somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল -৭২

০৬ ই নভেম্বর, ২০২৪ দুপুর ২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শাহেদ জামালের ডায়েরী থেকেঃ

আমি নিজেই একজন সুখী মানুষ।
আমার কোনো চিন্তা ভাবনা নেই। আপন মনে আছি। আনন্দে আছি। যা মন চায় তাই করছি। ঢাকা শহরের মধ্যে শুধুমাত্র রমনা পার্কে গেলে অনেক গাছ দেখা যায়। গাছপালা আমার ভালো লাগে। আজ সারা বিকাল রমনা পার্কে বসে কাটিয়ে দিলাম। গতকাল বিকেলটা কাটালাম কমলাপুর রেলস্টেশনে। চারপাশে কত কি দেখার! এর আগের দিন বিকেলটা কাটিয়ে দিলাম এয়ারপোর্টে। কত মানুষ যাচ্ছে, কত মানুষ আসছে। আমি সবাইকে মন দিয়ে দেখি। তাদের বুঝতে চেস্টা করি। এটা আমার এক ধরনের খেলা। ঝামেলা বিহীন খেলা।

আমি একা মানুষ। দুনিয়াতে আমার কেউ নেই।
স্ত্রী পুত্র কন্যা, ভাই বোন, বাবা মা কেউ নেই আমার। পুরান ঢাকার এক মেসে থাকি। চাকরি বাকরি নেই। সারাদিন টো টো করে ঘুরি। মা মারা গেলো চোখের সামনে। কিছুই করতে পারি নাই। বাবা মারা গেলো করোনায়। এরপর আমার ভাইয়েরা আমাকে বাসা থেকে বের করে দিলো। ভাইবোনদের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই আজ পাচ বছর ধরে। আত্মীয় স্বজনদের সাথেও যোগাযোগ নেই। রাস্তায় কারো সাথে দেখা হলে, না দেখার ভান করে। এখন আমি নিজেকে এতিম মনে করি। আত্মহত্যা তো আর করতে পারি না। দেখি, নিয়তি শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যায়! আর কত খেলা খেলে।

কলকাতাবাজার এলাকায় একটা ছোট হোটেল আছে।
সেই হোটেলের ম্যানেজার মঞ্জু ভাই। মঞ্জু ভাই আমাকে খুব স্নেহ করেন। তার কাছে গেলে তিনি আমাকে জোর করে খাইয়ে দেন। ফেরার সময় জোর করে পকেটে দুইশ টাকা গুজে দেন। আমার খুব লজ্জা করে। দুনিয়াতে আমার কোনো কিছু নিয়ে বিলাসিতা নেই। আমার কোনো চাহিদা নেই। শুধু মাত্র চা এবং সিগারেট ছাড়া। চা এবং সিগারেটের প্রতি আমার দুর্বলতা আছে। সারাদিনে কমপক্ষে আমাকে দশ কাপ চা আর বিশটা সিগারেট খেতে হয়। জানি সিগারেট খাওয়া ভালো নয়।

কলেজে পড়ার সময় ফাতিমা নামে এক মেয়েকে খুব ভালো লেগেছিলো।
মেরুর রঙের গাড়িতে করে ফাতিমা চলাচল করতো। আমি প্রতিদিন লুকিয়ে লুকিয়ে ফাতিমাকে দেখতাম। আমি মনে মনে চাইতাম ফাতিমা আমাকে একটা প্রেমপত্র লিখুক। আমি রাতে না ঘুমিয়ে ফাতিমাকে ভাবতাম। কি যে ভালো লাগতো! ফাতিমাকে নিয়ে কত যে স্বপ্ন দেখেছি! সেই ফাতিমা মালোশিয়া ফেরত রফিক ভাইকে বিয়ে করে ফেলল। কি কষ্ট! কি কষ্ট! স্বর্ন যত পুড়ে তত খাটি হয়। ঠিক তেমনি মানুষ যত কষ্ট পায় তত খাটি হয়। আমি দুখ কষ্ট অপমান অবহেলা পেতে পেতে একজন খাটি মানুষ হয়ে গেছি।

রাস্তায় হাটতে হাটতে যখন ক্লান্ত হয়ে যাই,
তখন কোনো মসজিদে ঢুকে যাই। ঢাকা শহরের মসজিদ গুলো সুন্দর। এসি আছে। নামাজের সময় এসি ছাড়ে। দুপুরবেলা আমি মসজিদে ঘুমাই। সুন্দর ঘুম হয়। দারুণ সব স্বপ্ন দেখি। মাঝে মাঝে কোনো উপলক্ষে ধনীরা মসজিদে খাবার দেয়। মিলাদ শেষ হওয়া মাত্র কেউ একজন হাতে একটা বাক্স ধরিয়ে দেয়। মিষ্টি ছানা সিংগাড়ার চেয়ে আমার পছন্দ তেহারি। গরুর মাংসের তেহারি। গরম গরম তেহারি খেতে দারুণ লাগে। আমার মা দারুণ তেহারী রান্না করতো। অনেক দিন হয়ে গেলো, তেহারী খাই না!

হ্যা আমি সুখী মানুষ।
আমার শরীরে কোনো রোগ নেই। গত দশ বছরে ডাক্তারের কাছে যেতে হয়নি। আমার কোনো চাহিদা নেই। আমার কোনো চিন্তা নেই। কেউ আমার কাছ থেকে টাকা পায় না। ব্যাংকে আমার কোনো লোন নেই। মুদি দোকানে বাকি নেই। আমার নামে থানায় কোনো মামলা নেই। আমার কোনো শত্রু নেই। মেসের সুমন ভাই তার ল্যাপটপ আমাকে ব্যবহার করতে দেয়। আমি কোরা ব্যবহার করি, মুভি দেখি। গান শুনি। বেশ কেটে যাচ্ছে দিন-রাত। আগামীকাল টংগী যাবো। সেখানে সপ্তাহে একদিন কবুতরের হাট বসে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৪ রাত ৮:৫৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×