somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমার বন্ধু শফিক

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৪ রাত ১০:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১৭ বছর পর শফিক আমার বাসায় এসে উপস্থিত!
শফিক আমার বন্ধু। গত ১৭ বছর শফিকের সাথে একবারও যোগাযোগ বা দেখা সাক্ষাৎ হয়নি। শফিকের সাথে আমি একই স্কুলে লেখাপড়া করেছি। কোনো পুরোনো বন্ধুর সাথে আমার যোগাযোগ নেই। আমি ঘরকুনো স্বভাবের। কারো সাথেই নিজ থেকে যোগাযোগ বা সম্পর্ক রাখি না। আমি মনে করি, যারা আমাকে ভালোবাসবে তারা ঠিকই আমার সাথে যোগাযোগ রাখবে। বাসায় আসবে, ফোন করবে। আর এখন তো ফেসবুক আছেই। যাইহোক, আজ শফিককে দেখে ভীষণ অবাক হয়েছি! কিন্তু গাধা এত বছর কোথায় ছিলো? আর এতদিন গাধা কেন দেখা করতে এলো না! শফিক অনেক টাকা ইনকাম করে কিন্তু তার বুদ্ধির ঘাটতি আছে।

আজ সকাল সাতটায় আমার বাসা থেকে বের হওয়ার কথা।
সুরভি সকাল সাতটায় কন্যাকে নিয়ে স্কুলে গেছে। যাওয়ার আগে আমাকে ঘুম থেকে ডেকেছে। বলেছে, নাস্তা খেয়ে যেও। কন্যা একটা চুমু দিলো। আর বলল, বাবা আমি স্কুলে গেলাম। তুমি আসার সময় আমার জন্য আপেল নিয়ে এসো। আমার উচিৎ ছিলো, তখনই বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে যাওয়া। কিন্তু আমি আর দশ মিনিট ঘুমাবা বলে, বিছানা ছাড়লাম না। সেই ঘুম থেকে উঠলাম, সকাল সাড়ে দশ টায়। হায় কপাল! তাড়াহুড়া আমার ভালো লাগে না। দেরী হইছে হোক। আমি আস্তে ধীরে ব্রাশ করলাম, গোছল করলাম। এবং বরাবরের মতো নাস্তা না করে সিড়ি দিয়ে নামতে শুরু করলাম। নিচে নেমেই দেখি, শফিক! আমাদের শফিক।

শফিক ছাত্র হিসেবে ভালো ছিলো না।
কিন্তু এখন সে প্রতিমাসে চার লাখ টাকা ইনকাম করে। শফিক থাকে কুয়েত। আগে কোম্পানির বাস চালাতো। এখন সে নিজের কার্গো বাস চালায়। যাইহোক, শফিককে আমার মনে আছে কারণ, শফিক স্কুলে গজল গাইতো। শফিকের গজল আমরা কেউ পছন্দ করতাম না। কিন্তু আমাদের লতিফ স্যার শফিকের গজলের ভক্ত ছিলেন। স্যারের মাথা ব্যথা করলেই স্যার শফিককে ডেকে বলতেন, গজল গাও। শফিক স্যারের পাশে দাড়িয়ে দুই হাত নামাজের সময় যেভাবে পেটের কাছে রাখে, ঠিক সেভাবে রেখে, একের পর এক গজল গেয়ে যেতো। স্যার চোখ বন্ধ করে শফিকের গজল উপভোগ করতো।

শফিকের সাথে আমার শেষ দেখা হয়, তার বিয়েতে।
একদিন হঠাৎ শফিক আমার বাসায় এসে উপস্থিত। এসেই বলল, দোস্ত রেডি হয়ে নাও। আগামীকাল আমার বিয়ে। আজ সন্ধ্যায় গায়ে হলুদ। শফিকের সাথে গেলাম তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা। গৌরীপুর। রাতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হলো। পরের দিন বাসে করে গেলাম কনের বাড়ি। সেখানে গিয়ে বিরাট বিপদে পড়লাম। এক মেয়ে আমার জন্য পাগল হয়ে গেলো। মেয়েটা আমার জন্য যথেষ্ট মায়া দেখালো, ভালোবাসা দেখালো। এমনকি মেয়েটা একদিন আমার বাসায় চলে এলো। বাসার ঠিকানা কোথাও পেলো, কে জানে! মেয়েটা আমাকে বিয়ে করতে চায়। সে বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। তাদের অনেক জমি আছে। ইত্যাদি অনেক কথা।

গতকাল শফিকের কুয়েত যাওয়ার কথা।
সে এয়ারপোর্ট পৌছে দেখে তার প্লেন চলে গেছে। সে মন খারাপ করে সারারাত এয়ারপোর্টে বসে ছিলো। সেখান থেকে সকালবেলা সরাসরি আমার বাসায় চলে আসে। বাসায় কেউ নেই। আমি নিজেই দু কাপ চা বানালাম। শফিকের সাথে টানা এক ঘন্টা গল্প করলাম। শফিক বিদায় নিলো। আমি আমার কাজে গেলাম। একটু আগে শফিক প্লেনে উঠার আগে ফোন করলো। ভিডিও কল দিলো। রাস্তার জ্যামের জন্য এবার সে আর প্লেন মিস করতে চায় না। তাই সে তিন ঘন্টা আগেই এয়ারপোর্টে পৌছে গেছে। শফিকের পরিবার কঠিন ধার্মিক। তার দুই ছেলে, এক মেয়ে। বড় ছেলেকে শফিক মাদ্রাসায় দিয়েছে। শফিকের ছেলে মাদ্রাসায় থাকতে চায় না। কিন্তু শফিকের স্বপ্ন তার ছেলে হাফেজ হবে। তার নিজের কোরানে হাফেজ হওয়ার ইচ্ছে ছিলো। সে পারেনি। বাবা মা যা হতে পারেনি, সময় পেরিয়ে গেছে, তাই বাবা চায় তার ছেলে মেয়ে যেন পারে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৪ রাত ১০:০৭
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=যতই মোহ জমাই দেহ বাড়ী একদিন ঝরবোই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯



আমিও ঝরা পাতা হবো, হবো ঝরা ফুল,
রেখে যাবো কিছু শুদ্ধতা আর কিছু ভুল,
কেউ মনে রাখবে, ভুলবে কেউ,
আমি ঝরবো ধুলায়, বিলীন হবো,
ভাবলে বুকে ব্যথার ঢেউ।

সভ্যতার পর সভ্যতা এলো,
সব হলো এলোমেলো;
কে থাকতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম পরে, আগে আল্লাহ্‌কে মনে রাখো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭

প্রিয় শাইয়্যান,
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌কে তুমি যখন সবার আগে স্থান দিবে, তখন কি হবে জানো? আল্লাহ্‌ও তোমাকে সবার আগে স্থান দিবেন। আল্লাহ্‌ যদি তোমার সহায় হোন, তোমার আর চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×