বউয়ের কথায় উঠেবসে এরা নির্বোধ। এদের আইন করে সকাল বিকাল থাপড়ানো দরকার।

দুজন বয়স্ক বাবা মায়ের কথা ভেবে দেখুন-
তাঁরা কত আদর ভালোবাসা দিয়ে ছেলেমেয়েদের বড় করেছেন। বিয়ে দিয়েছেন। এখন ছেলে বাবা মাকে বাসায় ঢুকতে দেয় না। বাসায় ঢুকলে তার বউ রাগ করবে। নাতনীকেও দেখতে দেয় না। বুড়োবুড়ি বাসার কাছে গিয়ে আকুতি মিনতি করে। তবু তাদের নাতনীকে দেখতে দেয় না। সত্য কথা বলি- আমার বউ যদি এরকম করতো- বউকে কান ধরে বাসা থেকে বের করে দিতাম। কিছুদিন আগে এই ছেলে তার মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান করেছে ধুমধাম করে। সেখানে সে বাবা মাকে বলেছে তোমাদের অনুষ্ঠানে আসার দরকার নেই। আমি তোমাদের জন্য খাবার পাঠিয়ে দেবো। আমার খুব ইচ্ছা করে ছেলেটাকে দুটা থাপ্পড় দেই। আর ওর স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করি- এই শিক্ষা কি তোমাকে তোমার বাবা মা দিয়েছেন? অসভ্য, জংলী জানোয়ার। যাইহোক, এই প্রসঙ্গে আর লিখতে ইচ্ছা করছে না। অন্য প্রসঙ্গে যাই।

আমি সামুর মডারেটর সাহেবের দৃষ্টি আকর্ষন করতে চাই।
তার আগে বলি- রমজানের শুভেচ্ছা জানবেন। আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন, বিগত কয়েক মাস ধরে সামু খুব সুন্দরভাবে চলেছে। কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। প্রতিটা ব্লগার শান্তিতে ব্লগিং করেছেন। কেউ কাউকে বিরক্ত করেনি। কটু কথা বলেনি। দারুন চলছিলো সামু। গত কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছি কতিপয় দুষ্ট ব্লগারের আমদানি হয়েছে। এই সমস্ত দুষ্ট ব্লগার 'একজন দুইজন' বিশেষ ব্লগারকে আক্রমণ করে মন্তব্য করছে। করেই যাচ্ছে। অথচ সামু টিম চুপ করে আছে। এই সমস্ত দুষ্ট ব্লগারগন ব্লগের পরিবেশ নষ্ট করছে। এর আগেও আমি অনুরোধ করেছি, তাদের থামান। কিন্তু তাদের থামান নাই। আমি আবারও অনুরোধ করছি তাদের থামান। ব্যবস্থা নিন। এই ধরনের ক্রিমিনাল যত বার আসবে, ততবার ব্যবস্থা নেবেন। কোনো ছাড় নয়।

আপনি যদি দুষ্টব্লগারদের নাম জানতে চান-
আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে পারি। কতিপয় ব্লগারগন ব্লগের পরিবেশ নষ্ট করে দিচ্ছে। দুই একজন পুরান ব্লগার আবার এদের লাই দিচ্ছে। আপনারা তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিন। আমি রেগে গেলে কিন্তু গালি দেবো। কুৎসিত গালি দিবো। আমি কাউকে কোনো দিন লাথথি দেইনি, এর মানে এই না যে আমি লাথথি দিতে জানি না। কিন্তু আমি কাউকে লাথথি দিতে চাই না, কাউকে গালিও দিতে চাই না। কিন্তু সহ্যের একটা সীমা আছে। বাঁধ ভেঙ্গে গেলে কি হয়? জানেন নিশ্চয়ই। সামুতে আসি লিখতে, পড়তে। আর কিছু না। ব্যস। দয়া করে শান্তিতে লিখতে দেন, পড়তে দেন। হ্যাঁ জানি একটা নিক বন্ধ করলে দুষ্টরা আবার নতুন নিকে আসে। আসলে মন্দলোক মক্কা মদীনায়ও আছে। এদের পতিহত করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০২৩ বিকাল ৪:৪১
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানবজমিন, পার্থিব, চক্র: শীর্ষেন্দুকে যেমন পড়লাম

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯



শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা শুরু করেন সাধারণত খুব অদ্ভুতভাবে।

যেমন তিনি চক্র উপন্যাস শুরু করেছেন একটি সাপের দৃষ্টিকোণ থেকে। হঠাৎ পড়ে বোঝা যায় না তিনি কার কথা বলছেন, কী বলছেন। সাপ চলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×